Fri. Apr 4th, 2025
Logo Signature
Agrani Bank
Rupali Bank
Advertisements

খােলাবাজার২৪,বুধবার,৩০জুন,২০২১ঃ সারাদেশে সড়ক- মহাসড়ক নির্মাণের অন্যতম উপকরণ দেশিয় বিটুমিন উৎপাদনে ২৬ শতাংশ কর নির্ধারণকে অন্যায়, অযোক্তিক ও অন্যায্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন শীর্ষ ব্যবসায়ী ও কর-বিশ্লেষকরা। তাদের অভিযোগ- প্রধানমন্ত্রী শিল্প সুরক্ষা চাইলেও, কিছু সরকারি কর্মকর্তা সঠিকভাবে কাজ করে না। সরকারের ভেতর একটি গোষ্ঠি দেশিয় শিল্প উন্নয়নে বাঁধা সৃষ্টি করছে। শিল্প মালিকরা ক্রান্তিকাল অতিক্রমকরছেন। বিটুমিনে কর কমাতে হবে। বিটুমিন নিয়ে এক দেশে দুই নিয়ম হতে পারে না। আমদানিতে বিশাল ছাড় দিয়ে নজিরবিহীন কর-বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। এই ধরনের রাজস্বনীতি দেশিয় শিল্পের স্বার্থ বিরোধী। সরকারের শিল্প সুরক্ষা নীতির পরীপন্থী। এতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা ডব্লিউটিও’র নিয়মনীতি ভঙ্গ করে আর্ন্তজাতিক বাণিজ্য রীতিনীতি বিরুদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী নুরুল ইসলাম মজিদ হুমায়ূন গতকাল বলেন- বিটুমিন সহ সকল দেশিয় শিল্পখাত সমূহকে সুরক্ষা দেওয়া উচিত। করারোপের ক্ষেত্রে সরকারের শিল্প উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি সংশ্লিষ্টদের বিবেচনায় নিতে হবে।

তবে ব্যবসায়ী- শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন- এফবিসিসিআই সহসভাপতি এম এ মোমেন গতকাল বলেন- স্থানীয়ভাবে বিটুমিন উৎপাদনে প্রায় ২৬ শতাংশ পর্যন্ত করারোপ দেশিয় শিল্পখাতের প্রতি চরম অন্যায়, অন্যায্য ও অযোক্তিক। যেকোন স্থানীয় শিল্পের মূলধনী কাঁচামাল আমদানিতে ৫ শতাংশের বেশি হতে পারে না। দেশিয় শিল্প মালিকরা ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছেন। সঙ্কট উত্তোরণে বিটুমিন উৎপাদন পর্যায়ে কর কমাতে হবে। এরসঙ্গে আমদানিকারকদের কারসাজি ও সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে হবে। এ নিয়ে সংসদেও কথা উঠেছে।
জানা গেছে- বিপুল বিনিয়োগে গড়ে ওঠা দেশিয় বিটুমিন শিল্পে উৎপাদন পর্যায়ে অযোক্তিকভাবে ২৬ শতাংশ পর্যন্ত কর বিদ্যমান থাকলেও, আমদানিতে অনেক কম। বিটুমিন উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে অন্যয্যভাবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বিদ্যমান। অথচ পরিশোধিত বিটুমিন আমদানিতে ভ্যাট নেই। আমদানির বিটুমিন সরবরাহ পযার্যে যেখানে ভ্যাট মাত্র ৫ শতাংশ, সেখানে দেশিয় উৎপাদকের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাটের খরগ রয়েছে। বিটুমিনউৎপাদনে প্রতিটনের কাঁচামাল আমদানিতে খরচ ৫৭০ মার্কিন ডলার হলেও, আমদানিতে তা ২৬০ ডলার। এই বেষম্য মূলক কর কাঠামো বাতিল করে দেশিয় শিল্প সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন বাণিজ্য বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা।
এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য ও রাজস্ব নীতি বিশ্লেষক মনজুর আহমেদ বলেন- দেশিয় শিল্প সুরক্ষায় মোলিক কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ককর কমাতে হবে। বিটুমিন উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল পেট্রোলিয়াম অয়েলস এন্ড অয়েলস অবটেইন্ড মিনারেলস, μুড আমদানিতে শুল্ককর বা সিডি ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা উচিত। আর ১৫ শতাংশ ভ্যাট যেহেতু আমদানিতে নেই, তাই উৎপাদনেও রাখা যাবে না। এরসঙ্গে আগাম কর বা এটি ৩ শতাংশ এবং অগ্রিম আয়কর বা এআইটি ২ শতাংশ বাতিল করতে হবে। কারণ- এই ধরনের কর কাঠামোর মাধ্যমে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা ডব্লিউটিও’র নিয়মনীতি ভঙ্গ করা হয়েছে। যা আর্ন্তজাতিক বাণিজ্য রীতিনীতি বিরুদ্ধ পদক্ষেপ।
ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন- অগ্রিম আয়কর বা এআইটি দিয়ে ব্যবসার পরিচালন খরচ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। অগ্রিম ট্রেড ভ্যাট বা এটিভি আগে ছিলো বাণিজ্যিক আমদানিতে। এখন কাঁচামাল আমদানিতে আগাম কর বা এটি আরোপ করা হয়েছে, এটা প্রত্যাহার করা উচিত। তারমতে- যেখানে তৈরি পণ্য আমদানিতে ভ্যাট নেই, সেখানে উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অযোক্তিক ও অন্যয়। দেশিয় বিটুমিন সরবরাহ পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাটও অপ্রত্যাশিত।
এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআই সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন গতকাল বলেন- প্রধানমন্ত্রী দেশিয় শিল্প সুরক্ষায় গুরুত্ব দিলেও, কিছু সরকারি কর্মকর্তা সঠিকভাবে কাজ করে না। শুধু বিটুমিন নয়, ২৬ শতাংশ কর দিয়ে কোন দেশিয় শিল্প চলবে না। বিশ্বের কোন দেশ নিজের দেশের শিল্প সুরক্ষা না দিয়ে এগুতে পারেনি। আমাদেরও বুঝতে হবে- শিল্প ছাড়া দেশের প্রত্যাশিত উনড়বয়ন হবে না। দেশিয় শিল্প উৎসাহিত না হলে দেশ এগুবে না।
দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশ বা আইসিএবি সাবেক সভাপতি ও কর- বিশ্লেষক হুমায়ূন কবির গতকাল বলেন- দেশিয় শিল্পখাতের উন্নয়নে সরকার ঘোষিত নীতিমালা সমূহে শিল্প সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বিটুমিনে ২৬ শতাংশ কর দিয়ে শিল্প সুরক্ষা হয় না। দেশিয় নতুন শিল্পখাতে সুরক্ষা দরকার। নইলে বিটুমিন শিল্প দাঁড়াতে পাঁরবে না। সরকারের ভেতর একটি গাঁপটি মেরে থাকা গোষ্ঠি শিল্প উন্নয়নে বাঁধা সৃষ্টি করতে অপতৎপড়তা চালাচ্ছে কিনা, সেটা খুঁজে দেখা দরকার। কারণ- দেশিয় শিল্প সুরক্ষা হচ্ছে না। যা সরকার ঘোষিত শিল্প সংμান্ত নীতিমালা পরীপন্থী। সরকারের উচিত হবে, ঘোষিত নীতিমালা ভঙ্গকারিদের খতিয়ে দেখা।
দেশে নি¤œমানের বিটুমিন আমদানি নিয়ে জাতীয় সংসদে গত ২৯ জুন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হারুনুর রশিদ। তিনি ভুয়া সনদ নিয়ে নি¤œমানের বিটুমিন আমদানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এই সংসদ সদস্য বলেন- রাস্তায় বিটুমিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গত একমাস ধরে পত্র-পত্রিকায় নিউজ হচ্ছে। ভুয়া সনদ নিয়ে দেশে নি¤œমানের বিটুমিন আমদানি করা হচ্ছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাচ্ছি এ বিষয়টি দেখা উচিত। তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। ভুয়া সনদ নিয়ে জাহাজ থেকে নি¤œমানের বিটুমিন খালাস করা হচ্ছে। কারা এই নি¤œমানের বিটুমিন আনছে। এর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে।
তথ্যমতে- দেশে এখন ব্যাপক দেশি- বিদেশী বিনিয়োগ প্রয়োজন। অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রথম শর্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। সড়ক ব্যবস্থা প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। টেকসই সড়ক নির্মানের মূল উপাদান হলো- ভালো মানের বিটুমিন। দেশে বিটুমিনের বার্ষিক চাহিদা প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টন। যা অবকাঠামো উনড়বয়নের সাথে সাথে প্রতিবছরই বাড়ছে।
