
খােলাবাজার২৪, সোমবার, ৩১মে, ২০২১ঃ মুনিয়া আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলার বাদী নুসরাত তানিয়ার ব্যাংক একাউন্ট খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। মুনিয়ার মৃত্যুর আগে ও পরে তার ব্যাংক একাউন্টে কারা টাকা দিয়েছে, তা তদন্তের স্বার্থে জানা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এক মাসের বেশী সময় মুনিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে বাদী নুসরাতের কিছু অস্বাভাবিক তৎপরতা চোখে পরছে। মামলার তদন্তকে প্রভাবিত করতে বাদী বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বিপুল অর্থ খরচ করছেন।
গত বুধবার নুসরাত জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন। মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডার এবং মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মের ব্যানারে এই সংবাদ সম্মেলনের টাকা কে দিলো সে প্রশ্ন উঠেছে। সংবাদ সম্মেলনের পর টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়েও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এছাড়াও মুনিয়ার মৃত্যুর পর বড় বোন নুসরাত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নানারকম অপপ্রচার করছেন। এগুলোকে টাকা দিয়ে বুষ্ট করা হচ্ছে। মূলধারার গণমাধ্যমগুলো নুসরাতের মামলার আসল উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে, এখন আর এ বিষয়ে উৎসাহ দেখাচ্ছে না। ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেদারছে টাকা খরচ করে, মামলার তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন নুসরাত। তাছাড়া, নুসরাত দামী গাড়ীতে করে নিয়মিত ঢাকা-কুমিল্লা আসা যাওয়া করছেন। প্রশ্ন উঠেছে একজন ব্যাংক চাকুরে কিভাবে এতো টাকা পেলেন। তদন্তকারী কর্মকর্তারা প্রথম থেকেই বলে আসছেন তারা নিরপেক্ষ এবং নির্মোহভাবে তদন্ত করবেন। মামলায় প্রভাব বিস্তারের জন্য তারা যেন চেষ্টা না করে, সে অনুরোধও করা হয়। কিন্তু তারপরও নুসরাত বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। এমনকি এখন তদন্তকারীদের দুষছেন নুসরাত। তার এই অতি উৎসাহ মামলার তদন্তের একটি বড় সূত্র বলে মনে করা হচ্ছে।
অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, নুসরাত যদি সত্যি সত্যি মুনিয়ার মৃত্যুর কারণ জানতে চাইতেন এবং সেই প্রেক্ষিতে ন্যায়বিচার প্রত্যাশী হতেন, তাহলে তিনি পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন। এরপর স্বাভাবিক তদন্তে তিনি সহায়তা করতেন। কিন্তু তিনি সেটি করেননি। এতে এরকম ধারণা তৈরি হয়েছে যে, নুসরাতের এই মামলার পেছনে অন্য কারো হাত রয়েছে। যেকোনো প্রকারে বিশেষ কাউকে ফাঁসানো বা হয়রানি করানোর উদ্দেশ্যেই এই মামলা করা হয়েছে। এটি মুনিয়া আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এটি প্রমাণ করা গেলে মামলাই থাকে না। আর এটি প্রমাণের জন্যই নুসরাতের টাকার উৎস খোঁজাটা অত্যন্ত জরুরী। তদন্তকারী সূত্র বলছে, নুসরাতের ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত কাগজপত্রের জন্য তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অনুরোধ করবে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, নুসরাতের ব্যাংক একাউন্টের তথ্যই এই মামলার তদন্তের মোড় পাল্টে দিতে পারে।