১2 মার্চ, খোলা বাজার অনলাইন ডেস্কঃ বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের হলরুমে এ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফিকামলি তত্ত্বের জনক, বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের প্রধান উপদেষ্টা ড. আবদুল ওয়াদুদ।
কাউন্সিল এর শুভ উদ্বোধন করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য সময় কাটিয়ে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু পরবর্তী বাংলাদেশে আজ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে বিস্তর বৈষম্য। গত ৫০ বছরে মানুষে মানুষে যে সীমাহীন আর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি হয়েছে তা দেশ ও জাতির জন্য মোটেও সুখকর নয়। এই বৈষম্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রতিবন্ধকস্বরূপ। সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের সকল দাবির প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করে এবং অতি দ্রুত আগামী পে স্কেলে এই বৈষম্য নিরসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানাই।
‘সকলের জন্য ন্যূনতম পর্যায়ের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিশেষ করে সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের দাবিকৃত- সকলের জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করা, অফিসের যাতায়াতের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করা, রেশনিং সিস্টেম চালু করা- এসব দাবি অতিরিক্ত কিছু নয়। বাজার অর্থনীতিতে প্রতি পাঁচ বছর পর পর পে স্কেল সমন্বয়ের প্রয়োজন আছে। কেননা বাজার সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে না। কিন্তু বেতন ভাতা সরকার চাইলে বাজারের সাথে সমন্বয় করে বর্ধিত করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘দেশ থেকে মুদ্রা পাচার করে কানাডার বেগম পাড়ায় যারা ঘরবাড়ি করেছেন তারা কোনো সরকারি কর্মচারী নয়- তারা দুর্নীতিবাজ, তারা দেশের শত্রু। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা, দুর্নীতিবাজ নেতারা, দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীরা দেশ থেকে সম্পদ পাচার করে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। অথচ ন্যূনতম বেতন ভাতার অভাবে কর্মচারীদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু দুর্নীতিবাজদের নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এসব দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।’
ড আবদুল ওয়াদুদ আরও বলেন, ‘১৯৭৩ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ১০ ধাপের বেতন স্কেলের ঘোষণা দিয়েছিলেন; অথচ আজ বেতন স্কেল দাঁড়িয়েছে ২৩ ধাপে। এই বৈষম্যের রহস্য কী? ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা আজ কাদের হাতে আমরা ছেড়ে দিয়েছি? এমন অনেক কর্মচারী আছে, যারা একই স্কেলে গত ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত কোন পদোন্নতি ছাড়াই চাকরি করে যাচ্ছেন। তাছাড়া মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর ভেদে বেতনেরও বিস্তর বৈষম্য আছে। ২০১৫ সালে যে পে স্কেল দেয়া হয়েছে সেই পে স্কেলে কর্মচারীদের বেতন প্রকৃত অর্থে বাড়েনি। গত ৮ থেকে ১০ বছরে অনেক কর্মচারীর বেতন উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধি পায়নি।’
‘জীবন ধারণের ন্যূনতম ব্যয় বিবেচনায় রেখে, সরকার সরকারি কর্মচারীদের বেতন ভাতা বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সমন্বয় করতে পারে। এর জন্য জাতীয় পর্যায়ে একটি এক্সপার্ট টিম এবং অর্থনীতিবিদদের নিয়ে বেতন ভাতা পর্যালোচনা কমিশন করে সরকারি কর্মচারী তথা দেশের বেতনভুক কর্মকর্তা কর্মচারীদের সার্বিক কল্যাণের জন্য সরকার ব্যবস্থা নিতে পারে। তাছাড়া অন্যান্য উন্নত দেশের মতো সরকারি চাকরিতে নিয়োগ এবং অবসরের সকল কোটা তুলে দেওয়া যেতে পারে। নিয়োগের যেকোন পর্যায়ে মাত্র ৬ মাস ট্রেনিং দিয়েই সরকারি নিয়মকানুন অনুযায়ী একজন দক্ষ এবং অভিজ্ঞ কর্মচারী বা কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিতে পারে। সরকারি চাকরিকে আরও দক্ষ এবং উন্নত করার জন্য স্মার্ট বাংলাদেশের বিকল্প নাই। তবে মান্ধাতা আমলের নিয়োগ বিধির মতো সরকারি চাকরির তালুকদারী এখন থেকে কমিয়ে অতি দক্ষদেরকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সমন্বয় করতে হবে। পাশাপাশি অদক্ষদের ট্রেনিং দিয়ে তাদের বেতন-ভাতার সুবিধা উন্নত করার ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুবা সরকারের ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশের বিনির্মানণর স্বপ্ন কোনভাবেই বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।’
ড. আবদুল ওয়াদুদ আরও বলেন, শুধুমাত্র বেতন বাড়িয়ে দিলেই হবে না, পাশাপাশি সরকারি কর্মচারী এবং কর্মকর্তাদের দক্ষতার সাথে জাতির সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ব্যাপক জনমত গড়তে কর্মচারীদের মধ্যে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের বার্তা সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করা হয়। দেশব্যাপী এই উন্নয়নের বার্তা সকলের মাঝে পৌঁছে দেয়ার জন্য কর্মচারীরা অঙ্গীকার করেন।
বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ২৩ ধাপের পরিবর্তে দশ ধাপে বেতন ভাতার স্কেল সমন্বয়ের জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতি নির্ধারক- বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সবিনয় অনুরোধ জানানো হয়।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ( জাসদ) সাধারণ সম্পাদক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শিরিন আক্তার ও বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ।
কাউন্সিলরদের সমর্থনে মোহাম্মদ ওয়ারেছ আলি পুনরায় সভাপতি ও খায়ের আহমেদ মজুমদার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।