খাওয়া-পরার নিশ্চয়তা দিতে পারবেন না বলে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুশ্রম বন্ধের উদ্যোগ নেন না, জানালেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র।
রাজশাহী নগরের বিভিন্ন কারখানায় আইন অমান্য করে শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো হয়।
এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত মেয়র নিজামুল আজিম নিজাম বলেন,”সব বুঝি তারপরও কিছু করা যায় না। কাজ বন্ধ করলে ওরা খাবেই বা কী?
“ওদের কাজ বন্ধ করে দিলে ওরা যখন খাবার, কাপড়, শিক্ষার সুবিধা চাইবে তখন আমি কোথা থেকে দেবো?”
“সারাদিন কাজ করলে টাকা আসে। গরিব বাবা-মা এই টাকা পেয়েই খুশি হয়।”
আইন অনুযায়ী শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ নিষেধ থাকলেও রাজশাহীর বিভিন্ন কারখানায় শিশুদের কাজ করতে দেখা যায়। মহানগরীর বর্ণালী এলাকায় রাব্বি মেটাল নামের এক ওয়েল্ডিং কারখানায় সরেজমিনে দেখা যায়, সেখানে আট শ্রমিকের সাত জনই শিশু।
ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও অভাবের জন্য কাজ করে শিশু শ্রমজীবী শুভ। ও বলে, “আমি কাজ করলে সংসারে অভাব একটু কমে।”
অপর দুই শিশু শ্রমজীবী একলাস হোসেন ও সজল জানায়, অভাবের জন্যই তারা কাজ করে।
এ কারখানার শ্রমিক মানিক (৪২) জানান, কাজের জন্য অনেক শিশু আসে। তাই মালিককে বলে কাজ নিয়ে দেন তিনি।
“প্রথমে এদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তারপর সপ্তাহে ৩০০-৪০০ টাকা মজুরিতে কাজ করানো হয়।”
ওই কারখানার মালিক হিরু জানান, দোকানের বড় শ্রমিকরা সহকারী হিসেবে শিশুদের নেয়। এতে তার বলার কিছু থাকে না।
বর্ণালী এলাকায় শুধু রাব্বি মেটালই নয়, বেশ কয়েকটি ওয়েল্ডিং কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় শিশু শ্রমজীবীর সংখ্যা অনেক।
এসব কারখানার অনেক মালিকই শিশু নিয়োগ নিয়ে কোন কথা বলতে চাননি।
শুধু বর্ণালী এলাকা নয়, রাজশাহী মহানগরীর মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্টেডিয়াম, রাজশাহী স্টেশন, কোর্ট স্টেশন, সাহেব বাজারের দোকানগুলোতে শিশুশ্রমজীবীদের কাজ করতে দেখা যায়।