খোলা বাজার২৪, বুধবার, ১৩ এপ্রিল ২০১৬: কয়েকটি টেকটোনিক প্লেটের সন্নিহিত এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশ ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে। এর আগে এ অঞ্চলে ১৮৯৭ সালে ১২ জুন রিখটার স্কেলে ৮ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।
বিশেষজ্ঞগণের মতে, প্রায় একশ’ বছর পর পর একই স্থানে অনুরূপ মাত্রার ভূমিকম্প পুনরায় সংঘটনের আশঙ্কা থাকে। গতবছর নেপালে সংঘটিত ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে ধ্বংসযজ্ঞ ও ক্ষয়ক্ষতি এবং সম্প্রতি ৪ জানুয়ারি মনিপুরের ইম্ফলে সংঘটিত ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর বিশেষজ্ঞগণ বাংলাদেশে ভূমিকম্পের আশংকা করছেন।
সরকারি এক তথ্য বিবরণিতে ভূমিকম্প অনুভূত হলে জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, ভূমিকম্প অনুভূত হলে আতঙ্কিত না হয়ে ভূকম্পনের সময় বিছানায় থাকলে বালিশ দিয়ে মাথা ঢেকে টেবিল, ডেস্ক বা শক্ত কোন আসবাবপত্রের নিচে আশ্রয় নিতে হবে। রান্না ঘরে থাকলে গ্যাসের চুলা বন্ধ করে দ্রুত বেরিয়ে আসতে হবে। বিম, কলাম ও পিলার ঘেঁষে আশ্রয় নিতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থানকালে স্কুল ব্যাগ মাথায় দিয়ে শক্ত বেঞ্চ অথবা শক্ত টেবিলের নিচে আশ্রয় নিতে হবে। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, হাসপাতাল, মার্কেট ও সিনেমা হলে থাকলে বের হওয়ার জন্য দরজার সামনে ভিড় কিংবা ধাক্কাধাক্কি না করে দুহাতে মাথা ঢেকে বসে পড়তে হবে।
ভাঙা দেয়ালের নিচে চাপা পড়লে বেশি নড়াচড়া করা যাবে না। শ্বাস নালিতে যাতে ধুলাবালি না ঢোকে সেজন্য কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রাখতে হবে। একবার কম্পন হওয়ার পর আবারও কম্পন হতে পারে। তাই সুযোগ বুঝে বের হয়ে খালি জায়গায় আশ্রয় নিতে হবে।
উপর তলায় থাকলে কম্পন বা ঝাঁকুনি না থামা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তাড়াহুড়ো করে লাফ দিয়ে বা লিফট দিয়ে নামা যাবে না। কম্পন বা ঝাঁকুনি না থামলে সিঁড়ি দিয়ে নেমে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিতে হবে।
গাড়িতে থাকলে ওভার ব্রিজ, ফ্লাইওভার, গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে গাড়ি থামিয়ে ভূকম্পন না থামা পর্যন্ত গাড়ির ভিতরে অবস্থান করতে হবে। ভূমিকম্প পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রত্যেক বাড়িতে ব্যাটারিচালিত রেডিও, টর্চলাইট, পানি এবং প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম একটি ছোট ব্যাগে গুছিয়ে হাতের কাছে রাখতে হবে। যা সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়। তথ্য বিবরণিতে বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণের পরামর্শ দেয়া হয়।