Thu. Jun 4th, 2026

3খোলা বাজার২৪ ॥বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০১৫: সারা দেশের বেসরকারি বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগে কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষা নিয়ে মেধা তালিকা করে দেবে সরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে এই মেধাক্রম অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে।
নতুন এ নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা সংশোধন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ বুধবার বিধিমালাটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রজ্ঞাপনে তারিখ দেওয়া হয়েছে ২২ অক্টোবর।
এ বিষয়ে শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, এখন থেকে নতুন নিয়মে নিয়োগ কার্যক্রম চলবে। ইতিমধ্যে যাঁরা নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাঁরাও নিয়োগের সুযোগ পাবেন। এ ক্ষেত্রে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে আরেকটি মেধা তালিকা করে দেবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ নতুন ও পুরোনো যেকোনো তালিকা থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী নিয়োগ দিতে পারবে। নিবন্ধনের মেয়াদ হবে তিন বছর। আর যাঁরা ইতিমধ্যে নিয়োগ পেয়েছেন এমপিওভুক্তির (বেতন ভাতার সরকারি অংশ পাওয়া) ক্ষেত্রে তাঁদের কোনো সমস্যা হবে না। তাঁরা আগের নিয়মেই এমপিওভুক্ত হবেন। শিগগিরই ‘সার্কুলার’ জারি করে বিষয়গুলো পরিষ্কার করে হবে।
নতুন এই পদ্ধতির ফলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি একচ্ছত্র ক্ষমতা হারাবে। বর্তমান পদ্ধতিতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে নিবন্ধন পরীক্ষা হলেও নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিচালনা কমিটিই একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী। পরিচালনা কমিটি তাদের প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের বিজ্ঞাপন দিলে নিবন্ধন পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীরা আবেদন করেন। পরে পরিচালনা কমিটির অধীনে স্থানীয়ভাবে নিয়োগ কমিটি গঠন করে আবেদনকারী প্রার্থীদের পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগ করা হয়। এতে নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়ম, দুর্নীতি, আর্থিক লেনদেন ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ প্রায়ই উঠছে। বিদ্যমান কাঠামোয় সাংসদসহ সরকার দলের নেতা-কর্মীরাই এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হয়ে থাকেন।
নতুন নিয়মে এনটিআরসিএ প্রতি বছরের নভেম্বর মাসের মধ্যে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে ওই জেলার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পদ ও বিষয়ভিত্তিক শূন্য পদের তালিকা সংগ্রহ করবে। এই তালিকার ভিত্তিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে। প্রথমে একটি বাছাই (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষা হবে। এরপর ঐচ্ছিক বিষয়ে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের উপজেলা, জেলা ও জাতীয়ভিত্তিক মেধাক্রমের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই মেধাক্রম অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে।
কোনো প্রার্থী লিখিত ও মৌখিক উভয় ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর না পেলে তিনি মেধা তালিকায় স্থান পাবেন না। মেধা তালিকার বাইরে আরও ২০ ভাগ প্রার্থীকে অপেক্ষমাণ রাখা হয়। মৃত্যু হলে, চাকরি ছাড়লে বা অন্য কোনো কারণে পদ শূন্য হলে এই তালিকা থেকে শিক্ষক নিয়োগ করা যাবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাছাই পরীক্ষার ফল পরীক্ষা গ্রহণের ২০ দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। অনিবার্য কারণে এই সময় আরও ১০ দিন বাড়ানো যাবে। ঐচ্ছিক বিষয়ে লিখিত পরীক্ষার ফল ৪৫ দিন ও মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের পর ৩০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশের অনধিক ৯০ দিনের মধ্যে এনটিআরসিএ উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তথ্যভান্ডারে নিবন্ধন করবে এবং তিন বছর মেয়াদি প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হবে।
বর্তমানে সারা দেশে এমপিওভুক্ত প্রায় ৩০ হাজার বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *