
উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় না করে কক্সবাজারে প্রমোদভ্রমণে ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ভ্রমণে ইউএনও, ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্যসচিব ও সদস্যসহ অন্তত ৩০০ জন। উপজেলা পর্যায়ের সব কর্মকর্তা ও পরিষদের সদস্যরা পাঁচ দিনব্যাপী এ ভ্রমণের আয়োজন করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাঁচ দিনব্যাপী কক্সবাজার ভ্রমণের ব্যয় মেটানো হয় ইউনিয়ন পরিষদ অংশের ১ শতাংশ টাকা উত্তোলন করে। ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায়। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক অলিউর রহমান বলেন, ওই টাকায় ভ্রমণের কোনো বিধান নেই। এমনটা হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভ্রমণ সঙ্গীদের মধ্যে কয়েকজন বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (ইউএনও) উপজেলা প্রশাসনের ১৫ কর্মকর্তা, ১১ জন ইউপি চেয়ারম্যান, বেশ কয়েকজন সদস্য ও ইউপি সচিব তাঁদের পরিবার নিয়ে কক্সবাজারে যান। এ ভ্রমণে অনেকেই বিমানে করে কক্সবাজারে যাতায়াত করেন। উপজেলা প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা ভ্রমণে গেছেন, তাঁরা হলেন উপজেলা কৃষি, প্রাণিসম্পদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন, পল্লী উন্নয়ন, মহিলাবিষয়ক, সমবায়, উপজেলা প্রকৌশলী, পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন, সমাজসেবা কর্মকর্তা, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদ অংশের ১ শতাংশ টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। এ বিষয়ে কক্সবাজারে যাওয়া একজন ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘১ শতাংশ থেকে আমি দেড় লাখ টাকা তুলেছি। এর মধ্যে ১ লাখ ভ্রমণের জন্য দিয়েছি। বাকি টাকা দিয়ে কাজ করব।’ আরেক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি কক্সবাজারে যাইনি। পরিবার নিয়ে ইউপি সদস্যরা গেছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চাপ দিয়ে আমার কাছে ওই তহবিলের ১ লাখ টাকা নেন। একই মন্তব্য করলেন আরেক ইউপি চেয়ারম্যান।
এ তহবিলের টাকা ইউএনও ও উপজেলা প্রকৌশলীর যৌথ স্বাক্ষরে চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়েছে।
ইউএনও আরিফ হোসেন কক্সবাজারে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন। কার টাকায় কক্সবাজার গেছেন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সবাই তাঁদের নিজ টাকা দিয়ে গেছেন। সরকারি টাকায় ভ্রমণ প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। আমরা তাঁদের বরাদ্দ দিয়ে থাকি। তাঁরা কাজ করবেন, আমরা কাজ দেখব। তাঁরা নিজের টাকায়, না কোন টাকায় পিকনিকে গেছেন, সেখানে আমার বলার কিছু নেই। ভ্রমণের এ ৫-দিন তারা ছুটিতে ছিলেন কিনা এ প্রশ্ন করলে তিনি এরিয়ে যান। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, ১ শতাংশের ১৭ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে, বিলাস বহুল এ ভ্রমণে আনুমানিক প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে সুধীমহল বলছে, অতিরিক্ত এ টাকার মূল উৎস কোথায়? খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।