Fri. Apr 4th, 2025
Logo Signature
Agrani Bank
Rupali Bank
Advertisements

খোলা বাজার অনলাইন ডেস্ক : ঢাকামহানগর পুলিশের কনস্টেবল আমিরুল ইসলাম পারভেজকে যে বর্বরোচিতভাবে হত্যাকরল বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা, টেলিভিশনের পর্দায় সে দৃশ্য দেখেচোখের পানি আটকাতে পেরেছে, এমন লোক কমই আছে।খুনিদের উন্মাদনা এতটাই পৈশাচিক ছিল যে আশপাশেরবহু প্রত্যক্ষদর্শীও তাদের আবেগ চেপে রাখতেপারেনি।গণতন্ত্রে এমন পৈশাচিকতার স্থানকোথায়? গণতন্ত্রে অগ্নিসন্ত্রাস কিংবা মানুষ হত্যার কোনো সুযোগ আছেকি?

আমিরুলইসলাম পারভেজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার জন্য মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের হাতে শহীদহয়েছেন।একাত্তরে ৩০ লাখ লোকশহীদ হয়ে আমাদের দিয়েছিলেনএক স্বাধীন-সার্বভৌম ভূখণ্ড।

স্বাধীনতারপরও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর উপর্যুপরি আক্রমণহয়েছে দফায় দফায়। দেশকেপুনরায় পাকিস্তান বানানোর অনেক অপচেষ্টা হয়েছে।সে সময়ে একাত্তরের পরাজিতঅপশক্তিকে রুখে দেওয়ার জন্যওঅনেক দেশপ্রেমিককে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে মুক্তিযুদ্ধেরচেতনাবিরোধীদের হাতে। একাত্তরে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যেমন ৩০লাখ বাঙালি শহীদ হয়ে আমাদেরগৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের স্বর্ণময় অধ্যায়ে স্থান পেয়েছেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনারক্ষার জন্য যাঁরা স্বাধীনতাবিরোধীদেরহাতে নিহত হয়েছেন, তাঁরাওশহীদ হিসেবেই শ্রদ্ধাভরে বেচে থাকবেন ইতিহাসের অম্লান পাতায়।

পুলিশসদস্য আমিরুল ইসলাম পারভেজও তেমনি একজন, যিনি ২৮ অক্টোবরশহীদ হলেন স্বাধীনতাবিরোধী পিশাচদেরহাতে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে দেশে পাকিস্তানীকরণপ্রক্রিয়া নস্যাতের জন্য। অতীতেও স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসীদের হত্যা করেছে সেই অসুর গোষ্ঠী, যারা স্বাধীন ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশকে কখনো মেনে নিতেপারেনি।জিয়াউর রহমান আগ্নেয়াস্ত্রের বলে ক্ষমতা দখলেরপর যে শত শতমুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছেন, তাঁরাও পেয়েছেন শহীদের মর্যাদা। যুদ্ধাপরাধী, খুনি, ধর্ষক সাঈদীকে দণ্ডাদেশ দেওয়ার দিন এমন উদ্ভটকথা ছড়ানো হয় যে তাঁকেচাঁদে দেখা গেছে।

সঙ্গেসঙ্গে ধর্মান্ধ স্বাধীনতাবিরোধীরা রাস্তায় নেমে পুলিশ সদস্যসহঅনেক দেশপ্রেমিককে হত্যা করে। তারা সবাইশহীদের মর্যাদায় রয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধকালের ৩০ লাখ শহীদেররক্ত যেমন বৃথা যায়নি, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশকে পাকিস্তানীকরণপ্রক্রিয়া থেকে রক্ষার জন্যযাঁরা রক্ত দিয়েছেন, তাঁদেররক্তদানও বৃথা যাবে না।বীর মুক্তিযোদ্ধা সিকান্দার মোল্লা যেমন বঙ্গবন্ধুর ডাকেজাগ্রত হয়ে মু্ক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়েপড়েছিলেন নিজের জীবন বাজি রেখে, তাঁর দেশপ্রেমী পুত্র শহীদ আমিরুল ইসলামপারভেজও একাত্তরের পরাজিতদের বংশধরদের প্রতিহত করার প্রত্যয় নিয়েঝাঁপিয়ে ড়েছিলেন তাদের ঠেকাতে। তিনি মানুষরূপী দৈত্যদেরআক্রমণে মৃত্যুর শীতল কোলে পতিতহয়েছিলেন বটে, কিন্তু পরাস্তহননি।

