Thu. Apr 3rd, 2025
Logo Signature
Agrani Bank
Rupali Bank
Advertisements

ঢাকা: ঈদ এলেই অন্য তৃতীয়লিঙ্গ হেলেনাও বাসাবাড়িতে গিয়ে চাঁদা তোলেন। তাদের পরিষ্কার কথা: কর্মসংস্থান নেই বলেই চাঁদা তুলি।
তবে তারা এটাকে চাঁদা বলতে নারাজ। এটাকে বকশিস বলেন। এবারও হেলেনা এসেছে বকশিস নিতে। তার দাবি ‘কেউ কাজ দেয় না বলেই মানুষের কাছে হাত পাতি।’ পরক্ষণেই তার পাল্টা প্রশ্ন ‘আপনি কি আপনার বাসার জন্য আমাকে কাজে রাখবেন?’moina2-7
হেলেনার সাথে একমত পোষণ করেন ‘সম্পর্কে নয়া সেতু’ নামের একটি সংগঠনের নেতা জয়া শিকদার। তিনি বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর ঘোষিত হিজড়া বা তৃতীয়লিঙ্গদের পুনর্বাসন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে। চাকরির ক্ষেত্রে মেডিক্যালের নামে শুধু যৌনাঙ্গ পরীক্ষা করেই হিজড়া শনাক্ত করা উচিত নয়। মনে হচ্ছে হিজড়াদের সংজ্ঞা সরকার জানেই না। অথচ দেখেই হিজড়া চেনা যায়।
চাঁদা প্রসঙ্গে জয়া শিকদার বলেন, ‘এটা চাঁদা নয়, ওদের বাঁচার অবলম্বন।’
হেলেনা বলেন, একজন হিজড়া স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা করতে পারে না। সে পরিবার ছেড়েছে। সমাজে তার ঠাঁই নেই। সে ক্ষুধার্ত হয়, তাই বাধ্য হয়েই এটা করতে হচ্ছে। এগুলোকে চাঁদাবাজি বলা যায় না এবং বলাও ঠিক হবে না।
সোনিয়া নামের আরেক তৃতীয়লিঙ্গ বলেন, লোকজন আমাদের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকে, হাসে, কেউতো বলে না কাজ করবা। তিনি বলেন, নিজেকে খুব ছোট মনে হয়।
তবে বাস্তবতা হচ্ছে, ঈদুল ফিতরের বাজারে রাজধানীতে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করছে হিজরারা। শহরের বড় বড় বিপনি, সুপার মার্কেট, দোকান, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বাসাবাড়িগুলোতে দিনেদুপুরে প্রশাসনের চোখের সামনে ওদের চাঁদাবাজি করতেদেখা যায়। তাদের হয়রানির শিকার হচ্ছেন ঈদের কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ মানুষও।
এদিকে ঈদুল ফিতর ছাড়াও পান্থপথ ও আগারগাঁও এলাকায় সকাল বিকাল দুই বেলা হিজড়াদের চাঁদা তুলতে দেখা যায়।
গাউছিয়াতে ঈদের বাজার করতে আসা ক্রেতা হাসিনা বেগম ও আছিব রহমান বলেন, হিজরারা আমাদের কাছ থেকে ১০০ টাকা চাঁদা নিয়েছে।
এ ব্যাপারে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন এডিসি জানান, হিজরাদের দমন করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।