রবি. মে ১৯, ২০২৪
Logo Signature
Agrani Bank
Rupali Bank
Advertisements

প্রস্তাবিত বাজেট জীবন যাত্রার ব্যয় হ্রাস ও স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রাখবে

  -প্রফেসর ড. মো. সেলিম উদ্দিন

বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন (বিএইচবিএফসি)’র পরিচালনা পর্ষদ চেয়ারম্যান, প্রফেসর ড. মো: সেলিম উদ্দিন এফসিএ, এফসিএমএ ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ে তাঁর এক বিশ্লেষণে এ বাজেট মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস ও অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনবে বলে উল্লেখ করেছেন। গত ১ জুন মাননীয় অর্থমন্ত্রীর বাজেট উপস্থাপনের পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ বাজেটে ২০৪১ সালের মধ্যে সুখী-সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রয়াস রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। তিনি ৭ লক্ষ ৬১ হাজার ৭ শত ৮৫ কোটি টাকার এ বাজেটকে এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ বাজেট উল্লেখ করে এতে সাড়ে ৭ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন লক্ষমাত্রার প্রশংসা করেন। এসময় তিনি প্রস্তাাবিত বাজেটটি ২টি সরকার বাস্তবায়ন করবে উল্লেখ করে এর প্রতিটি বিষয়, খাতওয়ারি বরাদ্দ প্রস্তাব, বাস্তবায়ন কৌশল, সরকারের দর্শন, স্বপ্ন ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামলে নেয়ার মতো সকল বিষয়ে সরকার বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে মর্মে মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে মুদ্রাস্ফীতি রোধ, জিডিপির প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখা, মুদ্রা ও রাজস্বনীতির সমন্বয় সাধন, ব্যালেন্স অব পেমেন্ট ঘাটতি হ্রাস, দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা প্রদান প্রচেষ্টা, রপ্তানী বহুমুখীকরণ এবং কর ব্যবস্থা যৌক্তিকীকরণের প্রয়াস প্রস্তাবিত বাজেটটির কতিপয় ভাল ও গুণগত বৈশিষ্ট্য। এ প্রসঙ্গে তিনি করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি, ন্যুনতম ২ হাজার টাকা ও সøাবভিত্তিক সারচার্জ প্রবর্তনের প্রস্তাবের মাধ্যমে জনকল্যাণে অধিকসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ ও আয় বৈষম্য হ্রাসের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন। এছাড়াও, তিনি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং খাদ্য ও নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি, খোলাবাজারে স্বল্প মূলে পণ্য বিক্রি ও ভর্তুকি এবং কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ গুরুত্তারোপের সুফল পাওয়া যাবে বলেও উল্লেখ করেন।
ড. সেলিম তাঁর প্রতিক্রিয়ায়, প্রস্তাবিত বাজেটে কিছু নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী যেমন- কলম, টয়লেট টিস্যু, মোবাইল ফোন– ইত্যাদিতে ভ্যাট আরোপে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে এবং এর ফলে তা বাজেটের মূল লক্ষ্য মুদ্রাস্ফীতি রোধের বিপক্ষে যাবে বলেও উল্লেখ করেন। অবশেষে ড. সেলিম উদ্দিন বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মুদ্রাস্ফীতি রোধ এবং রাজস্ব আহরণের অনেক কৌশল উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, তাঁর মতে, উৎপাদন ব্যবস্থা অব্যাহত রাখাসহ বিভিন্ন সমসাময়িক পরিস্থিতি মোকাবেলার স্বার্থে মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানী এবং শিল্পে জ্বালানী সরবরাহ ঠিক রাখার ব্যপারে এতে আরো বলিষ্ট ভূমিকার কথা উল্লেখ থাকা প্রয়োজন ছিল। সবশেষে, তিনি এ বাজেটের সাফল্য অবশ্যই এর বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করবে বলেও মতামত প্রদান করেন।