Sun. Apr 18th, 2021

খােলাবাজার২৪, শনিবার, ০৭, নভেম্বর, ২০২০: ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম স্বপদে ফিরে যান। ১৯৭২ সালে ১০ জানুয়ারী পাকিস্তানী পার্সপোট ব্যবহার করে লন্ডন ও ভারত হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে আসেন শেখ মুজিবুর রহমান এবং একদিন পর ১২ জানুয়ারী ক্ষমতা গ্রহণ করেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর দুর্নীতি, লুটপাটের ফলে দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, সাথে যুক্ত হয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এরই মাঝে দেখা যায় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। কেননা, ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ গণপরিষদ (বর্তমান জাতীয় সংসদ)-এ এই সংবিধান গৃহীত হয় ও একই বছর ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীনের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংবিধান কার্যকর হয় এবং সংবিধান কার্যকরের ০২ (দুই) বছর ০১ মাস ১০ দিনের মধ্যেই শেখ মুজিবুর রহমান এর শাসনেই সংবিধান ৪ (চার) বার সংশোধনী এনে এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ নামক রাজনৈতিক দলকে বিলুপ্ত করে একদলীয় ‘বাকশাল’ শাসন কায়েম করেন শেখ মুজিবুর রহমান-ই এবং আওয়ামী লীগ নেতারা হয়ে যান বাকশাল এর নেতা। শেখ মুজিবুর রহমান এর শাসনামলেই সংবিধানের ৪র্থ সংশোধনী আনা হয় এবং ৪র্থ সংশোধনী ছিল-‘সংসদীয় শাসন পদ্ধতির পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন পদ্ধতি চালু এবং বহুদলীয় রাজনীতির পরিবর্তে একদলীয় রাজনীতি প্রবর্তন এবং বাকশাল গঠন’। এটি ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী সংসদে উত্থাপিত হয়; ঐ একই দিন পাস হয় এবং ঐ দিনই রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দেন। একদিক দুর্যোগ, দুর্নীতি, লুটপাট, ক্ষুধা-দারিদ্র্র্য তথা দুর্ভিক্ষ আর অপরদিকে সংবিধানের কাটা-ছেঁড়ায় একদলীয় বাকশাল শাসনের ফলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অস্থিরতা দেখা যায়। সেই সাথে এসব খবর যেনো প্রকাশ না পায় সেজন্য সরকার নিয়ন্ত্রিত চারটি পত্রিকা (দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক বাংলা,THE BANGLADESH OBSERVER, The Bangladesh Times) বাদে দেশের সব পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয় ঐ একই বছর ১৬ জুন। স্বাধীন দেশে যেনো স্বাধীনভাবে রাজনীতি করা বন্ধ, সংবাদপত্রে লেখা বন্ধ। ফলে অস্থিতিশীলতা ও অস্থিরতাই শুধু নয় যেনো মাৎসানালয়ের রূপ ধারন হয়েছিল। এমন অরাজকতার মাঝেই শেখ মুজিবুর রহমান পরিবার-(দুইমেয়ে ছাড়া) পরিজনসহ নিহত হন ঐ একই বছর ১৫ আগস্ট এবং ক্ষমতা নেন শেখ মুজিবুর রহমান’রই রাজনৈতিক ঘনিষ্ট সহচর খন্দকার মোশতাক; ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই খন্দকার মোশতাক ঐ বছরই ২৬ সেপ্টেম্বর ‘ইনডেমনিটি’ অধ্যাদেশ জারি করেন। ক্ষমতার জন্য মাথাচড়া দিয়ে উঠেন খালেদ মোশাররফ ও কর্নেল তাহেরও প্রভাব খাটাতে থাকেন এবং মহান স্বাধীনতার ঘোষক  জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে বন্দী করে কর্তৃত্ববাদ হয়ে উঠেন। সেনাসদস্যসহ দেশের সকল শেণী পেশার মানুষের মাঝে অসন্তোষ বেড়ে যেতে লাগলো। এমন অবস্থায় দেশজনতা ও সিপাহী সেনারা ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত হয়ে স্লোগানে স্লোগানে সঠিক নেতৃত্বের জন্য মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে মুক্ত করে আনলেন ১৯৭৫ সালের ০৭ নভেম্বর এবং ক্ষমতার সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করলেন। ৭ নভেম্বর হলো “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস”।

জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে স্বাধীন বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে বসবাসকারী সবারই এক পরিচয় প্রতিষ্ঠিত করলেন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’। ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র’ প্রবর্তন করলেন-যার ফলে শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক বিলুপ্ত আওয়ামী লীগ দল আবারো আওয়ামী লীগ নামে রাজনীতি করার প্রাণ ফিরে পেল। জিয়াউর রহমান আর্দশ ও নীতির ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’ প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। শাসিত, শোষিত, যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দুর্নীতি-লুটপাটের ফলে দুর্ভিক্ষ, তলাবিহীন ঝুড়ি’র এ দেশে জিয়াউর রহমান দেশের উন্নয়নের ভিত গড়লেন ‘১৯ দফা কর্মসূচি’ পেশ এবং বাস্তবায়ন শুরু করার মাধ্যমে। বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করার মাত্র কয়েক বছরের মাথায় জিয়াউর রহমান এর সফল কুটনীতির কারণেই ভোটের মাধ্যমে জাপানকে হারিয়ে ‘নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যপদ’ লাভ করে এবং তিন সদস্যবিশিষ্ট ‘আল-কুদস’ কমিটি’তে স্থান পায় বাংলাদেশ । জিয়াউর রহমান ইরাক-ইরান যুদ্ধে শান্তি স্থাপনে জাতিসংঘের মাধ্যমে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ থেকে সৈন্যও প্রেরণ করে বিশ্বে তাক লাগিয়ে দেন। জিয়াউর রহমানই দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নেতা যিনি এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সর্বপ্রথম ‘সার্ক’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং সার্ক প্রতিষ্ঠায় এ অঞ্চলের প্রতিটি দেশে যোগাযোগ আরো গাঢ় করেন এবং পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন স্থাপন করেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, কৃষি, শিল্প-কল-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, কারিগরি, বিজ্ঞান, তথ্য-প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, আর্ন্তজাতিক বিভিন্ন বিষয়ারলী অথার্ৎ স্বাধীন দেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র অপবাদ থেকে ‘ইর্মাজিং টাইগারে’ পরিণত করতে এমন কোন খাত নেই যে, অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে জিয়াউর রহমান কাজ করেন নি।

জিয়াউর রহমান এর রেখে যাওয়া সে বাংলাদেশকে স্বৈরশাসন ও স্বৈরাশাসকের বিরুদ্ধে আপোসহীন থেকে মুক্ত করেন তারই সহধর্মিনী গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে আসা বেগম খালেদা জিয়া-যিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তিনি জিয়াউর রহমান এর উন্নয়নে ধারা অব্যাহত রাখেন এবং নারীশিক্ষা, যুব উন্নয়ন, বিধবা ও বয়স্কভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, শিক্ষাক্ষেত্রে উপবৃত্তি, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ উন্নয়ন, মানুষের ভোটের অধিকার তথা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা, মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা ইত্যাদি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০০১ সালের ০১ অক্টোবর নির্বাচনের মাধ্যমে ভূমিধ্বস বিজয়ের ফলে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশকে উন্নয়নের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। আজকের যে পদ্মাসেতু, ঢাকা শহরের ফ্লাইওভার সবই তো বেগম খালেদা জিয়া সরকারের সময়ই গৃহীত প্রজেক্ট। বেগম খালেদা জিয়া ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেন। আর আওয়ামী লীগ নির্বাচন বানচাল করে অসাংবিধানিক ভাবে তাদের আন্দোলনের ফসল ‘ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন গং সরকার’ আনেন এবং পরবর্তীতে ক্ষমতায় অধীষ্ঠিত হয়ে সংবিধান কাটা-ছেঁড়া অর্থাৎ সংশোধন অবারো শুরু করেন তাদের সুবিধা মতো। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হয়ে পঞ্চদশ সংশোধীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করেন এবং ‘ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন গং সরকার’ নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৯০ দিনের অধিক ক্ষমতা থাকার বিষয়টি প্রমার্জ্জনা করেন।

ফলে মানুষের ভোটের অধিকারের জন্য বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি আন্দোলন করেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে তাদের নিজেদের মামলা তুলে নিলেও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের নামে লক্ষ লক্ষ গায়েবী মামলা দেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালের ০৫ জানুয়ারী প্রার্থীবিহীন, ভোটারবিহীন, পর্যবেক্ষকবিহীন জবর-দখল নির্বাচন করে প্রশাসনে ভর করে ক্ষমতায় থাকেন। বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্বাধীন বিএনপি জনসম্পৃক্ততায় আন্দোলন আরো জোরদার করেন। আওয়ামী লীগ সরকার তখন মিথ্যা মামলায় রায় দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে পরিত্যাক্ত, জরাজীর্ণ ভবনে কারাবন্দী করে রেখে অসুস্থতার দিকে ঠেলে দিয়ে মুত্যুর মুখোমুখি করেন এবং জনদৃষ্টি ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য নতুন নতুন কাহিনী বের করেন। সাংবাদিকরা যেনো লেখতে না পারেন এ জন্য আইসিটি আইন করেন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবারও ভোটারবিহীন নির্বাচন করে; বিরোধী দলের মতে- মধ্য রাতের ভোট ডাকাতি করে প্রশাসনে ভর করে ক্ষমতায় আকড়ে আছেন আওয়ামী লীগ। এমনি আবস্থায় জনগণ ভাবছে গণতন্ত্র আজ লোহার শিকলে বাধা দুঃশাসনের সিন্ধুকে আটকা। কেননা, জনগণ ভাবনায় এখন গ্রোথিত হয়েছে-দেশে হক কথা বলা যায় না, সাংবাদিকরা সঠিক সংবাদ পরিবেশন করতে পারেন না, ভোটার তাদের ভোট দিতে পারেন না, ক্ষমতাসীনরা জবাবদিহিতার উর্ধ্বে। সুশাসন, সুআইন, সুবিচার আজ জনগণের কাছে দারুণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ ? কেননা দেশে নারী ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন, ক্ষমতার দাপট আর জোর-জুলুম এতই বেড়ে গেছে যে নি¤œলিখিত পরিসংখ্যানই প্রমাণ।

জাতীয় দৈনিকগুলোতে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আশক) এর ২০১৯ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন তথ্য বলছে, ২০১৯ সালে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার ১৪১৩ জন নারী ও শিশু। যার পরিসখ্যান ছিল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন ২০১৮ সালে ৭৩২ জন। এছাড়াও ২০১৯ সালে যৌন হয়রানীর শিকার হন ২১৮ জন নারী যা ২০১৮ সালে ছিল ১৭০ জন। আর চলতি ২০২০ সালের ০১লা জানুয়ারী থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আসক এর প্রতিবেদন তথ্য মতে এই নয় মাসে ধর্ষিত হয়েছেন ৯৭৫ জন, ধর্ষণের পর হত্যার শিকার ৪৩ জন, আত্মহত্যা করেছেন ১২ জন, যৌন হয়রানীর শিকার ১৬১ জন আর প্রতিবাদ করতে গিয়ে ৩ জন নারী ও ৯ জন পুরুষ নিহত হন। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আশক) এর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংখ্যাগত আরো প্রতিবেদন হলঃ চলতি ২০২০ সালের ০১লা জানুয়ারী থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত নয় মাসে- আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ও ক্রসফায়ারে মোট ১২৬ জন মারা গেছেন। কারা হেফাজতে মারা গেছেন ৫৮ জন। পারিবারিক নির্যাতনে হত্যার শিকার ২৭৯ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ৭৪ জন। যৌতুককে কেন্দ্র করে শারীরিক নির্যাতনের শিকার ৭৩ জন-নির্যাতনে হত্যা করা হয়েছে ৬৬ জনকে, নির্যাতনে আত্মহত্যা করেছেন ১৭ জন এবং স্বামীর ঘর থেকে বিতাড়িত হয়েছেন ১২ জন। গৃহকর্মী নির্যাতন হয়েছেন ৩২ জন, ১১ জন গৃহকর্মী হত্যার শিকার, ২ জন নির্যাতনে আত্মহত্য আর ৪ জন ধর্ষণের শিকার। এসিড নিক্ষেপে ১১ জন নারী দগ্ধ। ১০৭৮ জন শিশু নানাভাবে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং শিশু হত্যার শিকার ৪৪৫ জন, শিশু ধর্ষণের শিকার ৬২৭ জন, শিশু বলৎকারের শিকার ২০ জন। এ সময় সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফ এর গুলিতে নিহত হয়েছেন ৩২ জন, শারীরিক নির্যাতনে নিহত ৬ জন, আহত ১৮ জন, অপহরণ ২০ জন। এ নয় মাসে গণপিটুনিতে মারা গেছেন ৯ জন। পেশাগত কাজ করতে গিয়ে ২০৯ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও হয়রানীর শিকার হয়েছেন এবং গত ০৩ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামে বিজয় টিভির প্রতিনিধিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এই হচ্ছে বর্তমানে দেশে মানবাধিকারের অবস্থা যা নিয়ে জনমন গভীরভাবে আতংকিত, শঙ্কিত এবং এসব থেকে মুক্তির উপায় নিয়ে জনগণের মনে মনে চিন্তা-ভাবনা গ্রোথিত। এছাড়াও পার্শ^বর্তী দেশের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন-যা ঘরে ঘরে টি ভি চালু করলেই অনুধাবন। নিত্য বাজার দ্রব্যের দাম ক্রমাগত উর্ধ্বগমন। করোনার ফলে অনেকের বেতন অবনমন, অনেকেই কর্মহীন বা অনেকেরই আয় নিমজ্জন। ফলে অভাব যেনো ঘরে ঘরে আগমন। সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের আধিপত্যতা, যাপিত জীবনের অনিরাপত্তা, সার্বিক অর্থে ব্যক্তি বা পারিবারিক বা সামাজিক অর্থনৈতিক দুর্বলতা, রাজনৈতিক একক কর্তৃত্ববাদের নিপীড়ন আর প্রশাসনিক চাপের ফলে অস্থিরতা- যা জনগণকে দেশ স্বাধীনের পরপররই আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক পরিবেশেরই অবস্থা মনে জাগায় এবং সেই সংকটকালীন সময়ে সিপাহী জনতার ঐক্যবদ্ধ মিলনের ফলে সব সংকট মোকাবেলা করে সঠিক ব্যক্তিকে ক্ষমতায় বসানোর স্মৃতিও মনে জাগায়। সেই সঠিক ব্যক্তিও (রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান) সে সময় দেশ, জাতি, মা-মাটির জন্য সাধ্যের সর্বাত্মক চেষ্টা করে উন্নতির ভিত গড়ায়।

