Sat. Jun 6th, 2026

4খোলা বাজার২৪, রবিবার, ৩ জানুয়ারি ২০১৬: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিক্ষাবৃত্তিকে ‘নিকৃষ্ট কাজ’ হিসেবে উল্লেখ করে ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজ সেবা অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি লক্ষ্য করেছি যে, ভিক্ষা করা কিছু লোকের পেশায় পরিণত হয়েছে। তাদের কিছু সর্দার রয়েছে এবং তারা ভিক্ষা থেকে অর্জন করা অর্থ ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়। আমরা তাদের পুনর্বাসন করার পরও তারা আবার পুরনো পেশায় ফিরে আসে। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার তাদের জীবিকা এবং বিনামূলে তাদের জন্য বাড়ি নির্মান করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় গ্রহন করবে। তাদেরকে এই ধরণের অনাকাঙ্খিত কাজ করতে দেয়া হবে না।
প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে এখানে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় সমাজ সেবা দিবস ও সমাজসেবা সপ্তাহ ২০১৬ উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজ সেবা অধিদপ্তর এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট প্রমোদ মানকিন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. মো. মোজাম্মেল হোসেন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক-উল-ইসলাম স্বাগত বক্তৃতা করেন। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ নূরুল কবির ধন্যবাদ জানান। ফুটপাতে ও রেলস্টেশনে যারা বসবাস করে ও ঘুমায়, তাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজ সেবা অধিদপ্তরকে নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি বলেন, আমরা খোঁজ নিব যে, তারা কোন গ্রাম থেকে এসেছে। তাদের যদি কোন ঘর-বাড়ি না থাকে তাহলে, আমরা তাদের জন্য বাড়ি তৈরী করবো।
প্রয়োজন হলে আমরা প্রথম ছয় মাস তাদেরকে বিনামূল্যে খাবার দেবো। তিনি বলেন, তারাও মানুষ। তাদেরও উন্নত জীবন যাপনের অধিকার রয়েছে। তারা কেন ফুটপাতে বা রেলস্টেশনে বসবাস করবে বা ঘুমাবে? তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্র এ বিষয়ে সকল দায়িত্ব নিবে। শেখ হাসিনা বলেন, বিভিন্ন মেয়াদে তাঁর সরকার অসচ্ছল, অক্ষম ও সুবিধা বঞ্চিত লোকদের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। তিনি বলেন, এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে অক্ষম লোকদের জন্য ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করে ৩৬০ কোটি টাকায় উন্নীত করা, আশ্রায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে এক লাখ লোকের পুনর্বাসন, ১ কোটি ২০ লাখ ভূমিহীন লোকের মধ্যে ৫৫ লাখ একর ভূমি বিতরণ এবং হিজড়া, দলিত ও বেদে সম্প্রদায়ের জন্য দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *