০১জুন খোলা বাজার অনলাইন ডেস্ক : খলিলুর রহমান খলিল, রংপুর প্রতিনিধিঃ চলতি বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন অর্থ বরাদ্দ দেওয়া না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়েছেন তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ‘স্তব্ধ রংপুর’ কর্মসূচি শেষে এ হুশিয়ারি দেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
বেলা ১১টায় স্তব্ধ রংপুর কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সংগ্রাম পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ও সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। দাবি আদায়ের জন্য ১১টা থেকে ১১টা ৫মিনিট পর্যন্ত ৫মিনিটের ‘স্তব্ধ রংপুর’ পালন করে সর্বস্তরের মানুষ।
এসময় চলতি বাজেটেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার যদি অর্থ বরাদ্দ না দেয় রংপুরের মানুষ লাল কার্ড দেখাবে উল্লেখ্য করে রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন তিস্তা পাড়ের ২কোটি মানুষের আশা-ভরসার। প্রধানমন্ত্রী নিজেই তিস্তা মহারিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বায়স্তায়ন হলেও রংপুর অঞ্চলে কোনো প্রকল্প নেই। দেশের টাকায় পদ্মা সেতু হলে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশের অর্থায়ন কেন নয়। সারা বাংলাদেশে ৩ লক্ষ কোটি টাকার মেগা প্রজেক্ট চললেও মাত্র ১০ হাজার কোটি টাকা রংপুরে তিস্তার কেন সরকার বরাদ্দ দিচ্ছে না। এই বৈষম্য দূর করতে হবে। সরকার যদি এ বাজেটে অর্থ বরাদ্দ না দেয় রংপুরের মানুষ লাল কার্ড দেখাবে।
তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বৈষম্য দূরীকরণ। কিন্তু রংপুর বিভাগ বরাবরই বৈষম্যের শিকার। আমরা এবারের বাজেটেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বরাদ্দ চাই। পদ্মার মতো তিস্তাও দেশের অর্থায়নে বাস্তবায়ন হোক। তিস্তার কারণে সকালে রাজা সন্ধ্যায় ফকির হচ্ছে হাজারো পরিবার। তিস্তার করাল গ্রামে সর্বস্ব হারিয়ে নিজ দেশেই হচ্ছে শরণার্থী।
তিনি আরও বলেন, সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও রংপুর বিভাগের দুই কোটি মানুষের জন্য ৩৭ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প থাকার কথা ছিল সেটি হয়নি। কোন কোন বছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে রংপুর বিভাগের জন্য মাত্র ০. ৯৮ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছিল।
এদিকে বেলা ১১ টা বাঁজতেই জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় স্তব্ধ কর্মসূচি। এসময় সড়কের দু পাশসহ যে যেখানে অবস্থান করছিল সেখানেই থমকে দাঁড়ান। সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন ছাড়াও অংশগ্রহণে জোরালো হয়ে ওঠে তিস্তা পাড়ের মানুষ বাঁচানোর দাবি।
৫ মিনিটের এ স্তব্ধ কর্মসূচি রংপুরের ২৯টি পয়েন্টসহ তিস্তা বেষ্টিতে বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নে একই সময়ে পালন করা হয় বলে জানিয়েছেন তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান। কর্মসূচিতে দলমত নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে অবিলম্বে বাজেটে অর্থ বরাদ্দসহ ৬দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবি উঠে আসে।