খোলা বাজার২৪, শনিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৫ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল দেড় দশকেরও বেশি সময় আগে, ক্ষমতার পালাবদলে বিলম্বের পর নতুন উদ্যোগও এক সময় ফিকে হয়ে এসেছিল বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে দ্বন্দ্বে। তবে সব বাধা পেরিয়ে পদ্মার বুকে বহু মানুষের স্বপ্নের সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণ শুরু হচ্ছে এবার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার মূল সেতুর নির্মাণ ও নদী শাসন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই সেতু দিয়ে ঢাকাসহ দেশের পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সড়কপথে যুক্ত হবে দেশের দক্ষিণ জনপদের ১৯ জেলা। সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেনও চলবে।
এরইমধ্যে পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রায় ২৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেছে বলে প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন।
এতোদিন টেস্ট পাইলিং চললেও শনিবার শুরু হবে মূল পাইলিং। এজন্য নদীতে জড়ো করা হয়েছে বিশাল বিশাল ক্রেন, ড্রেজার।
সেতুর ৪২টি পিলারের মধ্যে ৭ নম্বর পিলার মাওয়া পার থেকে নদীর এক কিলোমিটার ভিতরে। এই পিলারের মাধ্যমে কাজ শুরু হবে, যার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নদী শাসন কাজেরও উদ্বোধন করবেন তিনি।
নদী শাসনের জন্য চলছে মাটি ভরাটের কাজ, তীরে কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে তৈরি হচ্ছে ব্লক।
পাইলিংয়ের জন্য প্রস্তুতি। পাইলিংয়ের জন্য প্রস্তুতি। নদী শাসনের জন্য ব্লক তৈরির এলাকায় কর্তব্যরত এক বিদেশি প্রকৌশলী। নদী শাসনের জন্য ব্লক তৈরির এলাকায় কর্তব্যরত এক বিদেশি প্রকৌশলী।
নির্ধারিত ২০১৮ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করে ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই সেতু নির্মাণ হলে মোট দেশজ উৎপাদন এক দশমিক দুই শতাংশ বাড়বে এবং প্রতি বছর শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ হারে দারিদ্র্য কমবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়।
১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় থাকার সময়ই পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু তা শুরু হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় ফিরে পুনরায় পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। প্রকল্পে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ সহায়তার প্রস্তাব নিয়ে আসে বিশ্ব ব্যাংক।
কিন্তু বনিবনা না হওয়ায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের বাস্তবায়ন বিলম্বিত হতে থাকে। ২০১০ সালের জুলাইয়ে সেতু নির্মাণের জন্য প্রাক-যোগ্যতা দরপত্র মূল্যায়ন করে পাঁচ দরদাতাকে বাছাই করে তা বিশ্ব ব্যাংকের অনাপত্তির জন্য পাঠানো হলেও সংস্থাটি তা ঝুলিয়ে রাখে।
এরপর পদ্মা সেতুতে ‘সম্ভাব্য’ দুর্নীতির’ অভিযোগ আনে বিশ্ব ব্যাংক। দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে বাংলাদেশ বিশ্ব ব্যাংককে ‘না’ বলে দেয়।
সেতুর মূল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে নতুনভাবে সেজেছে পদ্মাপাড়। সেতুর মূল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে নতুনভাবে সেজেছে পদ্মাপাড়। নদী শাসনের জন্য ব্লক তৈরির এলাকায় হাস্যোজ্জ্বল এক শ্রমিক। ছবি: আসাদুজ্জামান প্রামানিক নদী শাসনের জন্য ব্লক তৈরির এলাকায় হাস্যোজ্জ্বল এক শ্রমিক।
শেষ পর্যন্ত নকশা অপরিবর্তিত রেখে নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালের জুনে চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানিকে মূল সেতু নির্মাণের কাজ এবং সিনো হাইড্রো করপোরেশনকে নদী শাসনের কাজ দেওয়া হয়।
চুক্তি অনুযায়ী ১২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকায় ৪৮ মাসের মধ্যে চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানির কাজ শেষ করার কথা। সেই হিসাবে মূল সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে ২০১৮ সালের মে মাসে।
মূল সেতু নির্মাণ কাজ উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে পদ্মাপাড়ে সাজ সাজ রব পড়েছে।
শুক্রবার মাওয়া ও জাজিরায় গিয়ে দেখা যায়, পোস্টার ও ফেস্টুন টাঙানোর পাশাপাশি বাদ্য বাজনা ও মটরসাইকেল শোভাযাত্রাসহ স্লোগানে স্লোগানে সরগরম হয়ে উঠেছে হাট-বাজার আর পাড়া মহল্লা।
প্রধানমন্ত্রী সকালে জাজিরায় নদী শাসন কাজের উদ্বোধনের পাশাপাশি এক সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেবেন।
পরে মাওয়ায় পদ্মা সেতুর মূল নির্মাণ কাজের ভিত্তিফলক উম্মোচন করবেন তিনি।
সেতুর কাজের উদ্বোধনের পর বিকালে মাওয়া গোল চত্বরে প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ রয়েছে। এই সমাবেশে আড়াই লাখ লোক সমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সাংসদ সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি জানিয়েছেন।
সমাবেশ উপলক্ষে নির্মাণ করা হচ্ছে বিশাল মঞ্চ। মঞ্চ ঘিরে ব্যানার-ফেস্টুনে ছেঁয়ে গেছে গোটা এলাকা।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে মাওয়ায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার বিল্পব বিজয় তালুকদার জানিয়েছেন। পুরো এলাকার নিরাপত্তায় ১৬০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