……………………….আজ দেশের এই অবস্থায় জনভাবনায় গ্রোথিত যে, সংকটকালীন সময়ে দেশ-বিদেশের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে ’৭১ এর ২৬ মার্চ, ’৭৫ এর ৭ নভেম্বর যে বীর দেশ ও জাতিকে রক্ষা করে সঠিক পরিচয় দিয়ে এবং সঠিক নির্দেশনায় স্বনির্ভর আর উন্নতির দরজা দেখিয়ে; দেশ-জাতিকে নিয়ে গেছেন এগিয়ে। তারই যোগ্যতম উত্তরসুরি-ই পারবে দেশের এই আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক সংকটকে বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল দিয়ে মোকাবেলা করে একক কর্তৃত্ববাদের ফ্যাসিবাদ থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করতে এবং নিয়ন্ত্রিত চাপ উপেক্ষা করে সময়ান্তে সেই যোগ্য উত্তরসুরির পতাকার তলে জনগণ একাত্মতা হয়ে দুঃশাসনের বেড়াজাল ছিন্ন-বিছিন্ন করে দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে উন্মুখ। শুধু তাই নয় জনমনে এমন ধারণাও গ্রোথিত যে, ১৯৭৫ এর ৭ নভেম্বরের পর যোগ্যতম নেতৃত্ব যেমন শাসিত, শোষিত, যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দুর্নীতি-লুটপাটের ফলে দুর্ভিক্ষ, তলাবিহীন ঝুড়ি’র এ দেশকে গণতান্ত্রিক, স্বনির্ভর, আধুনিক ও উন্নয়নের শক্ত ভিতে দাড় করে দিয়েছিলেন; তেমনি সেই যোগ্যতম নেতৃত্বের যোগ্যতম উত্তরসুরিই পারবে দুঃশাসনের রাহুগ্রাস থেকে দেশ-জাতিকে মুক্ত করতে, মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে, জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, বাক-স্বাধীনতার মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে, দেশকে টেকশই উন্নয়নের ভিত্তিতে দাড় করাতে। অর্থাৎ সারকথা হচ্ছে “৭ নভেম্বরের প্রেরণায়-জাগ্রত হোক জনতা, সঠিক দিক-নির্দেশনায় জাতীয়তাবাদী নেতা। দুঃশাসন ছিন্ন করে হোক ভোট আর মানবাধিকারের নিশ্চয়তা, মানুষ পাক সুশাসন-সুআইন-সুবিচার আর জান মালের নিরাপত্তা।”

লেখকঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট।