Friday , December 6 2019
ব্রেকিং নিউজ :

Home / জাতীয় / রূপপুর প্রকল্পে বালিশকান্ডের, অতিরিক্ত ৩৬ কোটি টাকা ফেরত চায় কমিটি

রূপপুর প্রকল্পে বালিশকান্ডের, অতিরিক্ত ৩৬ কোটি টাকা ফেরত চায় কমিটি

খােলাবাজার ২৪,সোমবার ,১৫জুলাই,২০১৯ঃ  পাবনার রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য বিছানা, বালিশ ও আসবাবপত্র অস্বাভাবিক মূল্যে ক্রয়ের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি। অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে হাইকোর্টে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিসাবে মালামালের প্রকৃত মূল্য অপেক্ষা ৩৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা বেশি দেখানো হয়েছে। এই টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।

এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৌশলী মাসুদ আলমসহ প্রায় ৫০ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুপারিশ করা হয়েছে।

আজ সোমবার সংশ্লিষ্ট কোর্টের এ মামলার ডেপুর্টি অ্যার্টনি জেনারেল আমাতুল করীম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদনে অধিক মূল্যে আসবাবপত্র ক্রয়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।’

হিসাবে মালামালের প্রকৃত মূল্য অপেক্ষা ৩৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা বেশি দেখানো হয়েছে। এই টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।

প্রতিবেদনে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রকৌশলী মাসুদ আলমসহ প্রায় ৫০ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুপারিশ করা হয়েছে।

আগামী ২১ জুলাই বিচারপতি তারিক উল হাকিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

গত ২ জুলাই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ভবনে আসবাবপত্র বিশ্বস্ততার সঙ্গে (গুড ফেইথ) কেনা ও উত্তোলনের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে ওই ঘটনায় করা দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল এবং প্রতিবেদন অনুসারে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে দুই সপ্তাহের মধ্যে তা জানাতে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই অনুসারে মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত কমিটি এ প্রতিবেদন তৈরি করে।

জনস্বার্থে দায়ের করা রিটের শুনানিতে আজ মঙ্গলবার বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়্যেদুল হক সুমন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করিম।

পরে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়্যেদুল হক সাংবাদিকদের জানান, পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বালিশকাণ্ডে ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প এলাকায় কর্মকর্তা কর্মচারীদের থাকার জন্য গ্রিনসিটি আবাসন পল্লীর বিছানা, বালিশ, আসবাবপত্র অস্বাভাবিক মূল্যে কেনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

রুলে এগুলো কেনা ও উত্তোলনে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সততা ও সচ্ছতা বজায় না রাখা কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে এ ঘটনায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দাখিল করতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়্যেদুল হক সুমন বলেন, ‘সম্প্রতি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের গ্রিনসিটি আবাসন পল্লীর ভবনের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা এবং তা ভবনে তোলায় অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে গত ১৬ মে বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।’

রিটকারী আইনজীবী জানান, ওই সব প্রতিবেদন সংযুক্ত করে এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে এ আবেদনটি করা হয়েছে।

সুমন বলেন, ‘ওই প্রকল্পের জন্য গ্রিনসিটি আবাসন পল্লীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য যে ভবন সেখানকার ফার্নিচার থেকে শুরু করে অন্যান্য জিনিস অস্বাভাবিক দামে কেনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তা ভবনে তোলায়ও অস্বাভাবিক খরচ দেখানো হয়েছে। এটি তদন্ত করার জন্য একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়েছি।’

এর আগে ১৯ মে এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হকসুমন জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি করেন।

রিটে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয় সচিব, পাবনার গণপূর্ত অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

About kholabazar 7x24