
খোলা বাজার২৪, সোমবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৬: চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মোবাইল ফোনের গ্রাহকরা। কল ড্রপ যেমন বেড়েছে, পাশাপাশি মোবাইল ফোনের কিছু সার্ভিসে বিরক্ত হচ্ছেন গ্রাহক। সময়ে-অসময়ে পাঠানো মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রচারণামূলক এসএমএসের অতিষ্ট মানুষ। এমনকি গভীর রাতেও এসব এসএমএস আসছে। যদিও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে পাঠানো এক নির্দেশনায় বলা আছে, ‘রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কোন প্রচারণামূলক ফোন করা বা এসএমএস পাঠানো যাবে না।’ এই নির্দেশনার তোয়াক্কাই করছে না অপারেটরগুলো। এর জন্য বিটিআরসিকে আরো কঠোর হওয়ার দাবি সাধারণ গ্রাহকদের। গত চার বছর ধরে চেষ্টা করেও ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ নামে একটি গাইডলাইন তৈরির কাজ শেষ করতে পারেনি বিটিআরসি। যদিও কলড্রপের ব্যাপারে কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। সেগুলো এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম ইত্তেফাককে বলেন, ‘যেসব নির্দেশনা দেয়া আছে সেগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে কি-না সে ব্যাপারে আমরা তো বিটিআরসিকে নিয়মিত নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছি। সর্বশেষ কয়েকদিন আগে বিটিআরসিতে চিঠি পাঠিয়ে সেবা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে তো আর এগুলো নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ, হয়রানি—সবকিছুই তদারকি করতে হবে বিটিআরসিকে।’
গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে মোবাইল ফোন অপারেটরদের সেবার মান অনেক নেমে গেছে। কল ড্রপ হচ্ছে, অভিযোগ করেও প্রতিকার মিলছে না। বিটিআরসি থেকে অপারেটরদের এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হলেও কোন কাজ হচ্ছে না। আইটিইউ ও বিটিআরসির দেয়া গাইডলাইনে বলা আছে, শতকরা ৩ ভাগের বেশি কল ড্রপ হলে গ্রাহককে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। মোবাইল ফোন অপারেটরদের ভাষ্য, শতকরা তিন ভাগের বেশি কল ড্রপ তো হচ্ছে না। তাহলে ক্ষতিপূরণের প্রশ্ন আসছে কেন?
জানা গেছে, কল ড্রপের পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট অপারেটর। ফলে তারা সত্য বলছেন না মিথ্যা বলছেন সেটা প্রমাণ করার সুযোগ নেই বিটিআরসির। তাই তাদের কথা মেনে নিয়েই চলতে হচ্ছে বিটিআরসিকে।
সম্প্রতি বিটিআরসি কিছু যন্ত্রপাতি কিনেছে। সেই যন্ত্র নিয়ে কোন এলাকায় বসিয়ে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যাবে সেখানে কল ড্রপের পরিমাণ কেমন? তখন অপারেটরদের এ ব্যাপারে জবাবদিহিতার আওতায় আনা যাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে বিটিআরসি কঠোরভাবে মনিটরিং করে। নতুন কিছু যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। এগুলোর ব্যবহার শুরু হলে গ্রাহক সেবা পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে যে এসএমএস যাচ্ছে সেটাও মনিটরিং করা হবে।’
গ্রাহক সেবা নিয়ে অপারেটরদের বক্তব্য, তারা সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে থাকেন। বাংলাদেশে কল ড্রপের পরিমাণ এক শতাংশেরও কম। সেবাও অনেক ভালো। গ্রামীণফোনের হেড অব কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স মাহমুদ হোসাইন ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমাদের দেশে যে নেটওয়ার্ক আছে সেটা বিশ্বমানের। বহু উন্নত দেশেও এই ধরনের নেটওয়ার্ক নেই। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশেও নেই। পাশাপাশি প্রতিনিয়তই গ্রাহক সেবা উন্নত করা হচ্ছে। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। আর গ্রামীণফোনের ১২১ নম্বরে ফোন করলে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই সেটি কেউ রিসিভ করে সমাধান দিচ্ছেন। গত ৭-৮ মাস আগে এটার পরিমাণ ৭০-৭৫ ভাগ ছিল। বর্তমানে যেটা ৯৫ ভাগ।’
রবির ভাইস প্রেসিডেন্ট একরাম কবীরও ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে একই ধরনের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, বিটিআরসি যে নির্দেশনা দিয়েছে আমরা সেই নির্দেশনা মেনেই সব ধরনের সেবা দিয়ে থাকি। পাশাপাশি কল ড্রপ তো শুধু অপারেটরের উপর নির্ভর করে না। এখানে আবহাওয়া বা সংশ্লিষ্ট অন্যদেরও ভুমিকা আছে।
নতুন করে ভোগান্তিতে যোগ হয়েছে সময়ে-অসময়ে এসএমএস। মধ্যরাতেও অনেক এসএমএস আসছে। বিটিআরসির ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ গাইডলাইন চূড়ান্ত হলে গ্রাহকরা উপকৃত হতেন। এখনও সেটা হয়নি। বাংলালিংকের হেড অব গভমেন্ট অ্যাফেয়ার্স এ এইচ এম হাসিনুল কুদ্দুস গতকাল প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের কক্ষে তার সামনেই এ প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেন, ‘বাংলালিংকের কোন এসএমএস নির্দিষ্ট সময়ের পরে পাঠানো হয় না।’ তাহলে কিভাবে গ্রাহকের মোবাইলে এসব এসএমএস যাচ্ছে? জবাবে তিনি বলেন, ‘নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে অনেক সময় এসএমএস ডেলিভারি হতে দেরি হতে পারে। হয়ত সে কারণেই বিলম্বে এসএমএস যাচ্ছে।’
বিটিআরসিতে গ্রাহকদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, কল ড্রপ বা বিরক্তিকর এসএমএসের বাইরেও ইন্টারনেট নিয়েও তাদের রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। প্যাকেজ থাকার পরও সরাসরি টাকা কেটে নেওয়া, ঠিকমতো সংযোগ না পাওয়াসহ অনেক অভিযোগ তাদের। এসব ব্যাপারেও গ্রাহকদের অভিযোগের সুরাহা হচ্ছে না।