Fri. Apr 4th, 2025
Logo Signature
Agrani Bank
Rupali Bank
Advertisements

ঢাকা : দক্ষিণ আফ্রিকার করা ১৪৮ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৮.৫ ওভার খেলে সবগুলো উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ৯৬ রান। এর পলে ৫২ রানে জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।ywvDwv1
এরআগে মিরপুরে অনুষ্ঠিত আজকের খেলায় টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নামেন ডি ভিলিয়ার্স এবং ডি কক। কিন্তু শুরুতেই তাদের হারায় প্রোটিয়ারা।
খেলার শুরুতেই প্রোটিয়াদের সেরা অস্ত্র ডিভিলিয়ার্সকে ২ রানেই সাঁজঘরে পাঠায় আরাফাত সানি। ম্যাচের ১ম ওভারের শেষ বলে মাশরাফির কাছে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। দলীয় রানও তখন মাত্র ২। এরপরে দলীয় ৩১ রানের মাথায় দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক মহারথি ডি কক আউট হন। ৪র্থ ওভারের শেষ বলে তার উইকেটটি নেন অলরাউন্ডার নাসির।
এরপর ফাফ ডু প্লেসিস ও জেপি ডুমিনি আফ্রিকানদের ব্যাটিং হাল ধরে। কিন্তু ১৩তম ওভারে দলীয় ৭৭ রানের মাথায় ডুমিনিকে আউট করে ৪৬ রানের পার্টনারশিপ ভেঙে দেয় টাইগাররা। আরাফাত সানির ২য় শিকার হন ডুমিনি। দলের জন্য তিনি করেন ১৮ রান। পরবর্তী ব্যাটসম্যান মিলারও মাঠে টিকতে পারেনি বেশিক্ষন। মাত্র ১ রান করে অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের ১ম শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। ১৪তম ওভারের ২য় বলে দলীয় ৯০ রানে আউট হন তিনি। এরপর রিলে রুশোকে সাথে নিয়ে দলকে গতি দেন ফাফ ডু প্লেসিস। ৫৮ রানের জুটি গড়ে দলকে নিয়ে যান ১৪৮ রানে। দলের হয়ে ৭৯ রান করে তিনি অপরাজিত ছিলেন। তবে আজকের ম্যাচে উইকেট খরায় ভুগলেন তরুন খেলোয়ার মোস্তাফিজ। তার কয়েকটি চেষ্টা ব্যার্থ হয়ে যায় আজ।
২য় ইনিংসে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নামেন তামিম ও সৌম্য সরকার। কিন্তু মারমুখো খেলতে গিয়ে ২ ওপেনারই আউট হয়ে যান দলীয় মাত্র ১৩ রানের মাথায়।

ব্যাট করতে নেমে ১ম ওভারের শেষ বলে কাইল অ্যাবটের ১ম শিকার হন তামিম। মাত্র ৫ রান করে ডি ককের কাছে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন তিনি। পরের ওভারের শেষ বলেও বাংলাদেশ হারায় আরেক ওপেনার সৌম্য সরকারকে। ৭ রান করে আউট হয়ে যান সৌম্য। কাগিসো রাবাদার বলে জেপি ডুমিনির কাছে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। এরপর সাকিব ও মুশফিক দেখেশুনেই খেলছিলেন। কিন্তু ৮ম ওভারের ৫ম বলে মারমুখি খেলতে গিয়ে ডুমিনির বলে মিলারের কাছে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন মুশফিক। দলীয় ৫০ রানের মাথায় নিজস্ব ১৭ রান করে আউট হন তিনি। পরবর্তী ব্যাটসম্যান সাব্বির এসেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মাত্র ৪ রান করে ডুমিনির ২য় শিকার হন তিনি। নাসিরও ১ রান করে আউট হয়ে যান। অ্যারন ফাঙ্গিসোর ১১তম ওভারের ১ম বলে দলীয় ৫৭ রানের মাথায় আউট হন তিনি। এরপর লিটন দাশ মাঠে আসলে তাকে নিয়ে সাকিব আল হাসান টিকে থাকার ব্যর্থ চেষ্ট করেন। দলীয় ৭১ রানের মাথায় ডেভিড উইসিসের বলে ওয়েন পারনেলের কাছে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। দলের জন্য তিনি করেন ২৬ রান। এরপর ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে আসেন ক্যাপ্টেন মাশরাফি। কিন্তু দলের জন্য মাত্র ৫ রান করে রাবাদার ২য় শিকার হন তিনি। দলীয় রান তখন ৮৬। ১৮তম ওভারের ১ম বলে সেহাগ গাজী ৩ রান করে রান আউটের শিকার হন। একই ওভারের ৩য় বলে বাংলাদেশের শেষ ভরসার ব্যাটসম্যান লিটন আউট হন। ডেভিড উইসির বলে মাত্র ২২ রান করে ডি ভিলিয়ার্সের কাছে ক্যাচ তুলেদেন তিনি। দলীয় রান তখন ৯৪।

উল্লেখ্য, সফরে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ২টি টোয়েন্টি২০ ম্যাচ ছাড়াও ৩টি ওয়ানডে ও ২টি টেস্ট ম্যাচ খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২টি টোয়েন্টি২০ ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। দুটিতেই হেরেছিল স্বাগতিকরা। এর একটি ছিল ২০০৭ সালে কেপটাউনে পরের বছর জোহানেসবার্গে। একটিতে ৭ উইকেটে হার ও অপরটিতে ১২ রানে হার।
বাংলাদেশ একাদশ : তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন দাশ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, সোহাগ গাজী, মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), মুস্তাফিজুর রহমান ও আরাফাত সানি।
দ. আফ্রিকার একাদশ : কুইন্টন ডি কক, রিলে রুশো, এবি ডি ভিলিয়ার্স, ফাফ ডু প্লেসিস (অধিনায়ক), ডেভিড মিলার, জেপি ডুমিনি, ডেভিড উইসি, ওয়েন পারনেল, কাইল অ্যাবট, কাগিসো রাবাদা ও অ্যারন ফাঙ্গিসো।
২০১১ সালের পর এই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কোনো ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের সেই ম্যাচে মাত্র ৭৮ রানে অলআউট হয়েছিল স্বাগতিকরা।
এদিকে এ ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ ও ভারতের সঙ্গে ২ এক ব্যবধানে সিরিজ জয় করে বাংলাদেশ ।