জানা গেছে- বিটুমিনের ব্যবহার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সড়ক নির্মাণ, বিমান বন্দরের রানওয়ে নির্মাণসহ ফুটপাত তৈরির কাজে ব্যবহার হয়। এছাড়াও নহর তৈরিতে বা ট্যাংকের ভিতর প্রলেপ হিসাবে, নদী বা সমুদ্রের কিনারে তটরক্ষক হিসেবে ও নৌকার তলদেশে প্রলেপরুপে বিটুমিনের ব্যবহার হয়। ভারি শিল্পেও এর ব্যবহার হয়। এটি বিদ্যুৎরোধকের কাজেও যুক্ত করা হয়। ইন্সুলেটিং টেপ, জলরোধী কাপড় ইত্যাদী কাজেও ব্যবহার হয়। বার্নিশ, অয়েল পেইন্ট, রাবার এনামেলের বিকল্প ও কোল্ড ষ্টোরেজ, ইলেকট্রোনিক ব্যাটারী, রেফ্রিজারেটর ইত্যাদি তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়।
জানা গেছে- বিটুমিন উৎপাদনে প্রধান কাঁচামাল পেট্রোলিয়াম অয়েলস এন্ড অয়েলস অবটেইন্ড মিনারেলস, μুড। যার এইচ এস কোড ঃ ২৭০৯.০০.০০। এই কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ককর বা সিডি ৫ শতাংশ, ভ্যাট ১৫ শতাংশ, আগাম কর বা এটি ৩ শতাংশ এবং অগ্রিম আয়কর বা এআইটি ২ শতাংশ। এই কর কাঠামো পর্যালোচনায় দেখা যায়- ৫ শতাংশ সিডি সহ মোট আমদানি শুল্ক দাঁড়িয়েছে ২৬ শতাংশ। এ ছাড়া প্রতি ব্যারেলের ট্যারিফ মূল্য ৪০ মার্কিন ডলার নির্ধারিত আছে।
অন্যদিকে দেশে এইচ এস কোড ২৭১৩.২০.১০ এবং ২৭১৩.২০.৯০ এর মাধ্যমে ফিনিসড বা ক্সতরি বিটুমিন আমদানি হয়ে থাকে। ড্রামে বিটুমিন আমদানিতে প্রতিটনের শুল্ককর নির্ধারিত আছে ৪ হাজার ৫০০ টাকা। এরসঙ্গে অগ্রিম আয়কর বা এআইটি ২ শতাংশ এবং আগাম কর বা এটি ৫ শতাংশ। অপরদিকে অন্যান্য বিটুমিন নামে যদি কেউ বাল্ক আকারে আমদানি করে, সে ক্ষেত্রে প্রতিটনে ৩ হাজার ৫০০ টাকা আমদানি শুল্ক নির্ধারিত রয়েছে। এরসঙ্গে এআইটি ২ শতাংশ এবং এটি ৩ শতাংশ প্রযোজ্য হয়।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড- এনবিআরের অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন- বিটুমিন আমদানির চেয়ে উৎপাদনে বাড়তি কর আরোপ, দেশিয় শিল্পের স্বার্থ বিরোধী। সরকারের শিল্প সুরক্ষা নীতিরও পরীপন্থী। দেশিয় শিল্পের সঙ্গে এই ক্সবষম্য মূলক কর কাঠামো যথাযথ কর্তৃপক্ষের সংশোধন করা উচিত। কারণ- শিল্পের সংরক্ষণ ও সুরক্ষার দায়িত্ব সরকারের।
এদিকে সারাদেশের ফিনিসড বা তৈরি বিটুমিন আমদানিতে মূল্য ঘোষণায় কারসাজির তথ্য পাওয়া গেছে। কাস্টমস সূত্র বলছে- অসাধু আমদানিকারকরা আন্ডার ইনভয়েসিং বা দাম কম দেখিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার বিটুমিন ভর্তি ড্রাম খালাস করেন। ফলে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে শুল্কফাঁকি। বাড়ছে বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। রাস্তা নিমার্ণে ব্যবহৃত বিটুমিন আমদানিতে মিথ্যা ঘোষণা থামছে না। ভেজাল বিটুমিন আসছেই, নিরব কাস্টমস। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আসছে বিটুমিন, রাজস্ব ফাঁকি ধরাছোঁয়ার বাইরে। কার্যত বিটুমিন আমদানির পুরো প্রμিয়াই প্রশ্নবিদ্ধ। বিএসটিআই, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ও বুয়েটের অনুমোদন ছাড়াই বিটুমিন আসছে দেশে। আর চট্টগ্রাম বন্দরের একশ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজুসে সেগুলো ছাড়পত্রও পেয়ে যাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি- সিসিসিআই সভাপাতি ও বিটুমিন আমদানিকারক মাহবুব আলম বলেন- আর্ন্তজাতিক বাজারদর দেখে কাস্টমসকে বিটুমিনের শুল্কায়ন করতে হবে। আন্ডার ইনভয়েসিং বন্ধে কাস্টমসের নজরদারি রাখতে হবে। দেশে যেহেতু উনড়বত মানের বিটুমিন উৎপাদন হচ্ছে, তাই আমদানি নিরুৎসাহিত করতে হবে।
