Wed. Jun 17th, 2026

খোলা বাজার২৪ ॥ মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৫: তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বার বলেছেন, উচ্চশিক্ষার জন্য 48ইন্টারনেটে বাংলায় কনটেন্ট নেই। এখানে বাংলায় কনটেন্ট আনতে হবে। যদি বাণিজ্যের কথাও ভাবেন তাহলে এখানে দেখেন কত বাণিজ্য আছে। আমাদের ৪ কোটি শিক্ষার্থী আছেন, তাদেরকে বাংলায় কনটেন্ট দিতে পারলে এর বাজার কত হবে সেটি ভাবেন।
ঢাকার ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে শুক্রবার গুগল ডেভেলপার্স ডেভফেস্টে বাংলা লেখার সফটওয়্যারের উদ্ভাবক মোস্তফা জব্বার এ সব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা লন্ডন, আমেরিকায় বাজার খোঁজে। তাতে যে টাকা রফতানি করে তার কয়েকগুণ বেশি অন্য দেশ থেকে আমদানি করতে হয় আমাদের। এভাবে দেশের বাজার চলে যাচ্ছে বিদেশীদের দখলে। গত কয়েকবছরে তথ্যপ্রযুক্তির বড় যত কাজ হয়েছে তার একটি কাজও দেশী কোম্পানি পায়নি। দেশ ডিজিটাল হবে আর আমার ছেলে-মেয়েরা কাজ পাবে না, বিদেশীরা করবে; এটা ভাবা যায় না। কারণ বাংলা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম বৈজ্ঞানিক ভাষা, পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করলে এর কারিগরি দক্ষতাও সম্ভব।
মোস্তফা জব্বার বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা বাংলা বর্ণমালা সব জানে না। তার মানে, স্কুলে-বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সব পড়ানো হয় না। কম্পিউটারে বাংলা বর্ণমালা তৈরি করতে গিয়ে আমাকে বাংলাবাজারের অনেক গালি শুনতে হয়েছে। কিন্তু এই যেন একই অক্ষর ভিন্ন ভিন্নভাবে লেখার আবদারের জন্য গালি খেলাম, এটাই বাংলা বর্ণমালার বৈচিত্র। এর যুক্তাক্ষরগুলো আমাদের সম্পদ।
‘রোমান অক্ষর মাত্র ২৬ টি, কিন্তু তা পৃথিবীতে কি ধ্বংস করেছে তা বুঝি। ডেনিসদের শতকরা ৫০ জন আজ তার ভাষা পড়তে পারে না। কারণ তারা সহজের জন্য ডেনিস বাদ দিয়ে রোমান অক্ষরে লিখতে শুরু করেছিল। কিন্তু বাঙালী বাংলাকে রোমান ভাষায় লেখাকে প্রতিহত করেছে, করবেও’ বলেন তিনি।
বিজয়-কীবোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ভাষার পরিসংখ্যানেও জালিয়াতি আছে। হিন্দির থেকে আমাদের জনসংখ্যা বেশি, কিন্তু হিন্দির সাথে কিছু উর্দুভাষী জুড়ে দিয়ে দেখানো হয় যে, হিন্দি আমাদের ঊর্ধ্বে। বাংলা আজ বিশ্বের চতুর্থ ভাষা। আর বাংলা ভাষাভাষীর বাইরেও রয়েছে বাংলা হরফভাষী। কারণ অসমীয়রা বাংলা ভাষাভাষী না হলেও তারা বাংলা হরফভাষী, সেভেন সিস্টার্সের অধিবাসীরাও বাংলা হরফভাষী। তাই ৩৫ কোটি বাঙালী থাকলে বাংলা হরফভাষী হবে ৪০ কোটি। এ বৃহৎ জনগোষ্ঠী একদিন ইংরেজ হয়ে যাবে, রোমান হরফের দাস হবে- এটা আমি বিশ্বাস করি না।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক পল্লব মোহাইমেন বলেন, আমাদের প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যে সমস্যা রয়েছে সেটা হল- এখানে কাজ হচ্ছে কোয়ানটিটি নির্ভর। এতে লাভ নেই, মানুষের প্রয়োজনে হলে, মানসম্পন্ন হলে মানুষ তা খুঁজে নিবে। কারণ কম্পিউটারের উপর অনেক সেমিনার করেও আমরা সফল হয়নি, কিন্তু মোবাইল ঘরে ঘরে পৌঁছানোর জন্য একটি সেমিনারেরও প্রয়োজন হয়নি। যদি মানুষের কাজে লাগে, সে বুঝতে পারে তাহলেই সে পয়সা খরচ করবে।
তিনি বলেন, বাংলা ভাষায় প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কাজ করার অনেক কিছু বাকি রয়েছে। এখনো আমরা ওসিআরের সমস্যাই কাটিয়ে উঠতে পারিনি।
অনুষ্ঠানে গুগলের কান্ট্রি ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালটেন্ট খান মো. আনওয়ারুস সালাম বলেন, ভাষাভাষীর দিক থেকে বিশ্বে আমরা অনেক এগিয়ে থাকলেও ইন্টারনেটে ভাষার র‌্যাংকিংয়ে আমাদের অবস্থান ৬০ এর নিচে। রবীন্দ্রনাথ-নজুরলের মত কনটেন্ট থাকলেও আমরা এখনো পুরোপুরি তা আনতে পারিনি। এখনো বাংলায় ভয়েস সার্চ, ওসিআর করতে পারছি না।
তিনি বলেন, আমাদের যথেষ্ট ডাটা নেই। আর এ ডাটা তৈরির কাজ গুগল করবে না। কমিউনিটিকে করতে হবে। নতুন কনটেন্ট আনতে হবে।
অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছে গুগল ডেভেলপারদের উন্মুক্ত প্লাটফর্ম জিডিজি বাংলা। বিশ্বের ১০০ টি দেশে গুগল ডেভেলপারদের প্লাটফর্ম ‘জিডিজি’ থাকলেও জিডিজি বাংলাই কেবল ভাষা নিয়ে কাজ করে। জিডিজি ছাড়াও বাংলাদেশে জিডিজি ঢাকা ও জিডিজি সোনারগাঁও নামে গুগল ডেভেলপারদের প্লাটফর্ম রয়েছে।
ডেভফেস্টের সভাপতি প্রফেসর আখতার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম, ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান খান এ সবুর। দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অংশ নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *