Wed. Apr 30th, 2025
Logo Signature
Agrani Bank
Rupali Bank
Advertisements

খোলা বাজার২৪, বুধবার, ১০ আগস্ট ২০১৬: জেসিকা চাকমা, রাঙ্গামাটি : পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন-২০১৬ বাতিলের দাবিতে বুধবার তিন পার্বত্য জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল শেষে পরদিন বৃহস্পতিবারও ফের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ঘোষণা করেছে স্থানীয় পাঁচ বাঙালিভিত্তিক সংগঠন পার্বত্য নাগরিক পরিষদ, পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ, পার্বত্য গণপরিষদ, চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলন ও পার্বত্য বাঙালি ছাত্র ঐক্যপরিষদ। হরতালের সমর্থনে সংহতি জানায় পার্বত্য গণশ্রমিক পরিষদ নামে আরেকটি সংগঠন। কর্মসূচির অংশে বুধবার রাঙ্গামাটিতে সকাল-সন্ধ্যা শান্তিপূর্ণ হরতাল পালিত হয়েছে।
হরতালের সমর্থনে সকাল থেকে শহরের বনরুপা, কাঠালতলী, পৌরসভা, রিজার্ভবাজার, তবলছড়ি, ডিসি অফিস এলাকা, কলেজগেট, ভেদভেদী ও মানিকছড়িসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দিনব্যাপী পিকেটিংয়ে অংশ নেন হরতালকারীরা। এছাড়া হরতালের সমর্থনে শহরে বিক্ষিপ্ত মিছিল বের করেন তারা।
এদিকে হরতালের কারণে শহরসহ জেলাব্যাপী কোথাও কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। সব দোকানপাট ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। উপজেলাগুলোতেও সড়ক ও নৌপথে কোনো প্রকার যান চলাচল করেনি। ফলে হরতালে অচল হয়ে পড়ে পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি। সরকারি অফিস-আদালতসহ বিভিন্ন কর্মপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও লোকজনের উপস্থিতি ছিল ফাঁকা। হরতালে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বত্র নিরাপত্তাবাহিনীর টহল জোরদার ছিল।
সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি সদর সার্কেল) চিত্তরঞ্জন পাল জানান, ভোর থেকে দিনব্যাপী বাঙালি সংগঠনগুলোর ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে অতিবাহিত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং আইনশৃংখলা রক্ষায় সর্বত্র পর্যাপ্ত পুলিশি টহল জোরদার রয়েছে।
এদিকে বুধবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল শেষে বৃহস্পতিবারও রাঙ্গামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল দিয়েছে ওই পাঁচটি বাঙালি সংগঠন। এ ব্যাপারে সংগঠনগুলোর পক্ষে পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের নেতা মো. ইব্রাহীম, জাহাঙ্গীর আলম, নজরুল ইসলাম, আসাদুজ্জামানসহ অন্য নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন-২০১৬’র ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালিদেরকে ভূমি থেকে উচ্ছেদ হতে হবে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে এমনটা আশঙ্কায় অবিলম্বে সংশোধিত আইনটি বাতিলের দাবিতে আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু সরকার আমাদের দাবি মানার বদলে ওই কালো আইনটিকে অধ্যাদেশ আকারে জারি করতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরও করেছেন অধ্যাদেশে। তাই এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবারও তিন পার্বত্য সকাল-সন্ধ্যা হরতাল দিতে বাধ্য হতে হয়েছে। প্রয়োজনে পরবর্তীতে আরও লাগাতার কঠোর কর্মসূচি দিয়ে তিন পার্বত্য জেলা অচল করে দেয়া হবে বলেও হুমকি দেন বাঙালি নেতারা।