Sat. Apr 5th, 2025
Logo Signature
Agrani Bank
Rupali Bank
Advertisements
খােলাবাজার২৪, মঙ্গলবার, ০১ জুন, ২০২১ঃ মুনিয়ার আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলাটি ১০ কোটি টাকার চুক্তিতে হয়েছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। মামলা করে বিশেষ কাউকে ফাঁসিয়ে দেয়া এবং সরকার বিরোধীদের জন্য ইস্যু সৃষ্টির জন্যই বাদী নুসরাতকে এই টাকা দেয়া হবে। মুনিয়ার মৃত্যুর আগেই এব্যাপারে চুক্তি হয় বলেও জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র গুলো বলছে, মুনিয়া না মারা গেলেও অন্যরকম মামলা করা হতো। মুনিয়া যখন বেঁচে ছিলো, তখনই নুসরাত বসুন্ধরা গ্রুপের এমডির বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য প্ররোচনা দেন। এজন্য নুসরাত মুনিয়াকে শাসিয়েছিলেন। মূলত: চট্টগ্রামের একজন ব্যাংক কর্মকর্তার আত্মহত্যার পর হুইপ পুত্র শারুনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগ ওঠে। প্রয়াত ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী, ন্যায় বিচারের দাবীতে সোচ্চার হন। এটি নিয়ে দেশের গণমাধ্যমে ব্যাপক লেখালেখি হতে থাকে। এসময় নুসরাতের সঙ্গে যোগাযোগ করেন শারুন। শারুনের টাকায় মুনিয়া এবং নুসরাত চলতেন। একাধিক সূত্র বলছে, এসময় শারুন মুনিয়াকে বসুন্ধরার এমডির বিরুদ্ধে ব্যবহার করার পরিকল্পনা আঁটেন। প্রথম পরিকল্পনা ছিল, মুনিয়াকে দিয়েই বসুন্ধরার এমডির বিরুদ্ধে মামলা এবং সংবাদ সম্মেলন করা হবে। কিন্তু মুনিয়া এটা করতে রাজী হয়নি।
বিভিন্ন সূত্র বলছে, মুনিয়া তার বড় বোন নুসরাতকে বলেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে আনভীরের সঙ্গে তার যোগাযোগ নেই। এসময় নুসরাত তাকে চাপ দেন। তখন মুনিয়া তাকে ঢাকায় আসতে বলেন। এরকম মামলা এবং সংবাদ সম্মেলন না করে মুনিয়া আত্মগোপনে যেতে চেয়েছিলেন। মুনিয়া যে ফ্লাটে ভাড়া থাকতেন, সেই বাড়ীর মালিকের স্ত্রীর কাছেও মুনিয়া অন্যত্র কোথাও কিছুদিন লুকিয়ে থাকার কথা বলেছিলেন। এরকম একটা জায়গা ঠিক করে দেয়ার জন্যও অনুরোধ করেছিলেন। কারণ মুনিয়া জানতো শারুন হিংস্র প্রকৃতির। আনভীরের বিরুদ্ধে কিছু করতে রাজী না হলে, তাকে মেরে ফেলা হতে পারে, এমন শঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন মুনিয়া। মুনিয়া রাজী হচ্ছে না, একথা যখন নুসরাত শারুনকে বলেন, তখন শারুন নুসরাতকে ১০ কোটি টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেন। এরপর শারুন নিজেই মুনিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শারুন যখন বুঝতে পারেন মুনিয়াকে দিয়ে মামলা করালে হিতে বিপরীত হয়ে যেতে পারে, তখনই মুনিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা নেয়া হয়। মুনিয়ার বড় ভাই সবুজও মনে করেন, শারুনই মুনিয়াকে হত্যা করেছে। হত্যা করে নুসরাতকে দিয়ে সেই সাজানো মামলা ভিন্ন ভাবে করা হয়। এই মামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল গণমাধ্যমকে শারুন ইস্যু থেকে সরিয়ে নেয়া। হেফাজত এবং যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠীও তাদের স্বার্থে মুনিয়া ইস্যু লুফে নেয়।