
তার শাসনামলে দোল পূর্নিমায় বাড়ির সামনে বিস্তিন্ন মাঠে দোলের মেলা বসতো। বিভিন্ন এলাকা থেকে দোল সোহারীরা পাহাড়ি সাজে সজ্জিত হয়ে সিংহাসন নিয়ে এই মেলায় অংশগ্রহণ করতো। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর জমিদার বাহাদুর সবকিছু ছেড়ে কলকাতায় চলে যান।
স্থানীয়রা জানান, কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ি। জমিদার ছাড়া এখন এটি অরক্ষিত। একসময় বাড়িটি ছিল দৃষ্টিনন্দন। সেই দৃষ্টিনন্দন বাড়িটির স্থাপনাগুলে হারিয়ে যেতে বসেছে কিছু দুষ্কৃতকারী ব্যক্তিদের কারনে। জমিদার চলে যাওয়ার পর জমিদার বাড়িসহ প্রায় ১৬ একর জমি অবৈধ দখলে। সরকারি লোকজন অনেকে আসে দেখে চলে যায় কিন্তু ক্ষমতাশীল দখলদারদের কাছ থেকে মুক্ত হয়না। এর মধ্যে দেবোত্তরের নামে কয়েক একর জমি আছে যা ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা বসতবাড়ী করে বসবাস করছে এবং দোকানপাট তুলেছে। এর কারনে জায়গার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ির ঐতিহ্যবাহী দোলের মেলা। আমরা এলাকাবাসী সরকারের কাছে জোড় দাবি করছি জমিদার বাড়িটি পূর্ণ সংস্কার সহ জমিগুলো উদ্ধারের ব্যবস্থা করবেন।
মোঃ কেফায়েত আলী জানান, এখানে অনেক মিডিয়ার লোকসহ সাংবাদিকগন এবং সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী আসে কিন্তু এর কোন সংস্কার আমরা এখন পর্যন্ত দেখি নাই। সংস্কারের অভাবে জমিদার বাড়িটি আস্তে আস্তে বিলীনের পথে চলে যাচ্ছে। তিনি আরো জানান, আমরা ছোট থেকে দেখে আসছি জমিদার আমলের এখানে কয়কটি মন্দির রয়েছে। সেখানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূজা আর্চনা করে আসছে।
শ্রী শৈলান চন্দ্র বর্মন জানান, আমার বাবা কৈলাশ চন্দ্র ছিলেন প্রমোদারঞ্জন জমিদার বাড়ির পেয়াদা, তার কাছ থেকে শুনেছি বাহাদুর শ্রী যুক্তবাবু প্রমোদারঞ্জন বকসি তার জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর জমিদার বাহাদুর সবকিছু ছেড়ে কলকাতায় চলে যাওয়ার সময় নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ির সকল মন্দিরে দেবত্তরের নামে কিছু অংশ করে জমি কাগজ কলমে লিখে দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মজিবর রহমান বাবু জানান, প্রতিনিয়ত দুর-দুরান্ত থেকে বহিরাগত অনেকেই জমিদার বাড়িটি দেখার জন্য আসে। জমিদার বাড়ির সকল মন্দিরে প্রতিনিয়ত পূজা পার্বণ হয়ে থাকে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি, নাওডাঙ্গা প্রমোদারঞ্জন জমিদার বাড়িসহ জমিদার আমলের এখানকার সকল ঐতিহ্যবাহী মঠ মন্দিরগুলো সংস্কারের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে প্রাচীন নিদর্শন। পূর্ণ সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে জোড় দাবি জানাচ্ছি।
জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ জানান, নাওডাঙ্গা জমিদার বাড়ি এটি একটি পুরাতন নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। এটিকে সংরক্ষণ করার প্রয়োজন রয়েছে। যথাযথ কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের মাধ্যমে সকল সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিলেন তিনি।
তিনি আরো জানান, জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে সরজমিন পরিদর্শন করবে। তাছাড়া অনান্য কোন বিষয় থাকলে সেটিও যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।