বৃহঃ. অক্টো ২১, ২০২১


খোলাবাজার২৪,মঙ্গলবার,১২অক্টোবর ২০২১: নাহার আকতার, মোরেলগঞ্জ(বাগেরাহট)সংবাদদাতাঃ বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৩ নং নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন থেকে উৎপাদিত শসা যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা ও বন্দর নগরী চিটাগাং সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। আর এ কারনে শসা উৎপাদনের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে । বাড়ছে শসা উৎপাদনের কৃষকের সংখ্যা। এসব শসা উৎপাদিত হচ্ছে মৎস্য ঘেরের আইলে ।
সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার ১৬ ইউনিয়নের মধ্যে একমাত্র নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন যেখানে প্রতিবছর শত শত মে.টন শসা উৎপাদিত হয়। এ ইউনিয়নে কৃষক রয়েছে ১ হাজার ৩০ জন। এর ৩ শতাধিক কৃষক শসা চাষাবাদে উৎসাহিত হয়ে চলতি বছরে প্রায় শতাধিক ঘেরের আইলের পাশে শসা’ চাষ করছে। জুন-জুলাই মাসে শসা চাষের মৌসুম। দেড় মাস পরেই উৎপাদন ও বিক্রি শুরু করে কৃষকরা। ৩ মাস পর্যন্ত চলে এর উৎপাদন ও বেচা-কেনা। পুরা সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত কৃষকরা শসা বিক্রি করতে পারবেন। সিংহ ভাগ শসা পাইকারী হিসেবে বিক্রি হয়। প্রতি সপ্তাহে ট্রাক ভর্তি শসা চলে যায় ঢাকা -চট্রগ্রাম সহ পাশর্^বর্তী জেলাগুলোতে।
ইউনিয়নের হরতকিতরা গ্রামের কলেজ শিক্ষক মতিয়ার রহমান জানান, গত বছরে তিনি ১০ মে.টন শসা উৎপাদন ও বিক্রি করেছেন। চলতি বছরে তিনি তার ঘেরের আইলে শসা চাষ করে ১৫ মে.টন ফলন পেয়েছেন। গুলিশাখালী গ্রামের কৃষক আব্দুল হাই জানান, ঘেরে মৎস্য চাষ ও ঘেরের আইলে শসা উৎপাদন করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। চলতি বছরে শসা বিক্রি করে প্রথম দিকে তেমন লাভে না হলেও শেষের দিকে তারা ভাল দাম পেয়েছেন।
নিশানবাড়িয়া ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, গতবছরে এ ইউনিয়নে সাড়ে ৩ শ’ ১০ মে.টন শসা উৎপাদিত হয়েছিল । চলতি বছরে ৩ শ’ ৫০ মে.টন শসা উৎপাদিত হয়েছে।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা সিফাত আল মারুফ বলেন, কৃষকরা এ মৌসুমে ঘেরের বৃষ্টির মিষ্টি পানি ব্যবহার করার কারনে শসা সহ অন্যান্য সবজির ফলন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলা কৃষি দপ্তর থেকে এসব কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে । নিশানবাড়িয়ায় ব্যাপকহারে শসা উৎপাদনে কৃষকরা উদ্বুদ্ধ হয়ে বারইখালী ও জিউধরা ইউনিয়নে শসা চাষ শুরু হয়েছে।