খোলা বাজার২৪ ॥ শনিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৫ : জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) দমনে এককাট্টা হয়ে লড়বে জাতিসংঘ। আইএসসহ সব জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশ্বশক্তিগুলোকে এক হতে ফ্রান্সের দেওয়া প্রস্তাব গতকাল শুক্রবার অনুমোদন করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। গত সপ্তাহে প্যারিসে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ফ্রান্স এই প্রস্তাব দেয়। এতে জঙ্গি আইএসের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণার’ আহ্বান জানায় দেশটি। এদিকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার হুমকির মুখে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আইএসের বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়ে লড়াইয়ের প্রস্তাবটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করা হয়। এতে জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ বলেছে, ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস জঙ্গিদের যে স্বর্গরাজ্য গড়ে উঠেছে তা নস্যাৎ করে দিতে হবে।
প্রস্তাবে বলা হয়, সন্ত্রাসী হামলা প্রতিরোধে জাতিসংঘ আরও জোরদার ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়েছে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর চালানো হামলার নিন্দা জানানো হয়।
প্যারিসে গত সপ্তাহের সন্ত্রাসী হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস। ওই হামলায় ১২৯ জনের মৃত্যু হয়। এ মাসে লেবাননে ভয়াবহ বোমা হামলায় দায়ও স্বীকার করেছে এই সংগঠনটি। জঙ্গি দলটি সদর্পে বলেছে, গত অক্টোবরে রাশিয়ার যাত্রীবাহী বিমানও তাঁরা ভূপতিত করেছে।
এদিকে সম্ভাব্য হামলার হুমকির মুখে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্যারিসের হামলাকারীদের কয়েকজন এখনো সেখানে বসবাস করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেলজিয়ামের সরকার ঘোষণা করেছে প্যারিস হামলায় জড়িত সন্দেহভাজন একজন সেখানে অন্যদের নিয়ে আসছেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।
ইউরোপের প্রাণকেন্দ্র ন্যাটোর সদস্য ফ্রান্সের রাজধানীতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার রেশ না কাটতেই নতুন জঙ্গি হামলার হুমকিতে সচকিত গোটা বিশ্ব। আইএস জঙ্গিরা হোয়াইট হাউস ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি ও বাণিজ্য কেন্দ্র নিউইয়র্ক সিটিতে হামলার হুমকি দিয়েছে। মালয়েশিয়ায় আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে জঙ্গিদের সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতির খবরে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এরই মধ্যে গতকাল শুক্রবার ঘটে যায় মালিতে বন্দুকধারীদের জিম্মি করার ঘটনা। দেশটির রাজধানী বামাকোতে পাঁচ তারকা একটি হোটেলে ওই জঙ্গি হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ২৭ জন নিহত হওয়ার পর স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।
একের পর এক এ ধরনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রান্সের উদ্যোগ এবং তাতে জাতিসংঘের অনুমোদনকে বিশেষ রকম তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
দিনে দিনে ভয়াবহ হয়ে ওঠা জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সমন্বিত কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি বিশ্বশক্তিগুলো। বারবার সেখানে বাধা হয়ে ছিল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী দুই সদস্য রাশিয়া ও চীন। কিন্তু গত সপ্তাহে ফ্রান্সে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর নড়ে বসেছে বিশ্ব। রাশিয়া ও চীনও এবার দৃশ্যত পশ্চিমা অন্য শক্তিগুলোর সঙ্গে হাত মিলিয়ে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছে।