রবি. মে ১৯, ২০২৪
Logo Signature
Agrani Bank
Rupali Bank
Advertisements

  ছাত্রলীগ নেতা টিপু সুলতান কেন ঢাকাতে এসে রিকশা চালাবে? এ দায় কার? ড. আবদুল ওয়াদুদ

মেইল বক্সঃ টিপু সুলতানকে নিয়ে বাংলাভিশনের প্রতিবেদনটি আমাকে মর্মাহত করেছে। টিপুর চিকিৎসার সুব্যবস্থা করার দায়িত্ব ছিল নাটোর জেলা নেতা-কর্মীদের। তাদের সাহায্য, সহযোগিতা ও অবহেলার কারণে  টিপু ঢাকাতে এসে রিকশা চালাতে বাধ্য হচ্ছে। ঢাকা পর্যন্ত কেন তাকে আসতে হবে? স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নেতৃবৃন্দের কোন দায়িত্ব কি ছিল না! কর্মীরা কেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে  দলীয় কর্মসূচি সফল করবে?  টিপুর বিষয়টা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সকল মানুষের জন্য  একটা লজ্জাস্করও গ্লানির। এখন সময় এসেছে সুবিধাবাদী হাইব্রিড নেতাদের থাবা থেকে বাংলাদেশ  আওয়ামী লীগকে মুক্ত করার যারা দুঃসময়ে কর্মীদের পাশে থাকে না।  আমি টিপু সুলতানের চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার বহন করার দায়িত্ব নিয়েছি।

জনগণের মন-মানসিকতা, চাহিদা, প্রয়োজন, সর্বোপরি জনগণের প্রত্যাশাকে বুঝে এবং  বিবেচনায় নিয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্ব কর্মসূচি প্রণয়ন করবেন এবং জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানব সেবা এবং  সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখবেন- সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে এমনটাই প্রত্যাশা করে। অথচ, বঙ্গবন্ধুর আজকের বাংলাদেশে রাজনৈতিক নেতাদের কথাবার্তা, চালচলন, ভাবভঙ্গি ও বিলাসিতা দেখলে সবার মনে প্রশ্ন জাগে- বঙ্গবন্ধু কি এমন নেতৃত্ব, এমন বাংলাদেশ চেয়েছিলেন? বঙ্গবন্ধু  সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকে, তাদেরকে নিয়ে, তাদের জন্য রাজনীতি করেছেন; সুখে দুখে তাদের পাশে থেকেছেন, নিজের সাধ্যমত সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট, দুর্দশা, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক পশ্চাদপদতা বঙ্গবন্ধু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন। সামাজিক পশ্চাদপদতা ও অসংগতি তাঁকে ভাবিয়ে তুলতো। তাই, গণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের বিষয়টিকে তিনি রাজনীতির মূল লক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করছিলেন। বঙ্গবন্ধু  চেয়েছিলেন সাধারণ মানুষের দুদাশা ঘুঁচিয়ে সুখী সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলা গড়ে তুলতে। কর্মীবান্ধব বঙ্গবন্ধু নেতাকর্মীদের যেকোনো প্রয়োজনে নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দিতেন।

 

ছাত্রলীগ নেতা টিপুর ঘটনা একক কোনো ঘটনা নয়।  টিপুর মতো এরকম শত শত টিপু আছে, যাদের দুঃসময়ে বর্তমান কালের নেতারা পাশে থাকে না।মিডিয়ার কারণে হয়তো টিপুর বিষয়টি সামনে এসেছে। এই ঘটনা থেকে আমাদের নেতাদের অনেক কিছু শেখার আছে। যারা আদর্শিক রাজনীতি করে তাদের আরো কর্মীবান্ধব হওয়া বাঞ্ছনীয়।  নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত নেতাদের সময় থাকেনা- বিপদগ্রস্থ কর্মীদের খবর নেবার। কর্মীরা নেতাদের কর্মচারী নয়, কর্মীরাই নেতা তৈরি করে। যে সব নেতারা  নির্যাতিত- নিপীড়িত কর্মীদের পাশে থাকতে পারে না তাদের রাজনীতিকে অপরাজনীতি বলাই শ্রেয়। নিজ দলের কর্মীদের দুর্দিনে যে সব নেতারা খোঁজ খবর নেয় না, পাশে থাকেনা, উপকারে আসে না   তারা কিভাবে জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের দায়িত্ব পালন করবে! মুজিব আদর্শের লেবাসধারী এসব রাজনীতিবিদের বিষয়ে দলের সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে। টিপুর ঘটনা স্থানীয় রাজনীতির সমন্বয়হীনতা ও কর্মীদের সাথে নেতাদের যোগাযোগহীনতা ও দূরত্বের প্রতি ইঙ্গিত বহন করে। আওয়ামী লীগের হাই কমান্ডের  এসব ঘটনায় দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার  সময় এসেছে।

ড. আবদুল ওয়াদুদ
প্রেসিডিয়াম সদস্য, বঙ্গবন্ধু পরিষদ