Fri. Apr 4th, 2025
Logo Signature
Agrani Bank
Rupali Bank
Advertisements

তোফাজ্জল হোসেন, খোলা বাজার২৪ ॥ বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫
106নরসিংদী পৌরসভার সাবেক মেয়র লোকমান হোসেনের কবর ভাংচুর হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে কে বা কারা নরসিংদী পৌর কবরস্থানে ঢুকে তার কবরে ভাংচুর চালিয়েছে। দুর্বৃত্তরা লোকমানের মূল কবরের উপর টাইল্স নির্মিত রেপ্লিকার কয়েকটি টাইল্স ভাংচুর করেছে। কবরের মধ্যস্থিত মাটিতে লাগানো ফুলের গাছ কোদাল দিয়ে কেটে মাটিসহ উপড়ে ফেলে দিয়েছে। এছাড়াও কবরস্থানে লাগানো স্টিল নির্মিত গ্রীলের বিভিন্ন অংশ ভাংচুর করেছে। ভাংচুর করে যাবার সময় দুর্বৃত্তরা কবরের উপর একটি কোদাল ও একটি নিড়ি কাঁচি ফেলে গেছে।

খবর পেয়ে নিহত মেয়র লোকমান হোসেনের ছোট ভাই বর্তমান পৌর মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল কবরস্থান পরিদর্শন করেন। তিনি সেখানে গিয়ে ভাংচুরকৃত কবর দেখে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি সাংবাদিকদেরকে জানান, যারা মেয়র লোকমানকে হত্যা করেছে তারাই এই কবর ভাংচুর করেছে। তাঁরা ছাড়া আর কেউ এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটতে পারে না।’

কবর ভাংচুর ও বর্তমান মেয়রের অবস্থানের খবর পেয়ে নরসিংদী মডেল থানার ওসি আবুল কাশেম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় বর্তমান মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল কবর ভাংচুরকারী দুর্বৃত্তদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবী জানালে পুলিশ জরুরী ভিত্তিতে দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারের আশ্বাস প্রদান করেন। পরে খবর পেয়ে ঢাকা থেকে সিআইডি’র ক্রাইমসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞগন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা মেয়র লোকমানের কবরের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখেন। কবরের ভাংচুরকৃত অংশ পরীক্ষা নিরীক্ষাকালে সিআইডি বিশেষজ্ঞগন ভাংচুরের আলামত সংগ্রহ করে নিয়ে যান।

উল্লেখ্য, গত ২০১১ সালের ১ নভেম্বর রাতে শহরের পশ্চিম কান্দাপাড়া এলাকায় জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে দুর্বৃত্তের গুলিতে তৎকালীন পৌর মেয়র লোকমান হোসেন নিহত হন। পরে ২রা নভেম্বর লোকমান হোসেনকে শহরের শালিধা এলাকায় পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এরপর তাঁর ছোট ভাই বর্তমান পৌর মেয়র কামরুজ্জামান তাঁর কবরের পাশে একটি স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে কে বা কারা ওই কবরস্থানে ঢুকে ভাঙচুর করে। গত বুধবার সকালে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে লোকমান পরিবারের সদস্যরা সমাধিস্থলে যায়। পরে খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক আবু হেনা মোরশেদ জামান, পুলিশ সুপার আমেনা বেগম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোতাকাব্বীর আহমেদ ঘটনাস্থলা পরিদর্শন করেন। তারা কবর ভাংচুরের নিন্দা জানান।

হঠাৎ লোকমান হত্যার মামলার এজাহারনামীয় আসামীরা কেন সমাধিস্থল ভাঙচুর করবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘এটা পুলিশ তদন্ত করে বের করবে।

লোকমান হত্যা মামলার এজাহারনামীয় এক আসামি বলেন, ‘আমরা মুসলমান, ভয় আমাদের আছে। লাশ বা কবর নিয়ে রাজনীতি আমরা করি না। পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে এটা কোন ষড়যন্ত্র হতে পারে। কোনো কারণ ছাড়াই লোকমানের কবর ভাঙচুর করার ঘটনাটি নিতান্তই রহস্যজনক। আর কবর ভাঙচুর করলে কার লাভ, সেটাও বিবেচনায় আনতে হবে। এটা পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে লোকমানের ভাবমূর্তিকে পূনরায় ব্যবহার করার কৌশল ছাড়া আর কিছু নয়।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আবুল কাসেম বলেন, এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।