Wed. Jun 23rd, 2021

খােলাবাজার২৪, বুধবার, ০৯জুন, ২০২১ঃ  বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে এখন দুই শত্রু। একদিকে আওয়ামী লীগ শত্রু, আরেক দিকে করোনা শত্রু। এই দুই দানব সবকিছু তছনছ করে দিচ্ছে।

আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় জিয়াউর রহমানের ওপর লেখা বই নিয়ে আয়োজিত মেলার উদ্বোধনকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম এ কথা বলেন।

নেতা-কর্মীদের সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন ‘পৃথিবীর সমস্ত বড় বড় বিজয়, বড় বড় বিপ্লব, বড় বড় অর্জন কিন্তু একটা স্লোগানে, “আমরা করব জয়”। এই স্লোগান দিয়েই আমাদের জয় করতে হবে। শর্টকাট কোনো রাস্তা নেই। একটা যুদ্ধ যখন করতে হবে, সেই যুদ্ধে আপনাকে পুরোপুরিভাবে ইকুইপ্ট হতে হবে। এরা আপনাদের এমনি এমনি ক্ষমতা দিয়ে দেবে না।’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘ডিক্টেটর’ ও ‘কর্তৃত্ববাদী’ বলে অভিহিত করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, তারা জানে যে নির্বাচন করে জিততে পারবে না। সুতরাং নির্বাচন নির্বাচন খেলা করবে, নির্বাচনের নাটক করবে, তামাশা করবে কিন্তু সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে ওরা নিজেদের জয়ী ঘোষণা করবে। যেমন ২০১৮ তে করেছে, যেমন ২০১৪ তে করেছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমি ওদের কথার কী উত্তর দেব, ওদের কথায় ঘোড়াও হাসে।’

এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব ছাত্রজীবনে পুরোনো ঢাকার ঘোড়ার গাড়ি চড়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘ট্রেন থেকে নেমেই আমরা ওই ঘোড়ার গাড়িতে হলে যেতাম। ফুলবাড়িয়া ট্রেন স্টেশন থেকে এসএম হলে ঘোড়ার গাড়ির ভাড়া ছিল চার আনা। আমরা বলতাম দুই আনা, দর-কষাকষি করতাম। গাড়ির চালক ঘোড়ার লাগামটা টান মারত। আর ঘোড়াটা হু হু করে উঠত। তখন চালক বলত, আপনার কথায় তো ঘোড়াও হাইসা ওঠে। আসলে ব্যাপারটা এমন যে ওবায়দুল কাদের সাহেবদের কথায় এখন ঘোড়াও হাসে। কী বলে না বলে ওরা জানে না, আর মিথ্যা বলতে বলতে এমন একটা জায়গায় চলে গেছে ওই যে গোয়েবলসীয় প্রচারের মতো।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘গোয়েবলস ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জার্মানের নাৎসিবাদী ফ্যাসিস্ট হিটলারের প্রচারমন্ত্রী। আপনাদের হাছান মাহমুদের মতো। অনর্গল মিথ্যা বলেই যাচ্ছেন অবলীলায়। খুব শান্ত মেজাজে বলে, জোরেও বলে না, মনে হয় যেন ঠিকই বলছে। এটাকেই বলে গোয়েবলসীয় প্রচার। মিথ্যা প্রচার করতে করতে ওরা জিয়াউর রহমানকে এখন মুক্তিযোদ্ধা দূরের কথা, স্বাধীনতার ঘোষক দূরের কথা, পাকিস্তানের চর ছিল বলে। আজ স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে ওরা ইতিহাসকে এভাবে বিকৃত করছে।’

দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ও অবদানের কথা উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, জিয়াউর রহমানকে কখনো মুছে ফেলা যাবে না। তিনি বলেন, ‘তিনি (জিয়াউর রহমান) আমাদের রক্তে, মজ্জায় চলে গেছেন। আমাদের মানুষের মাথায়-মাথায়, মগজে-মগজে, হৃদয়ে, রক্তকণিকায় চলে গেছে যে জিয়াউর রহমান দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং তলাবিহীন ঝুড়িটাকে তিনি ওপরে টেনে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। এসব বললে ওদের (আওয়ামী লীগ) মেজাজ খারাপ হয়।’

এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম দলের উপস্থিত নেতা-কর্মীদের জিয়াউর রহমানের জীবনকর্মের ওপর লেখা বইগুলো বেশি করে পড়তে বলেন।

জিয়াউর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা যৌথভাবে এই বইমেলার আয়োজন করে।

জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া প্রমুখ।