হাসনাত তুহিন ফেনী প্রতিনিধি:- ফেনীতে ব্যক্তি উদ্যোগে ২০১৫ সাল থেকে গড়ে উঠেছে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবার প্রতিষ্ঠান নুরুর নাহার-মনি দাতব্য চিকিৎসালয় ও চক্ষু হাসপাতাল। এই হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই চলছে বিনামূলা চোখের ছানি অপারেশনসহ সবধরনের চিকিৎসা সুবিধা। বর্তমানে উন্নত ও আধুনিক সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষরা।
চিকিৎসালয় ও চক্ষু হাসপাতালে মাসে দুইবার ২০ জন পুরুষ ও ২০ জন্য মহিলা রোগীর চোখের ছানি অপারেশন করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এপর্যন্ত এই হাসপাতালে ৩৩ হাজার ৭শত রুগীর চোখের চিকিৎসা প্রদান করা হয়। চিকিৎসা প্রদান কালে রুগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ প্রদান করা হয়। দেশের বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ঢাকার শমরিতা হাসপাতাল এর ম্যানেজি ডিরেক্টর ও দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. এ বি এম হারুন তাঁর নিজ গ্রাম ফাজিল পুরে এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠান খুলেছেন। প্রতিষ্ঠানটিতে বিনামূল্যে সবধরণের আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা থাকায় শুধু ফেনী জেলার নয়, পার্শ্ববর্তী অন্যানা জেলার রোগীরাও এই হাসপাতালে প্রতিদিন ছুটে আসেন। ৫০ শয্যা বিশিষ্ঠ এ হাসপাতালে রয়েছে পুরুষ, মহিলা, শিশু ওয়ার্ড। হাসপাতালে বর্হিবিভাগে সাধারণ রোগীদের জন্য সকাল ৮টা-বেলা ১টা এবং বিকাল ৪টা-সন্ধ্যা৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে। সন্তাহে পাঁচ দিন সবধরণের রোগীর ব্যবস্থাপত্র ও রোগীদের ফ্রি ঔষধ দেওয়া হয়। চক্ষু চিকিৎসার জন্য আগত যে কোন বয়সের রোগীদের এই হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসক দ্বারা চোখের ছানি অফারেশনসহ সকল প্রকার চিকিৎসা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। অপারেশন, ঔষধ, খাওয়া-দাওয়া, হাসপাতালে থাকাসহ সবকিছুই বিনামূল্যে। এমনকি অসহায় রোগীদের আসা এবং চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার খরচও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বহন করে। এই হাসপাতালে যে সকল রুগীদের চোখের চানি অপারেশন করা সম্ভব হয় না সেই সকল রুগীদের ঢাকার শমরিতা হাসপাতাল পাঠিয়ে ডা. এ বি এম হারুন এর তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
হাসপাতালটির ডাইরেক্টর এ বি এম বোরহান জানান, আমার বড় ভাই ডা: এ বি এম হারুন আমাদের মায়ের নামে এই হাসপাতালটি গড়ে তোলেন। শুধু হাসপাতাল নয় তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য বহুমুখী কার্যক্রম চালু করেছেন। নূরুর নাহার-মনিদাতব্য ও চক্ষু হাসপাতালে রোগ নির্ণয়ের জন্য রয়েছে আধুনিক ল্যাবরেটরি। এই ছাড়া টিকাদান কেন্দ্র, শিশু বিভাগ, মাতৃমঙ্গল কেন্দ্র, ডেন্টাল চেকআপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, চক্ষু পরীক্ষা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেডিকেল চেকআপসহ নিয়মিত আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে। এই ছাড়াও রয়েছে এ্যাম্বুলেন্স সুবিধা।ঢাকার শমরিতা হাসপাতাল এর ম্যানেজি ডিরেক্টর ও দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. এ বি এম হারুন এর পৃষ্ঠপোষকতায় এখানে গড়ে উঠেছে মসজিদ, পাঠাগারসহ ক্ষুদ্র ক্ষুষ আয়বর্ধক কর্মসূচী। বর্তমানে এই হাসপাতালের তৃতীয়তলায় নির্মিত হয়েছে আবুল বাশার চৌধুরী হেফজখানা ও এতিমখানা। এখানে এখন অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে।
চোখের ছানি অপারেশন করা অনেক রুগীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, এখানে অপারেশনে আমাদের কোন কষ্ট হয়নি। আগথেকে চিকিৎসা নেওয়া রুগীদের থেকে তথ্য নিয়ে এ-ই হাসপাতলে আসি এবং চোখের অপারেশন করায়।
এখানে সবকিছু থাকা- খাওয়া, ঔষধ ফ্রি। আমরা আল্লাহর দরবারে এই হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতাসহ জড়িত সবার জন্য দোয়া করি।হআ
হাসপাতালের দেখভালের সাথে যুক্ত থাকা কয়েকজনই বলেন, ফেনীর অঞ্চলে চিকিৎসাসেবার অগ্রদূত এ বি এম হারুন ভবিষ্যতে নিজ গ্রামে বেকারত্ব দূরীকরণে ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনিস্টিটিউট, নাসিং ইনিস্টিটিউট, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ বেশ কিছু কর্মসূচী হাতে নিয়েছেন।
নুরুর নাহার মনি দাতব্য ও চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা ডা: এ বি এম হারুন বলেন, ১৯৭৬ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করার পর মাথায় চিন্তা আসে আমার এলাকায় অনেক গরিব ও দুঃখী মানুষ রয়েছে। আমি একজন চিকিৎসক হিসেবে তাদের জন্য কিছু করা প্রয়োজন। সেই চিন্তা থেকে আমি নিজ গ্রামে আমার মায়ের নামে এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করি। হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর থেকে সবধরণের রুগীদের সেবা প্রদান করা হচ্ছে।এটি শুধু হাসপাতাল নয়, বহুমুখী সেবামূলক কমপ্লেক্স।
যেভাবেই যাবেন এই হাসপাতালে- ফেনী মহিপাল হয়ে, ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে, চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে, বোগদাদিয়া থানার পর, ফাজিলপুর নতুন বাজার সড়ক দিয়ে, কয়েক কিলোমিটার গেলে, পেয়ে যাবেন হাসপাতালটি। ২০১৫ সালের ৬ মার্চ ফেনী শহর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে ফেনী সদর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ফাজিলপুর গ্রামে নুরুর নাহার-মনি দাতব্য ও চক্ষু হাসপাতাল গড়ে উঠে।