বুধ. ফেব্রু ২১, ২০২৪
Logo Signature
Agrani Bank
Rupali Bank
Advertisements

২৩ মে খোলা বাজার অনলাইন ডেস্ক : রাজশাহী ব্যুরো: খাদ্যে ভেজাল ও দুষণ রোধে অংশীজনদের সমন্বয়ে সারাদিন ব্যাপি নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে অবহিতকরণ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ মে) সকাল ১০.৩০ মি: জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ ও দুপুর ৩.০০ টায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর কৃষি তথ্য সার্ভিসের সম্মেলন কক্ষে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০.৩০ মি: সেমিনারে জেলা প্রশাসন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শামীম আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সম্মানিত চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ আব্দুল কাইউম সরকার এবং মুল প্রবন্ধ উপস্থাপক ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্য শিল্প ও উৎপাদন) প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল আলীম।
পরে দুপুর ৩.০০ টার সেমিনারে প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল আলীমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সম্মানিত চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ আব্দুল কাইউম সরকার। দুটি অনুষ্ঠানের প্রবন্ধ উপস্থাপনে প্রফেসর ড. আব্দুল আলীম বলেন, খাদ্যে চার ধরনের ক্ষতিকারক জীবানু থাকে যা স্বাস্থ্যের মারাত্বক ক্ষতিকর। আমরা বর্তমানে মধ্যম আয়ের দেশে পাঁ রেখেছি এবং আগামী ৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্রে পাঁ রাখবো ইনশাআল্লাহ। কিন্তু উন্নত রাষ্ট্র গড়তে হলে অবশ্যই আমাদের সুস্থ্য ও শক্তিশালী মানুষের প্রয়োজন হবে। এর জন্য খাদ্যে নিরাপদতা নিশ্চিত করতে হবে। তাই খাদ্যে ভেজাল ও দুষণ মুক্ত করতে দীর্ঘদিন থেকে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
পরে বিভিন্ন পর্যায়ের আমন্ত্রিত অতিথি ও বিভিন্ন রেস্তোরা থেকে আগতদের সাথে মতবিনিময় করেন তারা। এসময় আগতদের মধ্য থেকে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন করেন এবং পরামর্শ চান। তবে ব্যবসায়ীদের পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন চেম্বার অব কমার্স, রাজশাহীর সভাপতি ও চিলিস চাইনিজ রেস্তোরার মালিক মাসুদুর রহমান রিংকু। রিংকু বলেন, একি জায়গায় দুই রকম আইন ও তার ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ নিঃসন্দেহে ভাল কাজ করছে তবে সবাইকে সমান চোখে দেখতে হবে। বাংলা ও চাইনিজ রেস্তোরাকে একি আইনে বিচার করা যাবেনা। এছাড়াও পণ্য কি কি ভাবে সংরক্ষণ করা যাবে তার উপায় নিশ্চিত করতে হবে। এরপর ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মোঃ মাসুম আলী বলেন, আমরা ইতিমধ্যে পরিক্ষা করে দেখেছি টেষ্টিসল্ট ও হাইড্রোজ মানব দেহের জন্য চরম ক্ষতিকর। তাই এটি বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন।

সবার বক্তব্য শেষে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখেন, বক্তব্যে তিনি বলেন, খাবার হবে ইনজয় বা উপভোগের। কিন্তু এই খাবার যদি ক্ষতির কারন হয় বা সমস্যা হয় তাহলে এই খাবার কেন খাব? খাবারে সবচেয়ে বেশি থাকে ট্রান্সফ্যাট। যা সরাসরি হার্টে ক্ষতি করে। এই ট্রান্সফ্যাটের অন্যতম হচ্ছে পোড়াতেল ও ডালডা দিয়ে খবার পরিবেশন করা। আমরা ইতিমধ্যে পোড়াতেল নিষিদ্ধ করেছি। ডালডাকেও নিষিদ্ধের তালিকায় রেখেছি। তবে সবকিছু আইন দিয়ে সমাধান সম্ভব নয়, এগুলো সমাধানে সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার। তাই আসুন আমরা নিজেরা সচেতন হই অন্যকে সচেতন করি।
এমময় জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কল্যাণ চৌধুরীর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জয়া মারীয়া পেরেরা, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের রাজশাহী জেলা কর্মকর্তা শাকিল আহম্মেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) রেজাউল করিম খান, সোসাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এসডিপি) এর পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম, নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজ রাজশাহীর উপাধ্যক্ষ ড.মোঃ অলীউল আলম, জেলা তথ্য অফিস রাজশাহী পরিচালক মোঃ ফরহাদ হোসেন, আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ জহিরুল ইসলাম, জেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ড. জুলফিকার মোঃ আখতার হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহীর উপ পরিচালক মোঃ মোজদার হোসেনসহ অনেকেই।