সুনান বিন মাহাবুব, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী রাসমেলা ও পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হবে ২৬ নভেম্বর (রবিবার)। সোমবার ঊষালগ্নে সমুদ্রস্নান শেষে সমাপ্তি ঘটবে রাস মেলা ও উৎসবের।
উল্লেখ্য, প্রায় দুইশ বছর ধরে প্রতিবছর পূর্ণিমার তিথিতে এ অঞ্চলে রাসমেলা আয়োজন করা হয়। এ মেলায় হিন্দু পুণ্যার্থীদের পাশাপাশি লক্ষাধিক মানুষের কুয়াকাটায় আগমন ঘটে। রাসমেলা ও সৈকতে পুণ্যস্নানকে ঘিরে কুয়াকাটা রাস উদযাপন কমিটিকে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে থাকেন জেলা প্রশাসন, পৌরসভা, ট্যুরিস্ট পুলিশসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। ভক্তদের জাগতিক পাপ ও রোগমুক্তির আশায় সমুদ্রস্নান ও পূজা অর্চনা আর প্রতিমা দর্শনে পুণ্যার্থীদের সমাগম ঘটে কুয়াকাটায়।
দেখা গেছে, রাসমেলা উপলক্ষে কুয়াকাটার পর্যটন স্পট ঝাউবন, রাখাইন পল্লী, লেম্বুর বন, গঙ্গামতীর চর, বৌদ্ধ বিহার, রাখাইন মার্কেটসহ বিভিন্ন স্পট সাজানো হয়েছে অপরূপ সাজে। ১৭ জোড়া যুগল প্রতিমা প্রস্তুত করা হয়েছে। রাসমেলায় আগতদের থাকা-খাওয়া নির্বিঘœ করতে আবাসিক হোটেল ভাড়া ও রেস্তোরাঁয় খাবারের তালিকামূল্য টাঙানো হয়েছে। পানি ও পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরা হয়েছে। সৈকতের জিরোপয়েন্ট থেকে দুই কিলোমিটার এলাকার মধ্যে টুরিষ্ট পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহল দেবে।
কুয়াকাটা শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ মন্দির ও তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক নিহার রঞ্জন মন্ডল বলেন, প্রায় ২০০ বছরের আগে থেকেই এ রাস পূজা ও রাস উৎসব উদযাপন করে আসছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী রোববার রাতে অধিবাসের মধ্য দিয়ে রাস পূজা শুরু হবে।
এদিকে রাসমেলা উপলক্ষে কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন থেকে সকল নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। পুরো সৈকত সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়াও সাদা পোশাকে থাকবে পুলিশ-র্যাব সদস্যরা। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলম এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।