জানা গেছে- স্থানীয়ভাবে বিটুমিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান না থাকায় বিটুমিনাস μুডের চেয়ে পরিশোধিত বিটুমিনের আমদানি শুল্ক কম রাখা হয় কেবল মাত্র স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নের স্বার্থে। কিন্তু বর্তমানে গুণগতমান সম্পন্ন বিটুমিন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হওযায় দেশিয় শিল্পের সুরক্ষা বিবেচনায় আমদানি শুল্ক কাঠামো স্থানীয় শিল্প বান্ধব করে পুনরায় নির্ধারন করা প্রয়োজন। জাতীয় বৃহত্তর স্বার্থে দেশীয় শিল্পকে রক্ষার্থে এ ধরনের নীতি আমাদের ও অনুসরন করা উচিত।
এদিকে আমদানি হওয়া ফিনিশড বিটুমিন এবং দেশীয় উৎপাদিত বিটুমিনের স্থানীয় সরবরাহ পর্যায়ের বৈষম্যমূলক চিত্রের দেখা মিলেছে। জানা গেছে- ড্রাম ও অন্যান্য বিটুমিন আমদানিতে কোন অগ্রিম ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর- মূসক পরিশোধ করতে হয় না। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট পণ্যসমুহ ’মূল্য সংযোজন কর’ অব্যহতি প্রাপ্ত। মূল্য সংযোজন কর ও স¤পূরক শুল্ক আইন- ২০১২’র তৃতীয় তফসিল টেবিল-১ অনুযায়ী- বাল্ক বিটুমিন আমদানিতে স্থানীয়ভাবে সরবরাহের ক্ষেত্রে ভ্যাটের হার ৫ শতাংশ। পক্ষান্তরে স্থানীয়ভাবে বিটুমিন উৎপাদনে কাঁচামাল আমদানিতে ১৫
শতাংশ অগ্রিম ভ্যাট প্রযোজ্য, যা সরবরাহ পর্যায়ে সমন্বয়যোগ্য। অর্থাৎ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিটুমিনে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপিত। ফলশ্রুতিতে আমদানি হওয়া বিটুমিনের তুলনায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিটুমিনের উৎপাদন খরচ স্বাভাবিকভাবেই বেশি হবে এবং বাজারে অসম প্রতিযোগিতার কারণে কোনভাবে দেশীয় বিটুমিন উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারবে না।
জানা গেছে- দেশিয় প্রতিষ্ঠান উৎপাদিত বিটুমিনের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা স্বত্ব্ওে শুধুমাত্র নুন্যতম শুল্ক ও ভ্যাট বিদ্যমান থাকায় কিছু সংখ্যক আমদানিকারক স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করছে। ফলে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানসমুহ তাদের উৎপাদিত পণ্যের বিপণন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পেরে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এতে করে আমদানি খাতে দেশের কষ্টার্জিত ক্সবদেশিক মুদ্রার অপচয়ের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর খাতে রাজস্ব আয় বিঘিড়বত হচ্ছে। এ অবস্থা দীর্ঘ মেয়াদি চলতে থাকলে দেশীয় বিটুমিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপμম।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন- টেকসই উন্নয়ন ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার স্থায়ীত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশে প্রথম বিটুমিন এ্যাসফল্ট প্লান্ট স্থাপন হয়েছে। যা দেশিয় চাহিদা মেটিয়ে বিদেশে রপ্তানিতেও সক্ষম। ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী দেশীয় সিমেন্ট শিল্পের গুরুত্ব অনুধাবন করে বাল্ক সিমেন্ট আমদানির উপর ৩০০ শতাংশ ডিউটি আরোপ করে সিমেন্ট শিল্পকে রক্ষা করেছেন। ঠিক তেমনি ভাবে নি¤œমানের বিটুমিন আমদানির উপর উচ্চহারে আমদানি শুল্ক ও অন্যান্য কর আরোপ হবে দেশিয় প্রিমিয়াম মানের বিটুমিন উৎপাদিত শিল্পকে বিকশিত করার অন্যতম পদক্ষেপ।