নয়াদিল্লি থেকে: হেমা মালিনির গাড়ির ধাক্কায় একই পরিবারের সবাই মারাত্মক জখম ছাড়াও আড়াই বছরের মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে। ভারতীয় পত্র-পত্রিকাসহ দেশবিদেশের অনলাইন ও গণমাধ্যমগুলোতে শুধু রক্তাক্ত হেমার ছবিই প্রকাশ হয়েছে। এই ঘটনায় যে মারা গেল একটি শিশু– তার কোনো খবরই কোথাও নেই।
নিদেনপক্ষে একটি ছবিও কেউ প্রকাশ করেনি। হয়তো মরদেহের ছবি বলে তা এড়িয়ে গেছে অনেকেই। কিন্তু, বাস্তবতা হচ্ছে, সবাই সেলিব্রেটিকে নিয়েই ব্যস্ত! শুক্রবার থেকে সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোতে ভারতীয়রা এই বিষয়টিকে নিয়ে সমালোচনায় মুখর হয়ে পড়েছেন।
এদিকে পুলিশ সূত্রে খবর, অনিচ্ছাকৃত মৃত্যু এবং জোরে গাড়ি চালানোর অভিযোগে শুক্রবার গ্রেফতার করা হয় হেমার গাড়ির চালক রমেশ চন্দ্র ঠাকুরকে। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৭৯ এবং ৩০৪ (এ)-র ধারায় মামলা হয়েছে। জয়পুরের কোতোয়ালি থানার পুলিশ গ্রেফতার করে চালককে।
এদিকে দুর্ঘটনায় আহত অপর পরিবারের মানুষরা ভাল চিকিত্সাই পাচ্ছেন না বলে দাবি করেছেন সেই পরিবারের এক সদস্য। । তাঁদের বক্তব্য যেখানে হেমা মালিনী পাচ্ছেন তারকাসুলভ চিকিত্সা, সেখানে তাঁরা পেয়েছেন হাসপাতালের তরফে সত্ মায়ের মতো আচারণ। এমনকি সেই পরিবারের দাবি, তাঁদের পরিবারের যে দুবছরের শিশুর এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে, তাকে যদি সঠিক সময় হাসপাতালে নিয়ে আসা হত, তাহলে হয়তো সে বেঁচে যেত। অল্টোতে যে পরিবারটি ছিল তাঁদের জয়পুরের সওয়াই মান সিংহ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অল্টোতে ছিলেন দুটি শিশু, ৩১ বছর বয়সি হনুমান খান্ডেলওয়াল, তাঁর স্ত্রী শিখা এবং হনুমানের দিদি সীমা। দুর্ঘটনায় তাঁদের শিশু সন্তান দুবছরের সোনামের মৃত্যু হয়। গাড়িতে থাকা অপর শিশুর দু’ পায়ের হাড় ভেঙেছে । হনুমান খান্ডেলওয়াল এই দুর্ঘটনায় যেভাবে আহত হয়েছেন, তাতে তাঁর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আরও ছ থেকে সাত মাস লাগবে, জানানো হয়েছে হাসপাতাল সূত্রে। দুর্ঘটনাগ্রস্থ অল্টোর পরিবারের সদস্যদের দাবি, ওই পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ব্যক্তিই ছিলেন হনুমান। তাঁর এভাবে আক্রান্ত হওয়ায় পরিবারের মারাত্মক ক্ষতি হল। তাঁরা সরকারের থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
অল্টো গাড়ির আরোহীদের চিকিত্সার খরচ বিনামূল্যে করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে।
দুর্ঘটনায় আহত বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রীর অবস্থা এখন স্থিতিশীল। শুক্রবার সকালে অস্ত্রোপচারের পর অভিনেত্রী ভাল আছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার সকালেই মুম্বাই থেকে জয়পুর উড়ে যান দুই মেয়ে এষা এবং অহনা।
দুর্ঘটনায় ৬৬ বছরের হেমার নাকের হাড়ে চোট লাগে। কপালও ফেটে যায় অভিনেত্রীর। চোট লাগে তাঁর পা ও পিঠে। তাঁর নাক এবং ভুরুর মাঝে প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিত্সকেরা। আনুমানিক ৬ সপ্তাহ লাগবে চোট সারতে।
বৃহস্পতিবার ২ জুলাই রাতে মথুরা থেকে জয়পুর যাওয়ার পথে আগ্রা-জয়পুর জাতীয় সড়কে রাজস্থানের দৌসায় দুর্ঘটনা ঘটে। হেমা মালিনীকে বাহী মার্সিডিজটির সঙ্গে মুখোমুখি ধাক্কা লাগে বিপরীত দিক থেক আসা মারুতি অল্টো গাডির। গাড়িতে হেমা ছাড়াও ছিলেন তার পিএ ও চালক। অল্টো গাড়িতে ছিলেন পাঁচ জন। ছিলেন এক দম্পতি এবং তাদের ছয় বছরের ছেলে ও দুই বছরের মেয়ে। দুর্ঘটনায় অল্টো গাড়িটির সওয়ারি দুই বছরে মেয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়। রাতেই অভিনেত্রীর চালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়।
দুর্ঘটনার পর হেমাকে স্থানীয় ফরটিস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিনেত্রী হেমা কপালে চোখের উপরের অংশে, শরীরের পেছন দিকে এবং পায়ে আঘাত পান।
উত্তর প্রদেশের মথুরা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হেমা নির্বাচনী কাজে যাচ্ছিলেন। পুলিশ বলছে, হেমার গাড়ি দুর্ঘটনার আগে গতি বাড়াচ্ছিল, অপর গাড়ির চালকও হয়তো সংঘাতের আগে অমনোযোগী হয়ে পড়েছিলেন।
অস্ত্রোপচারের সময় হেমার পাশে পরিবারের লোকেরা ছাড়াও ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া। চিকিত্সকেরা জানিয়েছেন, ঘণ্টা দু’য়েকের অপরেশনের পর ‘পোস্ট অপরেটিভ ইন্টেনসিভ ইউনিট’-এ রাখা হয়েছে হেমাকে।