Thu. Apr 3rd, 2025
Logo Signature
Agrani Bank
Rupali Bank
Advertisements

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: অব্যাহত ভাঙ্গনের মুখে পদ্মাসেতু প্রকল্প। নতুন করে ঝুঁকিতে পড়েছে প্রকল্পের ২ নম্বর জেটি। জিও ব্যাগ ভর্তি বালু ফেলেও স্রোতের কারণে রক্ষা করা যাচ্ছে না প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে সেতু প্রকল্পের কাজে ব্যাপাক সমস্যা হচ্ছে। অতিদ্রুত ভাঙ্গন রোধ করতে না পারলে বিলীন হয়ে যেতে পারে প্রকল্প এলাকাটি। ইতিমধ্যে বালিভর্তি প্রায় ১ লক্ষ জিও ব্যাগ ফেলা হলেও রোধ করা যাচ্ছে না ভাঙ্গন। এর আগে সোম ও মঙ্গলবার প্রায় দেড় শ’ মিটার এলাকা ভাঙনে বিলীন হয়েছে।11-03-15-Padma Bridege Project_Mawa-13

সপ্তাহ দুই আগে প্রথম দফায় প্রকল্পের চার নম্বর জেটির কাছে প্রায় ৫০০ফুট বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ভাঙ্গন দেখা দিলে ব্যাঘাত ঘটে গান্টি ক্রেন স্থাপনের কাজ। ভাঙ্গনের সীমা যাতে আর না বাড়ে সেই লক্ষ্যে দিন রাত বিরামহীন কাজ করে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা চালাচ্ছে শ্রমিকেরা। গেল সপ্তাহে ২য় দফায় একই জায়গায় ফের ভাঙ্গন দেখা দিলে ঝুঁকির মধ্যে পড়ে পাইলিং ওয়ার্কসপ এবং ৪ নং জেটি। স্থানীয় লোকজন জানান, সোমবার থেকে প্রকল্প এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। গত মঙ্গলবার বিকেলে ভাঙনের তীব্রতা বাড়ে।
নদীর ওপরের ভাগের স্রোতের তুলনায় নীচের অংশের স্রোতের গতি কয়েক গুণ বাড়তি থাকায় নীচ থেকে মাটি সরে গিয়ে হঠাৎ করে নতুন নতুন এলাকা ধ্বসে পড়ে আর ২নং জেটির কাছে কয়েকশত ফুট এলাকায় আকস্মিক ভাঙ্গনের ফলে নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়ে ২নং জেটিও।

কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের একাধিক শ্রমিক বলেন, পদ্মায় ভাঙন একবার শুরু হলে অনেক বড় এলাকা ভেঙে নিয়ে যায়। এ কারণেই সবার মনে ভয়। পদ্মা সেতু নির্মাণের মালামাল ওঠানামা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জাহাজ এবং স্পীডবোট ভিড়ানোর জন্য এই প্রকল্পে মোট ৪টি জেটি তৈরীর কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে তৈরীকৃত ৩টির মধ্যে ঝুঁকিতে রয়েছে ২টি জেটি।
তবে সেতুর মূল কাজের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান কাদের সাংবাদিকদের বলেন, এ ভাঙন সেতুর মূল কাজে কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ, ভাঙন এলাকা থেকে সেতুর পাইলিংস্থলের দূরত্ব অন্তত এক কিলোমিটার। ইতিমধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনিও বলেন, এ ভাঙন নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। ভাঙন রোধে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভাঙনের জায়গায় ইতিমধ্যে ২০ হাজার বালুর বস্তা (জিও ব্যাগ) ফেলা হয়েছে। আরও পাঁচ লাখ বস্তা ফেলা হবে।

মাওয়ার কুমারভোগ এলাকায় যেখানে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে সেতুর নির্মাণকাজের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড (ওয়ার্কশপ) রয়েছে। ভাঙনে মূল ওয়ার্কশপের ক্ষতি না হলেও সেখানকার কাজের জন্য পাশের খোলা মাঠে মালপত্র রাখার জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্র বলেন, ভাঙন মূল ওয়ার্কশপ থেকে দেড় শ’ মিটার দূরে আছে।

পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, সেতু প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। মাওয়া ও কাওড়াকান্দির দুই প্রান্তে কমপক্ষে সাড়ে নয় হাজার কর্মী কাজ করছেন। এ পর্যন্ত মূল কাজের ১০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৮ সালের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।