Sat. Apr 5th, 2025
Logo Signature
Agrani Bank
Rupali Bank
Advertisements

খােলাবাজার২৪, বুধবার , ২৬মে, ২০২১ঃ রাজধানীর গুলশানের ভাড়া বাসা থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়ার লাশ উদ্ধার হওয়ার এক মাস পর ডাকা সংবাদ সম্মেলনে তোপের মুখে পড়েছেন এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলার বাদী মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান তানিয়াসহ আয়োজকরা।

বুধবার (২৬ মে) ‘মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কেন্দ্রীয় সংসদ’ নামে দুটি সংগঠনের ব্যানারে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিতর্কিত একজন আইনজীবী ও নুসরাতসহ কয়েকজন বক্তব্য রাখেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তোপের মুখে পড়ে  মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান তানিয়াসহ আয়োজকরা। বুধবার ‘মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কেন্দ্রীয় সংসদ’ নামে দুটি সংগঠনের ব্যানারে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিতর্কিত একজন আইনজীবী ও নুসরাতসহ কয়েকজন বক্তব্য রাখেন। পরে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে না পেরে তারা একপর্যায়ে সংবাদ সম্মেলন ছেড়ে চলেযান।

সংবাদ সম্মেলনে তারা গুলশান থানায় পুলিশের মামলা রেকর্ড ও মামলার তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তাদের সম্পর্কে বিষোদগার করেন। তারা বলেন, ঘটনাটি হত্যা। তাই আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলা এখানে চলতে পারে না। এই মামলার তদন্তের এখতিয়ার পুলিশের নেই।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের একপর্যায়ে মুনিয়ার বড় বোন ও আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলার বাদী নুসরাত বলেন, মুনিয়া ছিল তার অবাধ্য। সে তার কথা শুনত না।

টাকার ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ :সংবাদ সম্মেলন শেষে টাকার ভাগাভাগি নিয়ে আয়োজকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় এক নারীকে বলতে শোনা যায়, যা কথা হয়েছিল আমরা তা পাইনি। আমাদেরকে বলা হয়েছিল মাথাপিছু ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। এখন দেওয়া হলো ৫০০ টাকা। শুনেছি শারুন সাহেব (চট্টগ্রাম-১২ আসনের সাংসদ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন) আজকের সংবাদ সম্মেলনের জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ করেছেন। অন্যায়ের বিচার চাইতে গিয়ে আমরাই বড় অন্যায়ের শিকার হলাম।

এ সময় আয়োজকদের একজন বলেন, আমি যা পেয়েছি আপনাদের ভাগ করে দিয়েছি। আপনারা কি আমাকে বিশ্বাস করেন না।এদিকে মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহের জন্য হুইপপুত্র শারুনের টাকায় এই সংবাদ সম্মেলন বলে মন্তব্য করেছেন মৃত মুনিয়ার বড় ভাই আশিকুর রহমান সবুজ।

তিনি বলেন, আমি মনে করি পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে দেওয়া উচিত। তাহলেই প্রকৃত ঘটনা উঠে আসবে। আমি প্রমাণ করে দেবো শারুন আমার ছোটো বোনকে হত্যা করেছে। তার সঙ্গে মিশে আমার এক বোনকে দুনিয়া ছাড়তে হয়েছে। আরেক বোন এখনও তার ফাঁদে রয়েছে। কোনো গোপন বিষয় রয়েছে যে কারণে শারুনের খপ্পর থেকে বের হতে পারছে না।

সবুজ বলেন, সংবাদ সম্মেলন শেষে প্রেসক্লাবের পুর্ব গেটে টাকা ভাগাভাগি নিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। ওদের একজন আমাকে ফোন করে জানিয়েছে ঘটনার কথা। আমি পুলিশকে অনুরোধ করবো, এসব উপযাচকদের কথায় বিভ্রান্ত হবেন না। আপনারা সুষ্টুভাবে তদন্ত করে যান, প্রকৃত অপরাধি যেনো ছাড়া না পায়।

সংবাদ সম্মেলন শেষে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও সামান্য হাতাহাতির ঘটনার কথা জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরাও। মামুন নামে এক রিকশা চালক জানিয়েছেন তিনি রিকশা থামিয়ে চা পান করছিলেন, প্রেসক্লাবের গেটে জটলা দেখে এগিয়ে যান। সেখানে কয়েক জনের মধ্যে তুমুল তর্ক দেখতে পান। একজন বলছেন, আমি সংগঠনের নেতা, আমাকে হিসেব দিতে হবে। কেনো আগে থেকে জানানো হলো না?

সাংবাদিকরা ঘটনার ভিডিও করতে ধরলে তাদের নেতা মেহেদী হাসান এসে বলেন, এই এখানে ঝগড়া করোনা। অফিসে গিয়ে আলোচনা করবো। এখানে কিন্তু অনেক সাংবাদিক রয়েছেন। তারপর তারা তর্ক করতে করতে আব্দুল গনি রোডের দিকে চলে যান। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের ব্যানারে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হলেও, শারুনের লোকজন আশপাশে ঘুর ঘুর করতে দেখা যায়। তাদের একজন সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের কপি প্যাকেট থেকে বের করে দেন।