Tue. Jul 7th, 2026

খােলা বাজার২৪। শনিবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৭: ঘুম নিয়ে গবেষণা করা বিজ্ঞানীরা সতর্কতা জারি করে বলেছেন, ‘অধিক হারে ঘুমের অভাব মৃত্যু ডেকে আনে।’ গবেষক দলের প্রধান প্রফেসর ম্যাথু ওয়ালকার বলেন, ‘আমি ঘুমকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে থাকি কারণ আমি এই প্রমাণ প্রত্যক্ষ করেছি।’

গার্ডিয়ানের সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে ম্যাথু আরো বলেন, ‘ঘুমের অভাব মানুষের মারাত্মক রোগ সৃষ্টির কারণ। এটি আমাদের শারীরিক কার্যক্রমে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। কিন্তু কম ঘুমের সমস্যা বর্তমানে আধুনিক সমাজে গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে চাকরিজীবি এবং রাজনীতিবিদরা একে কখনোই গুরুত্বের সহকারে নেন না। তিনি আরো বলেন, অনেকের কাছেই রাতের বেলা তৃপ্তি সহকারে পর্যাপ্ত ঘুম অলসতার লক্ষণ।’

বৈদ্যুতিক আলো, টেলিভিশন এবং কম্পিউটার স্ক্রিন বর্তমানে মানুষের কম ঘুমের অন্যতম কারণ। এছাড়া অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন ঘুমের ক্ষতি করে। আর এই ঘুমের অভাবের কারণে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক, আলজেইমার, বিষণœতার মত ব্যাধির জন্ম নেয় এবং এটি মানসিক স্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

ম্যাথু বলেন, অনেকেই একরাতে ৪-৫ ঘন্টা ঘুমায় কিন্তু ৮ ঘন্টা ঘুমানোর সঙ্গে কোনভাবেই ছাড় দেয়া যাবে না। কারণ কম ঘুম ক্যান্সারের সেলকে আক্রমণ করার সুযোগ করে দেয়। অনেকেই বিনোদন বা পরিবারের জন্য সময় দিতে গিয়ে ঘুমের ক্ষেত্রে ছাড় দিয়ে থাকে। কিন্তু এটি আমাদেরকে একাকীত্ব, অবসাদের দিকে ঠেলে দেয়।

দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের খবরে বলা হয়, মার্গারেট থ্যাচার এবং রোনাল্ড রিগ্যান রাতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা ঘুমাতেন। দু’জনেই পরবর্তীকালে ডিমনেশিয়ায় ভুগেছিলেন।

প্রফেসর ওয়ালকার বলেন, মানুষই একমাত্র প্রাণী যারা কোন কারণ উপযুক্ত কারণ ছাড়াই ঘুম থেকে নিজদের বঞ্চিত করে থাকে। অথচ আমরা যখন ঘুমাই তখন আমাদের মস্তিস্ক খুবই সক্রিয় থাকে। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করার সেরা ঔষধ। তাই সুস্থ ও দীর্ঘজীবন লাভের জন্য ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *