Fri. Apr 4th, 2025
Logo Signature
Agrani Bank
Rupali Bank
Advertisements

egyptian-protesters-in-court-jail-muslim-brotherhood-jail

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিসরে (বুধবার) সেনাবাহিনীর ওপর গত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইব্রাহিম মেহলেবই বলেছেন যে মিসর এখন ‘যুদ্ধাবস্থায়’। আর এই যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই শুক্রবার দেশটির স্বৈরশাসক আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ শাসনের দুই বছর পূর্তি হল।
দুই বছর আগে ২০১৩ সালের ৩ জুলাই কথিত গণবিক্ষোভের অজুহাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী সিসি মিসরের ৫ হাজার বছরের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত এক গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্টকে, মোহাম্মদ মুরসি, উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেছিলেন।
পরে জানা যায়, মিসরের সেই কথিত মুরসিবিরোধী গণবিক্ষোভ ছিল মধ্যপ্রাচ্যের স্বৈরতান্ত্রিক রাজাদের টাকায় সাজানো এক নাটক- যার মূল কথা ছিল মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম ইসলামী সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডকে ক্ষমতায় থেকে সরিয়ে মিসরকে এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরিতে পরিণত করে আরব জাহানের বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশটিকে ইসলামবিরোধীদের ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দেয়া। প্রথম বছরখানেক উর্দি পোশাকে এবং পরে প্রহসনের নির্বাচনে জয়ী হয়ে এক বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন সিসি। সিসির ক্ষমতা দখলের পর গত দুই বছরে কতটা এগোলো মিসর?
এক বাক্যে বললে, মিসর এখন এক ভূ-নরকে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন লাশ পড়ছে ইসলামপন্থী ও গণতন্ত্রীদের। বেশুমার মরছে দেশটির বর্বর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও। সিসির ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রায় ৪ হাজার গণতন্ত্রপন্থীকে হত্যা করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ছয়শ’ সদস্যও মারা গেছে এ সময়ে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নতি তো দূরের কথা, প্রতিদিন তারা পিছিয়ে যাচ্ছে। সিসি সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য প্রায় দ্বিগুণ করেছে।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, মিসর এখন বিশ্বের বৃহত্তম উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত হয়েছে। দেশটির কারাগারে এখন বন্দি অন্তত ৪৪ হাজার রাজনৈতিক নেতাকর্মী। সিসি আদালতকে রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করে মুসলিম ব্রাদারহুডের শত শত নেতাকর্মীকে ফাঁসির দণ্ড আর দীর্ঘমেয়াদি সাজা দিচ্ছেন।
সর্বোচ্চ দণ্ড থেকে বাদ যাননি মুরসি এবং ইসলামী বিশ্বের খ্যাতনামা আলেম ইউসুফ আল-কারজাবিও। অথচ মুরসির বিরুদ্ধে কানাকড়ি দুর্নীতির অভিযোগও আনতে পারেনি সিসি সরকার, যদিও তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে সরকার প্রধানরা বিদায় নেয়ার পর দুর্নীতির অভিযোগই ওঠে সর্বাগ্রে। সিসি মিসরের কোনো কল্যাণ করতে না পারলেও দেশটিকেই সলামি জঙ্গিদের উর্বর ভূমিতে পরিণত করেছেন। মিসর এ জঙ্গিতন্ত্র থেকে আর বের হতে পারবে কিনা তা নিয়ে ঘোর সংশয় রয়েছে।

যেমন পাকিস্তানের সাবেক স্বৈরশাসক পারভেজ মোশাররফের নীতির কারণে দেশটি ইসলামপন্থী জঙ্গিদের আখড়ায় পরিণত হলে সেখানে থেকে আর বেরুতে পারছে না কিছুতেই। জঙ্গিরা মিসরের মহাশক্তিধর এবং আরব জাহানের বৃহত্তম সেনাবাহিনীকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গণ্ডায় গণ্ডায় হত্যা করছে। বুধবার একদিনেই অন্তত ৬৪ সেনাকে হত্যা করেছে তারা।
অন্যদিকে জঙ্গি দমনের নামে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী অসহায় মুসলিম ব্রাদারহুডের ওপর রাষ্ট্রীয় হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে যদিও মুসলিম ব্রাদারহুড একটি উৎকৃষ্ট গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের নাম। আরেকটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ যেটা এ মুহূর্তে আল-সিসির সামনে সেটা হচ্ছে মিসরের অর্থনীতিকে উজ্জীবিত করা।
মিসরের অর্থনীতি মূলত ঐতিহ্যগত পর্যটননির্ভর। আর এ পর্যটননির্ভর অর্থনীতির বার্ষিক জিডিপি ৭ ভাগে উন্নিত করা আল-সিসির সরকারের লক্ষ্য। আল-সিসির সরকার ক্ষমতায় আসার পর মিসরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ পর্যটন খাতে হঠাৎ ধস নামে।
২০১০ সালে যেখানে ১ কোটি ৫০ লাখ পর্যটক দেশটিতে ভিড় জমিয়েছিল সেখানে গত বছর সেটা ১ কোটিতে নেমে এসেছে। দেশটিতে বর্তমানে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও বাজেট ঘাটতির মতো সংকটে রয়েছে। শতকরা ১৩.৫ ভাগ মুদ্রাস্ফীতি ও ১২ ভাগ বাজেট ঘাটতি আল-সিসি সরকারের দুটো মূল উদ্বেগের ব্যাপার।
কায়রোভিত্তিক সিগনেট থিঙ্ক ট্যাংকের প্রধান নির্বাহী প্রখ্যাত অর্থনীতি বিশ্লেষক আনগুস ব্লেয়ার বলেন, মিসরের চলমান অর্থনৈতিক বার্ষিক প্রবৃদ্ধি শতকরা প্রায় ৫ ভাগ। কিন্তু দেশটির বার্ষিক ২.৬ ভাগ হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার হওয়া দরকার ৭ থেকে ৮ ভাগ।