খােলাবাজার২৪, মঙ্গলবার, ০৮জুন, ২০২১ঃ মুনিয়ার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটিংয়ের স্ক্রিনশট নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ওই আলাপনটি ছিল হুইপপুত্র নাজমুল করিম চৌধুরীর (শারুন চৌধুরী) সঙ্গে। যদিও শারুন চৌধুরী অস্বীকার করছেন মুনিয়ার সঙ্গে তার এসব কথাবার্তা হয়নি। স্ক্রিনশটগুলোর সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটিংয়ের শুরুতেই শারুনকে মুনিয়া লিখেছেন, ‘উনি তো আমাকে বিয়ে করবে না। কী করবো আমি’ শারুন এর উত্তর দেন এভাবে, ‘আগেই বলেছিলাম, ওর কথা শুইনো না। ও আমার বউকেও বলছে বিয়ে করবে, কিন্তু করে নাই। মাঝখানে আমার মেয়েটা মা ছাড়া হয়ে গেছে। যদিও আমার বউ খারাপ চরিত্রের একটা মেয়ে।’
কথোপকথনের একপর্যায়ে মুনিয়া উল্লেখ করেন, ‘আমার একটা ঝামেলা হয়ে গেছে।’ এজন্য শারুনকে কিছু ছবি ও একটি অডিও রেকর্ডিং দিয়ে রাখবেন বলে জানান মুনিয়া। এরপর মুনিয়া বলেন, ‘যদি আমার কিছু হয় আপনি এটা সবাইকে দেবেন প্লিজ।’
শারুনকে মুনিয়া কয়েকটি ছবি ইনবক্স করে বলেন, ‘আপনি প্লিজ আমি মারা গেলে আমার পরিবারকে দেখবেন।’ একথা শুনে শারুন বলেন, ‘তুমি কিছু করলে বসুন্ধরা গ্রুপ শেষ হয়ে যাবে।’
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটিংয়ে প্রমাণিত হয় মুনিয়াকে আত্মহননে প্ররোচিত করেছেন চট্টগ্রাম-১২ আসনের সাংসদ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে শারুন চৌধুরী, শুধু তাই নয়, ফাঁস হওয়া চ্যাট থেকে স্পষ্ট হয় যে অনেক আগে থেকেই মুনিয়ার সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক হুইপপুত্র শারুনের।
এবিষয়ে মুনিয়ার ভাই সবুজের করা মামলায় হুইপপুত্র শারুন চৌধুরীর নাম আসায় ঘটনাটি নানা ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। বিভিন্ন তথ্যানুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া তথ্যে, মুনিয়া, তার বোন নুসরাতের সঙ্গে শারুন চৌধুরীর পূর্ব যোগাযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যেদিন মুনিয়া আত্মহত্যা করে সেদিনও নুসরাতের সঙ্গে শারুন চৌধুরীর মুঠোফোনে আলাপ হয়েছিল বলে অভিযোগ আছে।
আদালত থেকে পাওয়া নথি অনুযায়ী, আশিকুর রহমান সবুজের মামলার আর্জিতে বলেছে, ‘আমরা তিন ভাইবোনের মধ্যে মোসারাত জাহান মুনিয়া তৃতীয়। তার বয়স ২১ বছর। সে মাধ্যমিক শেষ করে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিল। আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে পড়াশোনার জন্য যথাসাধ্য সহযোগিতা করে আসছিলাম। ইতিমধ্যে আসামি নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনের সঙ্গে আমার বোনের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে মাঝেমধ্যে আসামি শারুনের সঙ্গে কথাবার্তা ও দেখা-সাক্ষাৎ হতো মুনিয়ার। আমার বোনকে হত্যার আগে তার কাছ থেকেই আমি এসব কথা জেনেছি ও শুনেছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় গত দুই বছর আগে আমার বোন নুসরাত জাহান (তানিয়া) ও তার স্বামী মিজানুর রহমানের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে গুলশানে ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাড়িতে ফ্ল্যাট ভাড়া করে। সেখানে আমার ছোট বোন নুসরাত আমার অপর ছোট বোন মুনিয়াকে ওই বাসায় অবস্থানের নির্দেশ দেয়। সেই মোতাবেক মুনিয়া সেখানে অবস্থান শুরু করে।’
সম্প্রতি চট্টগ্রামের এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। চট্টগ্রাম-১২ আসনের সাংসদ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে শারুন চৌধুরী ওই অভিযোগও অস্বীকার করে আসছেন!