Tue. May 6th, 2025
Logo Signature
Agrani Bank
Rupali Bank
Advertisements

খােলা বাজার২৪। সোমবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৭: বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া রোববার এক সমাবেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচি টি ইমাম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ব্যক্তি কোনো বিষয় নয়, উনি (খালেদা জিয়া) শেখ হাসিনা বলছেন কেন, উনি ব্যক্তি নিয়ে আলোচনা করেন। নির্বাচনের সময় ৯০ দিনের যে সরকার থাকবে তা অন্তবর্তীকালীন সরকার। আমরা মনে করি এ সরকারই সহায়ক সরকার। এই সরকারই সকল সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অন্তবর্তীকালীন সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ সরকারই হবে সহায়ক সরকার যারা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবে। উনি (খালেদা জিয়া) অন্তবর্তীকালীন সরকারের কথা কেন বলছেন না। ওই দিক থেকে তো ধারে কাছে যান না। উনি ব্যক্তি নিয়ে আলোচনা করেন। ব্যক্তি তো বিষয় নয়। প্রশ্ন হচ্ছে ৯০ দিনের যে সরকার থাকবে, অন্তবর্তীকালীন সরকার। আমরা মনে করি এই সরকারই হচ্ছে সহায়ক সরকার। এই সরকারই সকল সহায়তা করবে। সংবিধানে আদেশ দেওয়া হয়েছে নির্বাহী বিভাগকে এবং অন্তবর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রীকে। তিনিতো অন্যরকম কোনো সিদ্ধান্তই নিতে পারবেন না। প্রকৃতপক্ষে ওই সময় ক্ষমতাটা চলে যায় নির্বাচন কমিশনের কাছে।

কিন্তু খালেদা জিয়া যেটা বলছেন নির্বাচন হতে হবে নিদর্লীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, এ প্রশ্নের জবাবে এইচ টি ইমাম বলেন, হ্যা নিদর্লীয় তো নিরপেক্ষ বটেই। ওই সময়তো নিরপেক্ষ হয়েই যান।

কিন্তু খালেদা জিয়া তো বিশ্বাস করতে পারছেন না যে শেখ হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে। এ প্রসঙ্গে ইমাম বলেন, পারেতো উনি দেখেছেন। এই যে শেখ হাসিনার সময়ে সিটি কর্পোরেশনগুলোর নির্বাচন হয়নি। সেগুলো কি নিরপেক্ষ হয়নি। তাহলে আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রুলিং পার্টি হওয়া সত্ত্বেও এখানে আমরা কিভাবে হেরে গেলাম। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হয়েছে।

সেটা স্থানীয় নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে তফাৎ আছে, সেটা নিয়ে আগেও অনেক কথাবার্তা হয়েছে। তার মানে আপনারা বলছেন যে শেখ হাসিনার সরকারের প্রধান থেকেই নির্বাচন হবে কিন্তু বিএনপি বলছে যে, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। তাহলে কি হবে রাস্তাটা কোথায়?

এ প্রশ্নের জবাবে ইমাম বলেন, আমি যেটা মনে করি, আমরা যদি, সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে চাই তাহলে এক রাস্তা, আর আপনি যদি বলেন যে সংবিধানে বিশ্বাস করি না তাহলেতো ভিন্ন কথা।

এখানো কি কোনো নেগোসিয়েশন বা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমঝোতায় আসার কোনো সুযোগ আছে? দুই তরফেই ছাড় দিয়ে?

এ ব্যাপারে ইমাম বলেন, এটি কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না কোনোরকম ব্যবস্থা করা যাবে না, আমি মনে করি ওগুলো নির্বাচনকালীন সময়ে তখন এবং এখনো সময় হয় নাই। এগুলো নিয়ে পরে হয়ত দেখা যেতে পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দলের সভাপতি তিনি কি বলেন, এক ব্যক্তির ইয়ে নয়, দলের প্রেসিডিয়াম আছেন, কেন্দ্রীয় কমিটি আছে তাদের হাতেই সমস্ত ক্ষমতা, তারা কি করেন, এ নিয়ে হয়ত আলোচনা হতে পারে তখন দল যা সিদ্ধান্ত দেবে সেইটাই হবে।

গত নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায়, ওই নির্বাচন যেমন একটা প্রশ্নবিদ্ধ, এখন যদি এমন পরিস্থিতি হয় তো সেখানে বিএনপি অংশগ্রহণ না করে, বিএনপিকে ছাড়া নির্বাচন হয়, সেই ঝুঁকিটা, প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হওয়ার ঝুঁকিটা কি আওয়ামী লীগ আবার নেবে?

এ প্রশ্নের জবাবে এইচ টি ইমাম বলেন, এখানে একটি বিষয় আছে, বিএনপি যদি এবার নির্বাচনে না আসেন, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিএপি কিন্তু রেজিস্ট্রেশন হারাবেন। সেক্ষেত্রে কি করবেন আমি আপনার কাছে পাল্টা প্রশ্ন করি, আপনি জিজ্ঞেস করুন তাদেরকে?

না সেটাতো বিএনপির ভবিষ্যত কি সেটা বিএনপির দলের ভাবনা, কিন্তু আমি জানতে চাচ্ছি আওয়ামী লীগ সরকারের বা আওয়ামী লীগের ভাবনাটা কি? তারা কি ‘এ্যাফোর্ট’ করবে বিএনপিকে ছাড়া আরেকটি নির্বাচন?

এ প্রশ্নের জবাবে ইমাম বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং দলের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা বারবার বলেছেন, সবসময় বলেছেন, তিনি বলেছেন, আমরা সামনের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য দেখতে চাই। এটি করতে যা যা করতে হয় তা করব। কাজেই তিনি পরবর্তীকালে কি সিদ্ধান্ত নেবেন, সেটা আমরা তাই মেনে নেব। ( বিবিসি বাংলার পক্ষে এ সাক্ষাতকার গ্রহণ করেন মিজানুর রহমান খান মন্টি)