
পিরোজপুর প্রতিনিধি: আজ ৮ ডিসেম্বর ২০২৩ রোজ শুক্রবার। ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর এই দিনে বরিশাল বিভাগের এই জেলাটি পাক হানাদার বাহিনীর কাছ থেকে মুক্ত হয়। আজকের এই দিনে ৫২ বছর আগে পিরোজপুর জেলার প্রতিটি ঘড়ে উড়েছিলো লাল সবুজের বিজয় পতাকা। তাইতো এই দিনটি পিরোজপুরের ইতিহাসে একটি বিশেষ স্মরণীয় দিন।
ইতিহাস থেকে জানা যায়,
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ সারা বাংলাদেশে পাক হানাদার বাহিনী আক্রমন শুরু করে। কিন্তু পিরোজপুরে পাক বাহিনী প্রথম প্রবেশ করে ১৯৭১ সালের ৪ মে।
পিরোজপুর সহরের নৌ-প্রবেশদ্বার হুলারহাট নদী বন্দর থেকে পাক হানাদার বাহিনী প্রথমেই শহরের মাছিমপুর ও কৃষ্ণনগড় প্রবেশ করে শুরু করে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। এর পরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে ৭ মাস ধরে স্থানীয় শান্তি কমিটি, আলবদর ও রাজাকারদের সহায়তায় বিভিন্ন গ্রামে সংখ্যালঘু ও স্বাধীনতাকামী লোকজনদের বাড়িতে আগুন দেয়া হয়, লুটপাট কার হয় তাদের সম্পদ। হত্যা করা হয় মুক্তিকামী হাজার হাজার মানুষদের।
পিরোজপুর জেলাকে পাক-হানাদার মুক্ত করতে সুন্দবনের সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিনের নেতৃত্বে বীর ২ টি দল ৭ ডিসেম্বর রাতে ১০ টার দিকে পিরোজপুরের দক্ষিণপ্রান্তের পাড়েরহাট বন্দর এবং উত্তর দিকের নাজিরপুর দিয়ে পিরোজপুর সহরের দিকে প্রবেশ করে।
এদিকে মুক্তিবাহিনীর আগমনের খবর পেয়ে পাক হানাদার বাহিনী শহরের পূর্বদিকের কচানদী দিয়ে লঞ্চ, স্টিমার ও বিভিন্ন জাহাজ দিয়ে বরিশালের উদ্দেশ্যে পালিয়ে যায়।
এর আগে স্বরুপকাঠি পেয়ারা বাগানে মুক্তিযোদ্ধাদের গড়ে তোলা দুর্গ পাকবাহিনী আক্রমন করলে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে বহু পাক সেনা নিহত হয়।
এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমনে বিভিন্ন স্থানে পরাজিত হতে থাকে শত্রুবাহিনী।
যুদ্ধে শহীদ হন তৎকালীন মহকুমার পুলিশ পুলিশ প্রধান ফয়জুর রহমান আহম্মেদ, মহকুমার প্রশাসক (দায়িত্ব) মিজানুর রহমার, মহকুমার ছাত্রলীগ সভাপতি ওমর ফারুক ( লোহার রডের সাথে বাংলাদেশের পতাকা বেধে মাথায় হাতুড়ি ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়) ভাগীরথী সাহা ( এক কিলোমিটার মোটর সাইকেলের পেছনে বেধে রাস্তায় টেনে হত্যা করা হয়) ছাত্র নেতা ফজলুল হক, পূর্ণেন্দু বাচ্চু, সেলিম সহ প্রায় ৩৫ হাজার মানুষকে হত্যাকরে পাক বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আরবদর ও তাদের দোসররা। পিরোজপুর অঞ্চলের সম্ভ্রম লুটে নেয় প্রায় ৫ হাজার মা-বোনের।
অবশেষে ৮ ডিসেম্বর পাক বাহিনী পিরোজপুর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়।
পিরোজপুর হয় মুক্ত। প্রতিটি ঘড়ে ঘড়ে ওঠে বিজয়ের পতাকা।