Thu. Apr 3rd, 2025
Logo Signature
Agrani Bank
Rupali Bank
Advertisements

খোলা বাজার অনলাইন ডেস্ক : নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্যরা। বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফেরানোর আহ্বান এবং বিরোধীদলের সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্যরা।

বাংলাদেশ প্রধান বিরোধী দলগুলোর সমর্থকদের কারণে সহিংসতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। জয়ের সম্ভাবনা নেই বলে তারা নির্বাচনকে বানচালের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইইউ রিপোর্টারের রাজনৈতিক সম্পাদক নিক পাওয়েল লিখেছেন, ইইউ-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে কাজ করা নেতৃস্থানীয় একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এমইপিদের (মেম্বার অব ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট) গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকিস্বরূপ সহিংসতার নিন্দা করার আহ্বান জানিয়েছে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ‘ডেমোক্র্যাসি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস ইন বাংলাদেশ’- শীর্ষক ব্রিফিংয়ে এমইপি এবং তাদের সহযোগীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক বাংলাদেশি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক স্টাডি সার্কেল লন্ডনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোজাম্মেল আলী। তিনি রাজধানী ঢাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের দ্বারা সংঘটিত সহিংসতার নিন্দার আহ্বান জানান।

সম্প্রতি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশের ভিত্তিতে বিএনপির সমাবেশের অনুমতি দেয়। জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন দলের সমর্থনে এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড গণতন্ত্র চর্চার স্বাভাবিক অংশ হওয়া উচিত। যদিও বিএনপির সমাবেশ সংঘর্ষে পরিণত হয়।

বিএনপির এ সমাবেশে সংঘর্ষে ব্যাপক অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়। এতে অন্তত এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত এবং আরও অনেকে আহত হন। কয়েকটি শহরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এসব জায়গায় পুলিশের ওপর আরও হামলা, গাড়িতে আগুন এবং ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

মোহাম্মদ আলী এসব ঘটনাকে ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপি এবং তার দোসররা যে সন্ত্রাসবাদের জন্ম দিয়েছিল তার সঙ্গে তুলনা করেন।

তিনি বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে সমর্থন করার জন্য এবং সহিংসতার নিন্দা জানানোর জন্য এমইপিদের আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে গত ১৪ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে আওয়ামী লীগ আবারও নির্বাচিত হতে পারে। বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য লড়াই করেছিল। ১১২ মিলিয়ন ভোটারের বাংলাদেশে তখন অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল।

থিঙ্ক ট্যাংক প্রধান আরও বলেন, পশ্চিমা নীতিনির্ধারককারীদের উচিত কঠোর সমালোচনা না করে এবং ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হয়ে ইসলামী দলগুলোর হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়ার ঝুঁকি না নিয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা করা।

ইউরোপীয় পিপলস পার্টির চেক এমইপি টমাস জেডেচভস্কি এ ব্রিফিংয়ের সভাপতিত্ব করেন। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ ও সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি যুক্তি দেন, সমালোচনার চেয়ে তা অনেক বেশি ফলপ্রসূ হবে।

প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক আইনজীবী ডক্টর রায়হান রশিদ তার মাতৃভূমিকে এমন একটি গণতন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন যেখানে সংবিধানে সব নাগরিকের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত আছে। তিনি মনে করেন, এটি এমন একটি দেশ যেখানে রাজনৈতিক সহিংসতা স্বাধীনতার আগে সংগ্রামের সময়েও ছিল। অন্যান্য দেশকেও অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে, তবে বাংলাদেশের অগ্রগতির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে গুজব বা মিথ্যা তথ্য ছড়ানো। এরপরও দেশটি অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছিল।

শীর্ষস্থানীয় সংবিধান বিশেষজ্ঞ ডক্টর মিজানুর রহমান বলেন, মিথ্যা খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে । তিনি এমইপিদের প্রতি আহ্বান জানান, বাংলাদেশিদের সঙ্গে যেন উপনিবেশিক দিনের মতো আচরণ না করা হয়। ইউরোপকে বাংলাদেশের জন্য বন্ধুত্বের উৎস হতে হবে।

তবে দেশের অভ্যন্তরে যা ঘটছে তার সঙ্গে বাইরের চাপ কীভাবে মিথস্ক্রিয়া করে সে সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তিনি এও বলেন, নতুন কোনো উপনিবেশিক পরিবেশ তৈরি হওয়া উচিত নয়।