
জানা যায়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর চ্যাংমারী গ্রামের মৃত সালাম হোসেনের পুত্র ইব্রাহিম আলীর সঙ্গে একই গ্রামের পিতা মৃত কাচু মামুদ এর পুত্র আব্দুল ওয়াহাব গং-দের সাথে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে জমিজমা নিয়ে মামলা মোকদ্দমা চলছে।
এরই সূত্র ধরে গত ১৭-০৪-২০২৩ ইং তারিখ রোজ সোমবার আনুমানিক সময় সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ইব্রাহিম আলীর চাচাতো ভাই আব্দুল মোমিন গরু ক্রয়ের জন্য হাটে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলে পথে প্রতিপক্ষের বাড়ির সামনে উপস্থিত হলে প্রতিপক্ষ পূর্বপরিকল্পিত ভাবে লাঠি, ছোড়া, লোহার রড ও দেশি অস্ত্র সহ তার পথরুদ্ধ করে তার নিকট থেকে ২লক্ষ টাকা দাবী করে। সে টাকা দিতে অস্বীকার করলে তার পকেটে থাকা ৫০হাজার টাকা তারা ছিনিয়ে নেয় এবং তার কাছ থেকে জোর জবরদস্তি করে অস্ত্রের মুখে ৩টি নন জুডিশিয়াল সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নেয় ও তার ব্যবহারিত একটি মোটর সাইকেল ভাংচুর করে তাকে এলোপাথাড়ি মারপিট করে। এ সময় সে প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে প্রতিপক্ষ বাড়ির ভিতরে চলে যায় । এ ঘটনায় আব্দুল মোমিন বাদি হয়ে রাজু মিয়া সহ মোট ৬জন কে আসামি করে বিজ্ঞ আমলী আদালত সুন্দরগঞ্জ গাইবান্ধায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনা কে ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য আব্দুল ওয়াহাব বাদি হয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান সহ ১৭ জন কে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানার একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অথচ ঐ দিন নাহিদ হাসান বাড়িতে ই ছিলেন না। বাপ-চাচার সাথে শত্রুতার জের ধরে নাহিদ কেও দোষী করে অভিযোগ করেছে প্রতিপক্ষ।
পরের দিন আব্দুল ওয়াহাব এর লোকজন তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার বিষয় টি জানতে পেরে উত্তেজিত হয়ে ১৮-০৪-২০২৩ ইং তারিখ দুপুর ২টার দিকে আলম মাষ্টারের আঙ্গিনায় দলবল সহ উপস্থিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এ সময় ইব্রাহিম এর বড় ভাই রেজাউল করিম গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে আসামিগন ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারপিট শুরু করে, তার চিৎকার শুনে চাচা ফুল মিয়া, ছোট ভাই ইমাম হোসেন এগিয়ে আসলে তাদেরকেও এলোপাথাড়ি মারপিট করে । এ সময় তাদের মারপিটে রেজাউল করিম ও ইমাম হোসেনের মাথা ফেঁটে যায় এবং ফুল মিয়া মারাত্মক ভাবে আহত হয়ে মাটি তে লুটিয়ে পড়ে, এমতাবস্থায় তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাদের কে আসামির কবল থেকে রক্ষা করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
এ ঘটনায় ইব্রাহিম আলী বাদি হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় ২০ জন কে আসামি করে একটি জিআর মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে কথা হয় সাবেক ইউপি সদস্য আসাদুজ্জামান আলম এর সাথে,তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে আসামি করে মামলা করা মোটেও সমুচিত হয় নি।
এ ব্যাপারে অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা রায়হান (পুলিশ) এর নিকট ফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর বিষয় টি গুরুত্বের সহিত দেখা হবে।
সরেজমিনে ঘটনা তদন্ত করতে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে জানান যে, রাজু দেওয়ানির কারণে এলাকায় অনেক পরিবারে শান্তি নষ্ট সহ মামলা মোকদ্দমা বৃদ্ধি পেয়েছে। তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া দরকার।