Thu. Apr 3rd, 2025
Logo Signature
Agrani Bank
Rupali Bank
Advertisements

নিউজ ডেস্ক : ঈদের আগাম টিকিট বিক্রিতে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিটি টিকিটে ৫০-১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। সক্রিয় দালালরাও।eid-ticket-bd-nutboltu
লাইনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে টিকিট পাননি, কিন্তু দালালদের কাছে বেশি দামে পাওয়া যাচ্ছে। তবে টিকিট বিক্রেতারা জানান, অন্যান্য সময়ে যাত্রী কম থাকায় ভাড়া কম নেয়া হতো। এখন সরকার নির্ধারিত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। তাই যাত্রীদের কাছে ভাড়া বেশি বলে মনে হচ্ছে। এছাড়া ঈদে যাওয়ার সময় যাত্রী থাকলেও আসার সময় খালি আসতে হয়। তাই ভাড়া কিছুটা বেশি পড়ছে।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দূরপাল্লার বাসের আগাম টিকিট শুক্রবার থেকে বিক্রি শুরু হয়েছে। রাজধানীর গাবতলী, শ্যামলী, কল্যাণপুর, কলাবাগান ও সায়েদাবাদের অধিকাংশ বাস কাউন্টার থেকে যাত্রীরা বলেন, গাবতলী ও শ্যামলীতে কালোবাজারে বেশি দামে বিভিন্ন গন্তব্যের টিকিট বিক্রি করতে হচ্ছে।
রংপুর-ভূরুঙ্গামারী রুটের বাসের কাউন্টারের সামনে থাকা আবদুস সালামের কাছে ছিল অনেক টিকিট। পরিচয় গোপন রেখে দাম জানতে চাইলে টিকিট প্রতি ১০০ টাকা বাড়তি চান।
ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে চলাচল করা এস আলম পরিবহনের ফকিরেরপুল কাউন্টার থেকে জানানো হয়, স্বাভাবিক সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ৩৫-৪০টি বাস চলে। ঈদের সময় ১০ থেকে ১২টি অতিরিক্ত বাস নামানো হয়, কিন্তু এবার অতিরিক্ত বাস নামানো হবে কি-না সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের সব রুটের পর্যাপ্ত টিকিট রয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ। তিনি বলেন, একযোগে উত্তরবঙ্গের সব কোম্পানি ঈদের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে। এছাড়া মিডিয়ার কারণে আগাম টিকিট বিক্রির খবরটাও সাধারণ মানুষের কাছে আগেই পৌঁছে গেছে।
অন্যদিকে টিকিট কিনতে এসে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নারীরা। কোনো কাউন্টারে নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা না থাকায় পুরুষদের সঙ্গে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কিনতে হয়েছে তাদের। কাঙ্খিত টিকিট পেলেও বাড়তি ভাড়া নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
কলাবাগানের সোহাগ কাউন্টারের সামনে বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সকাল ৬টায় টিকিট পাওয়া যাবে ভেবে সেহরি খেয়েই টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু সকাল ৮টার দিকে টিকিট বিক্রি শুরু করেছে কাউন্টার থেকে। দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট পেলেও বেশি ভাড়া নেয়া হয়েছে। নন-এসি বাসে বরিশালের ভাড়া নিয়মিত সময়ে ৪৫০ টাকা অথচ এখন নেয়া হয়েছে ৬০০ টাকা।’ তবে কাউন্টারের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, ঈদের সময় ঢাকায় ফেরা বাস ফাঁকা আসে বলেই অন্য সময়ের তুলনায় ভাড়া কিছুটা বেশি রাখা হয়। তবে এ ভাড়া বিআরটিএ থেকে নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।
কালোবাজারি বন্ধে একযোগে সব স্থানে বাসের টিকিট বিক্রি শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক তালুকদার। তিনি বলেন, ‘অগ্রিম টিকিট কিনতে আসা যাত্রীদের ভোগান্তি ও বিশৃঙ্খলা কমাতে এবার প্রতিটি বাসের টিকিট একইদিনে বিক্রি হচ্ছে।’ যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নেয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ অভিযোগ সত্য নয়। কেননা সাধারণ সময় সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়ায় পরিবহন কোম্পানিগুলো যাত্রী পরিবহন করে থাকে। ঈদের সময় নির্ধারিত ভাড়া নেয়া হলে তারা বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ করেন।’