Sun. Apr 6th, 2025
Logo Signature
Agrani Bank
Rupali Bank
Advertisements

 

খােলাবাজার২৪,বুধবার,১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ঃ ভালোবাসায়-ভালোলাগায় প্রিয়জনের সান্নিধ্যে বেশ কেটে যাচ্ছে সময়। নতুন নতুন প্রেমে পড়লে ‘গাল লাল হয়ে যায়, হৃদস্পন্দনের গতি বেড়ে যায়, হাতের তালু ঘেমে যায়’-এসব লক্ষণের কথা বলতে অবশ্য কারও বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার হয় না।

আসছে ভ্যালেন্টাইন ডে। ভালোবাসা দিবস নিয়ে মেতে রয়েছি আমরা, কিন্তু জানেন কি? ভালোবাসা শুধু দু’টি মনের বন্ধনই নয়। এর ফলে দু’টি মনেরই পরিবর্তন ঘটে। আর এই পরিবর্তনের আছে যৌক্তিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।

যখন কাউকে ভালোলাগে তখন মস্তিষ্কে রাসায়নিক পদার্থের নিঃসরণ হয়। ফলে ব্যক্তির মনে সৃষ্টি হয় সুখানুভূতির।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, একজন ব্যক্তি অন্য কারো প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক মোট মাত্র কয়েক মিনিট সময় নেয়। গবেষকরা এটাও দেখেছেন, মানুষের মস্তিষ্ক প্রেমে পড়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তির কিছু বিষয় বিবেচনা করে। তার মধ্যে ৫৫ শতাংশ হলো তার অঙ্গভঙ্গি বা বাহ্যিক রূপ, ৩৮ শতাংশ কণ্ঠস্বর ও কথা বলার ভঙ্গি এবং মাত্র ৭ শতাংশ তাদের মূল বক্তব্য শোনে।

প্রেমের তিনটি স্তর
যুক্তরাষ্ট্রের রটার্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হেলেন ফিসার জানান, প্রেমের তিনটি স্তর রয়েছে। এই তিনটি স্তরের প্রতিটি স্তরই ভিন্ন ভিন্ন হরমোন ও রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা পরিচালিত হয়। স্তরগুলো হলো- ভালোবাসার ইচ্ছে, আকর্ষণ ও সংযুক্তি।
ভালোবাসার ইচ্ছে 
এটি প্রেমের প্রথম স্তর। যখন কাউকে ভালোলাগে তখন তাকে ভালোবাসার ইচ্ছে থেকে ছেলেদের ক্ষেত্রে টেসট্রোন ও মেয়েদের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেন হরমোন নিঃসৃত হয়।

আকর্ষণ
কাউকে দীর্ঘদিন ধরে ভালোলাগার ফলে তার প্রতি এক ধরনের আকর্ষণবোধ সৃষ্টি হয়। বিজ্ঞানীদের মতে এই স্তরের সঙ্গে তিনটি নিউরোট্রান্সমিটার জড়িত। অ্যাড্রিনালিন, ডোপামিন ও সেরোটোনিন। নিউরোট্রান্সমিটার হলো এক ধরনের এন্ডোজেন রাসায়নিক যা এক স্নায়ুকোষ থেকে অপর স্নায়ুকোষে সংকেত দেয়।

ভালোবাসা তো অন্ধই হয়
এলেন বারসাইড দীর্ঘদিন ধরেই ভালোবাসা নিয়ে গবেষণা করছেন। তার মতে প্রত্যেকেই প্রেমের ক্ষেত্রে আদর্শ মেনে চলে। তিনি জানান, নতুন যুগলরা স্বাভাবিকভাবে তাদের সম্পর্ককে অন্য যেকোনো সম্পর্কের তুলনায় আলাদা ও গুরুত্বপূর্ণ ভাবে। এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাদের ভালোবাসাকে পরিণতি দিতে সাহায্য করে।

সংযুক্তি
এটি ভালোবাসার শেষ স্তর। দীর্ঘকাল একসঙ্গে থাকার পর দু’জনই দুজনের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। এ সময়টাতেই মূলত তারা ঘর বাঁধে। বিজ্ঞানীদের মতে এই অনুভূতি দু’টি হরমোনের কারণে হয়। অক্সিটোসিন ও ভ্যাসোপ্রেসিন।