খােলা বাজার২৪।। শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭: পর্যটক হিসাবে আপনার কিছু দায়িত্বশীল আচার-বৈশিষ্ট্য থাকা উচিত। যারা দেশ-বিদেশ চষে বেড়ান তাদের এ সম্পর্কে ধারণা থাকা বাঞ্ছনীয়।
এ কারণেই ইউনাইটেড নেশন্স ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম অর্গানাইজেশন নতুন করে বের করেছে ‘ট্র্যাভেল.এনজয়.রেসপেক্ট’ নামের একটি হ্যান্ডবুক। বিশ্বজুড়ে ভ্রমণকারীদের দায়িত্বশীলতা কেমন হওয়া উচিত, তারই ধারণা মিলবে এখানে। পর্যটকদের সচেতন করাই এর উদ্দেশ্য।
এই গ্রীষ্মেই ইউরোপে পর্যটকদের নিয়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দেখা দেয়। স্পেন এবং ইতালিতে স্থানীয়রা পর্যটনবিরোধী সমাবেশ করেন। তাদের অভিযোগ, অতিথিরা বেড়াতে এসে তাদের সঙ্গে অসাদচরণ করেন। বার্সেলোনার মানুষরা পর্যটকদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন। আর তাদের ‘আমাদের জীবন নষ্ট’ না করার অনুরোধও করেন। ইতালির রোম, তুরিন, ফ্লোরেন্স আর মিলানের মতো শহরগুলোতে রাতের বেলা বাইরে চমৎকার সব স্থানে সবাই পানাহারের জন্য যেতেন।
কিন্তু পর্যটকদের অত্যাচারে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পর্যটনবান্ধব এসব শহরগুলোর রাস্তা-ঘাট ট্যুরিস্টদের অত্যাচারে অসহনীয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ফ্লোরেন্স ট্যুরিজম ক্যাম্পেইনে পর্যটকদের সাবধান করে দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, অসামাজিক আর বাজে ব্যবহারের জন্য পর্যটকদের বড় ধরনের জরিমানা গুনতে হবে।
ইউএনডাব্লিউটিও এর সেক্রেটারি জেনারেল তালেব রিফাই এক বিবৃতিতে বলেন, যখনই আর যেখানেই আপনি ভ্রমণে যান না কেন, সেখানকার প্রকৃতি, সংস্কৃতি আর স্থানীয়দের সম্মান করতে শিখুন। এই পৃথিবীর যে পরিবর্তন আপনি দেখতে চান, তার উপলক্ষ আপনিই হতে পারেন। এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের প্রতিনিধি আপনিই হতে পারেন।
ইউএনডাব্লিউটিও’র ক্যাম্পেইনে যে উপদেশগুলো দেওয়া হবে তা বিভিন্ন ভাষায় প্রচার করা হবে। এখানে ইউএন এর হ্যান্ডবুক থেকে কিছু অংশ জেনে নিন। বাকিটা এমনিতেই বুঝবেন। তা ছাড়া প্রত্যেক মানুষের শিক্ষা ও সাধারণ জ্ঞান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাকে সচেতন করতে পারে।
১. যে দেশে বা যে স্থানে যাবেন, সেখানকার মানুষদের প্রতি সম্মানবোধ থাকতে হবে।
২. স্থানীয়দের ভাষার কিছু শব্দ শিখে নিন। এতে করে তাদের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাওয়া কিছুটা হলেও সহজ হবে। তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে উঠবে।
৩. যেখানে যাবেন সেখানকার মানুষের ছবি তোলার আগে অবশ্যই তাদের অনুমতি নিয়ে নেবেন। কারণ প্রত্যেকেরই গোপনীয়তার বিষয় আছে।
৪. কোথাও গিয়ে এমন কোনো পণ্য কিনবেন না, যেটা বানাতে বিরল কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণীকে ব্যবহার করা হয়েছে।
৫. কোথাও গিয়ে পানি ও শক্তি খরচের বিষয়ে মিতব্যয়ী হবেন। অযথা বেশি বেশি নষ্ট করবেন না।
৬. প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত এলাকায় জোর করে ঢোকার চেষ্টা করবেন না। যেসব স্থান সবার জন্য উন্মুক্ত সেখানেই যান।
৭. স্থানীয় অর্থনীতি রক্ষায় তাদের বানানো পণ্য কিনুন। স্থানীয় হস্তশিল্পকে উৎসাহ দিন। তাদের পণ্য কিনতে যৌক্তিক দাম পরিশোধ করুন।
৮. ওই স্থানের বা আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ কোনো পণ্য কেনার চেষ্টা করবেন না। এসব কিনতে জাল অর্থ ব্যবহারেরও চেষ্টা করবেন না।
৯. ভ্রমণকালে স্বাস্থ্যরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিন। খাদ্য গ্রহণের বিষয়ে সাবধাণ থাকুন। বিদেশ গেলে যেকোনো প্রয়োজনে নিজ দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।