Thu. Apr 3rd, 2025
Logo Signature
Agrani Bank
Rupali Bank
Advertisements

k16খােলা বাজার২৪।।বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭: জন্মের পর তার নাড়ীটাও কাটা হয়নি। হতভাগাকে নিশ্চয়ই ফেলে চলে গেছে তার বাবা কিংবা মা কিংবা অন্য কেউ।ফুটফুটে এক শিশু।

ধীরে ধীরে বাবা-মায়ের আদরে বেড়ে উঠলো সে। তরুণ বয়সে জানতে পারলো তার জীবনের এমন বাস্তবতা যা সিনেমাকেও হার মানায়। সিনেমার কাহিনীতেও এতটা নাটকীয়তা থাকে না।

১৯৮৯ এর ২১ নভেম্বর। ক্যালিফোর্নিয়ার এক পুলিশ অফিসার মাইকেল বুয়েলনা এক অপরাধকাণ্ডের তদন্তে গেছেন কোনো এক স্থানে। হঠাৎ করেই পাশের ময়লার ভাগাড় থেকে বাচ্চা বিড়ালের ম্যাও ম্যাও এর মতো আওয়াশ শুনতে পেলেন।

কী যেন মনে হলো তার, আওয়াজ লক্ষ্য করে এগিয়ে গেলেন। গিয়েই হতভম্ব তিনি! সেখানে পড়ে রয়েছে ফুটফুটে এক শিশু। জন্মের পর তার নাড়ীটাও কাটা হয়নি। হতভাগাকে নিশ্চয়ই ফেলে চলে গেছে তার বাবা কিংবা মা কিংবা অন্য কেউ।

তার দম যায় যায় অবস্থা। কান্নার শক্তিও নেই। কোলে তুলে নিলেন অফিসার। একে কেউ ফেলে রেখে যেতে পারে! বাচ্চাটিকে কাছের এক হাসপাতালে নিলেন বুয়েলনা। জীবন বেঁচে গেলো তার। নাম রাখলেন অ্যাডাম।

অরেঞ্জ কাউন্টি রেজিস্টারে অ্যাডামের নাম উঠলো এতিমের খাতায়। বুয়েলনা নিজেই ওকে দত্তক নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কাগজপত্র সময়মতো প্রস্তুত করতে পারলেন না।

অরেঞ্জ কাউন্টির এলিজাবেথ বার্টন এবং ড্যানিয়েল দম্পতি অ্যাডামকে তাদের ছেলে হিসাবে নিয়ে গেলেন। তারা অ্যাডামের নাম বদলে রাখলেন রবিন। বার্টন দম্পতি তাকে অন্য শিশুদের মতোই পালতে লাগলেন।

বড় হতে থাকলো রবিন। বাবা-মা, সুন্দর একটা বাড়ি রয়েছে তার। কিন্তু সবই অন্যরকম হতে থাকলো যতক্ষণ না রবিন তার জীবনের সেই দুঃস্বপ্নের কাহিনী জানতে পারলেন। ২৪ বছর বয়সের হ্যান্ডসাম এক তরুণ রবিন।

জানলেন, নাড়ী ছেঁড়ার পরই তার স্থানর হয়েছিল ময়লার ভাগাড়ে। সেখানে মরেই যেত সে। কিন্তু এক পুলিশ অফিসার পরম আদরে তাকে কোলে তুলে নেন। তার জীবন বাঁচান। সেই মহামানবটিকে দেখার জন্য পাগল হয়ে গেলেন রবিন।

মাইকেল বুয়েলনা তখন অবসর নিয়েছেন। বয়স ৫০ এর মতো। অরেঞ্জ কাউন্টির নিজের বাড়িতেই শান্তিতে জীবন কাটাচ্ছেন। তিনিও কখনো ভাবেননি, যেই শিশুটিকে সেই কবে বাঁচিয়েছিলেন তাকে কখনো দেখতে পারবেন।

২৫ বছর বয়সে রবিন হাজির হলেন বুয়েলনার সামনে। সাবেক অফিসার বিস্ময়ভরা চোখে দেখলেই সেই অ্যাডামকে। দুজনের চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরতে লাগলো।

দত্তক নেওয়া বাবা-মায়ের বদৌলতেই বুয়েলনাকে একবার হলেও দেখার সৌভাগ্য হলো রবিনে। একসঙ্গে অনেক সময় কাটালেন তারা। প্রাণখুলে কথা বললেন। জীবন বাঁচানোর জন্য বুয়েলনার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন রবিন।

বার্টন দম্পতিও বুয়েলনাকে পেয়ে দারুণ খুশি। এই মানুষটির জন্যেই তো রবিনকে পেয়েছেন তারা। কিন্তু কাহিনীর এখানেই শেষ নয়। রবিনের মনে প্রশ্ন রয়েই গেলো।

তার আসল বাবা-মা কোথায়? সূত্র ধরে অজানা-অচেনা মানুষকে খুঁজতে তো দক্ষ পুলিশরা। কাজেই এ ক্ষেত্রে রবিনকে সহায়তা করতে পারেন বুয়েলনা। প্রস্তাব দিতে রাজি হলেন সাবেক পুলিশ অফিসার।

কয়েক মাস পরই আসলে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। রবিন খুঁজে পেলেন তার মাকে, নাম তার সাবরিনা ডিয়াজ। এই নারীই তার জন্মদাত্রী, এই জননীই তার নাড়ী ছেঁড়া ধনকে ডাস্টবিনে ফেলে চলে যান!

জানা গেল, সেই সময় সাবরিনার জীবনে অন্ধকার সময় কাটছিল। সেই সময় বেশ কয়েক বছর জেলেও ছিলেন তিনি। হত্যা চেষ্টার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। এখন ক্ষমা চাওয়া আর অনুতাপ ছাড়া আর কোনো উপায় নেই তার।

১৯ বছর বয়সে তিন বছর জেল খেটে ম্যাক্সিকো চলে যান তিনি। কিন্তু এসব ঘটনা রবিনের বেড়ে ওঠা ঠেকাতে পারেনি। ছেলের কথা শুনে তিনি তাকে একনজর দেখতে ব্যাকুল হয়ে উঠলেন।

অবশেষে মুখোমুখি হলেন মা আর ছেলে। সাবরিনা দেখলেন অতীত। এই ছেলেটিই সেদিন তার কোলে কাঁদছিল! তিনি তাকে ডাস্টবিনে ফেলে দিলেন! যে শিশুটির মৃত্যু নিশ্চিত, সে আজ কত সুন্দর হয়েছে!

আজ সেই ছেলেই তার মাকে খুঁজে বের করেছে! কিন্তু রবিনের কোনো অভিযোগ নেই। সে তার আসল পরিবারকে অন্তত খুঁজে পেয়েই ধন্য। তার পরিবারে আরো ৫টি বোনও রয়েছে।

সিনেমাকেও হার মানানো এই বাস্তব ঘটনার সুখকর সমাপ্তি ঘটলো ঠিকই। কিন্তু আসল সমস্যা এখনো রয়েই গেছে। প্রতিবছর এমন অনেক শিশুর স্থান হচ্ছে ময়লার ভাগাড়ে।

মায়ের অপরিকল্পিত গর্ভধারণসহ অন্যান্য আর্থ-সামাজিক কারণে এমন মর্মস্পর্শী ঘটনা কিন্তু ঘটেই চলেছে। অনেক অ্যাডাম বা রবিনের কোনো খবর কেউ হয়তো পাচ্ছে না।