মুক্তিযুদ্ধেরচেতনার মানুষ কখনো পরাজিত হয়না। তাঁর রক্ত দেখেউজ্জীবিত হবে লাখ লাখদেশপ্রেমী। সেই রক্তই বহুদেশপ্রেমীর উদ্দীপনার উৎস হয়ে থাকবেযুগ যুগ ধরে।আমাদেরমুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপরে হামলা হলেভবিষ্যৎ প্রজন্ম শহীদ পারভেজের পদাঙ্কঅনুসরণ করে ঝাঁপিয়ে পড়বেস্বাধীনতাবিরোধীদের প্রতিরোধ করতে।

এরইমধ্যে জানা গেছে যেহত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তারকরা সম্ভব হয়েছে। এই কৃতিত্বের জন্যঢাকা মহানগর এবং বাংলাদেশ পুলিশনিশ্চয়ই সাধুবাদের দাবিদার। ২৮ অক্টোবর ঢাকাশহরের সব এলাকায় চালুরাখা হয়েছিল শক্তিশালী সিসিটিভি। তাই ভুল লোকদেরচিহ্নিত করার কোনো সুযোগনেই। এমনকি আমরা অর্থাৎ টেলিভিশনেরদর্শকরাও প্রত্যক্ষ খুনিদের মুখ পরিষ্কারভাবেই দেখতেপেয়েছি।দেখা গেল যেপ্রাথমিক আক্রমণের পর শহীদ পারভেজমাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরও তাঁরওপর আক্রমণ চালানো হলো মারাত্মক অস্ত্রদিয়ে। সে দৃশ্য দেখারমতো ছিল না। এধরনের নিষ্ঠুর মানুষ কমই দেখা যায়।তারা দীক্ষা পেয়েছে তাদের গুরু জিয়াউর রহমানেরকাছ থেকে, যিনি কথায় কথায়মানুষ হত্যা করতে অভ্যস্ত ছিলেন।প্রত্যক্ষ খুনিরা ছাড়াও আইনের দৃষ্টিতে সেসব ব্যক্তি দায়এড়াতে পারে না, যারাহুকুমের আসামি,  উসকানিদাতাবা অপরাধের সহায়ক হিসেবে চিহ্নিত। যারা সেদিন পরিকল্পনামাফিকঢাকা শহরে ত্রাসের রাজত্বসৃষ্টির উদ্দেশ্যে তাণ্ডবের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল, মাস্তানদের আহ্বান করেছিল ঢাকা শহরে এসেতাণ্ডব চালাতে, আইনের দৃষ্টিতে তারাও অপরাধের দায় থেকে বাঁচতেপারে না। জানা গেছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাসসহ আরো কয়েকজনকেও আসামিরতালিকাভুক্ত করা হয়েছে। পৃথিবীরঅন্যান্য সভ্য দেশের মতোবাংলাদেশের ফৌজদারি আইনে সেসব ব্যক্তিওসমানভাবে দায়ী, যারা অপরাধের পরিস্থিতিসৃষ্টি করে, হুকুম দেয়, মৌখিক বা শারীরিক অঙ্গভঙ্গিরমাধ্যমে উসকানি দেয় বা অন্যকোনোভাবে প্রত্যক্ষ অপরাধীদের সহায়তা করে। সে অর্থে২৮ অক্টোবর যারা শহীদ পারভেজেরহত্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তার হত্যাকাণ্ডেসহায়তা করেছিল, তাদের আসামির তালিকাভুক্ত করা আইনেরই নির্দেশ।আইনমন্ত্রী মহোদয় বলেছেন, শহীদ পারভেজ হত্যামামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে। ঢাকামহানগর পুলিশপ্রধান হাবিবুর রহমান