Fri. Apr 4th, 2025
Logo Signature
Agrani Bank
Rupali Bank
Advertisements

বিজ্ঞান- প্রযুক্তি: বিস্ময় নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে সবাই। ব্যাপারটা এমন যেন দেখে চোখ সার্থক করা। কারণ তখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আকাশে উড়েছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা ড্রোন (চালকবিহীন বিমান)। শুধু পাখির মতো উড়ে চলাই নয়, এটি প্রতি সেকেন্ডে জানিয়ে দেবে অবস্থানকালীন স্থানের তাপমাত্রা, সংগ্রহ করবে ভিডিও এবং স্থিরচিত্র। শনিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ড্রোনটি উড়িয়ে দেখান উদ্ভাবকরা।

ju photo
নতুন কিছু করার ভাবনা এবং যুগোপযোগী প্রযুক্তিকে দেশের কাজে লাগানোর অনুপ্রেরণা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রযুক্তি ইন্সটিটিউটের (আইআইটি) পিএমআইটি প্রোগামের ৩ ছাত্র তৈরি করেছে দূর নিয়ন্ত্রিত এই কোয়াড কপ্টার। স্নাতকোত্তর পর্যায়ের প্রকল্প হিসেবে এই কোয়াড কপ্টারটি তৈরি করেছেন পিএমআইটি প্রোগামের ছাত্র সুরত-ই-মোস্তফা, মো. শওকত আলী মোল্লা ও মো. রফিকুল ইসলাম।

প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ছিলেন আইআইটির প্রভাষক জামশেদ ইকবাল চৌধুরী এবং সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন আইআইটির সহকারী অধ্যাপক এম শামীম কায়সার ও শামীম আল মামুন।

প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রভাষক জামশেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে এ ড্রোনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সরকার ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এগিয়ে আসলে স্বল্প খরচে দেশীয়ভাবে ড্রোন তৈরি করা যাবে। পাশাপাশি গবেষকরাও গবেষণার কাজে উৎসাহ পাবে।’

কোয়াড কপ্টার এক ধরনের মনুষ্যবিহীন আকাশযান যাতে উড্ডয়নের জন্য আলাদা ৪ টি পাখা থাকে। এটি হেলিকপ্টারের মত পাখার ঘূর্ণণের সাহায্যে চলে। এই কোয়াড কপ্টার প্রকৃত সময়ে ভৌগলিক অবস্থানসহ দূরবর্তী নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে সেন্সরের তথ্য পাঠাতে সক্ষম। এটি নিঃসন্দেহে নিরাপত্তা, পর্যবেক্ষণ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে তথ্য সংগ্রহ ইত্যাদি কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

সহকারী অধ্যাপক শামীম আল মামুন জানান, লিথিয়াম সেল ব্যাটারিতে কোয়াড কপ্টার ড্রোনটি একবার পূর্ণ চার্জে প্রায় ২০ মিনিট পর্যন্ত চলতে পারে। ১ কেজির কিছু বেশি ওজনের ড্রোনটি নিজের ওজন ছাড়াও ২ কেজি ওজন বহনে সক্ষম। বর্তমান প্রযুক্তিতে এটি ৫০ মিটার দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আরও উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত করা হলে এটি ২-৩ কিলোমিটার দূর থেকেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

ড্রোনটির উদ্ভাবকরা জানান, ক্যামেরা যুক্ত করা হলে এটি সরাসরি ভিডিও চিত্র পাঠানো, ছবি তোলা, চিকিৎসাসেবা পাঠানো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে জরিপের কাজেও ব্যবহার করা সম্ভব হবে। এছাড়া ড্রোনটিতে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) লাগানোর ব্যবস্থাও আছে। এটি লাগানোর পর লক্ষ্যবস্তুর নাম বলে দেওয়া হলে ড্রোনটি নিজের থেকেই সেখানে পৌঁছাতে পারবে।

ড্রোনটি বিশেষ করে নৌদুর্ঘটনা এড়াতে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উদ্ভাবকরা জানান। নৌযান গুলোতে এ ড্রোন ব্যবহার করা হলে দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার আগাম সংকেত কিংবা সঠিক রুটে নৌযান পরিচালনা করতে এটি দিক নির্দেশনা দেবে।

উদ্ভাবকরা আরও জানান, এই প্রকল্পের জন্য তাদের প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। দেশীয় বাজারে পাওয়া যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি করা কাঠামো এবং মাইট্রো কন্ট্রোলার প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে তারা এই কাজটি সমাধান করেছেন। যদিও এই প্রকল্পটি কোনও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়নি।