সুনান বিন মাহাবুব, পটুয়াখালীঃ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মহিপুর ইউনিয়নের নজিবপুর গ্রামে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন কাজের জন্য ২৫ বছরের প্রাচীণ ৩০টি তাল গাছ ভেকু মেশিন দিয়ে উপড়ে ফেলা হয়েছে। উপজেলা বন ও পরিবেশ কমিটির অনুমোদন ছাড়া সড়কের পাশে তাল গাছসহ বনবিভাগের রোপনকৃত বিভিন্ন প্রজাতির বেশ কিছু গাছের চারা কেটে ফেলা হয়েছে। ফলে বজ্রপাত ঝুঁকি বৃদ্ধিসহ পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, এলজিইডি’র জলবায়ু সহিষ্ণু গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পের আওতায় মহিপুর ইউনিয়নের নজিবপুর গ্রামে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৬ ফুট প্রস্থ মাটির সড়ক সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করেছে মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদ। এ সড়কের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে সড়কের পাশের ২৫ বছরের প্রাচীন অন্তত ৩০টি তাল গাছসহ বনবিভাগের সৃজিত বিভিন্ন প্রজাতির বেশ কিছু গাছের চারা কাটা হয়েছে। এছাড়াও রাস্তা সংস্কারের কাজে ব্যক্তি মালিকানার জমি থেকে মাটি নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে জমি মালিকদের সাথেও সমন্বয় করা হয়নি।
তবে এ ব্যাপারে মহিপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফজলু গাজী বলেন, এলজিইডি’র দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৬ ফুট প্রস্থ সড়ক সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন তাল গাছ কাটতে হয়েছে। তাল গাছগুলো যাদের বাড়ীর সামনে পড়েছে তাদের সাথে কথা বলা হয়েছে।
বনবিভাগ মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, সড়ক সংস্কার কাজ করতে বন বিভাগের সৃজিত গাছ কাটার অনুমতির জন্য ডিএফও’র কাছে চিঠি পাঠাতে হবে। অনুমতি সাপেক্ষে গাছ নিলাম দিয়ে বিক্রীর টাকা সরকারী কোষাগারে জমা দেয়ার পর গাছ কাটা যাবে। এর আগে গাছ কাটলে বন আইনে মামলা করা হবে। এলজিইডির কলাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল বারী পূর্ণ বলেন, সড়ক সংস্কার কাজ করতে আমরা চেয়ারম্যানকে গাছ কাটতে বলিনি। কলাপাড়া ইউএনও জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সড়কের গাছ কাটার বিষয়ে বন ও পরিবেশ কমিটির অনুমতি সাপেক্ষে বিক্রীর টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। পটুয়াখালী বনবিভাগ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, অনুমতি ব্যতীত সরকারী গাছ কাটা অপরাধ। সড়ক উন্নয়নের জন্য অনুমতি প্রাপ্তির পর গাছ কাটা যাবে।
এদিকে স্থানীয়রা এবং পরিবেশবিদরা জানিয়েছে, তালগাছ বজ্রঝুঁকি রোধে অধিক কার্যকর। এই মৌশুমে কালোবৈশাখী ঝড় বেশি হয়। তাই তালগাছ না কেটে আরও রোপন করা উচিৎ। যে অঞ্চলে তালগাছ বেশি থাকে সে অঞ্চলে বজ্রপাত হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কম হয়।