Fri. Jun 5th, 2026

খােলা বাজার২৪। শনিবার, ০৩ মার্চ , ২০১৮: দক্ষিণাঞ্চলের লবনাক্ত পতিত জমিতে সবুজের সমারোহ দেখা যাচ্ছে। এতে এ অঞ্চলের কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। এক সময় যে জমিতে লবনের আবরন জেগে উঠতো সেই জমি এখন সবুজে ঘেরা। চারদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ।

বিএআরআই সরেজমিন গবেষনা বিভাগ, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও কৃষিতত্ত্ব বিভাগ যৌথ উদ্যোগে এ সফলতা পেয়েছে।

আমতলী কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, উপজেলায় ২ হাজার হেক্টর জমি লবনাক্ততার কারনে পতিত অবস্থায় পরে আছে। এক ফসলি হিসেবে শুধু আমনের চাষ করে কৃষকরা। রবি মৌসুমে লবনাক্ততার কারনে কোন রবি শস্য উৎপাদন হয় না। ফাল্গুন-চৈত্র মাসে জমিতে লবনের আবরন জেগে উঠে ।

লবনাক্ততার কারনে ফসল পুড়ে যেত বিধায় কৃষক ওই জমি চাষাবাদ করছে না । ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত এ জমির লবনাক্ততার মাত্রা ২-১০ ডিএস-মিটার বলে জানান সরেজমিন গবেষনা বিভাগ। ২০১৪ সালে বিএআরআই (বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট) পটুয়াখালী গবেষনা বিভাগ, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও কৃষিতত্ত্ব বিভাগ দক্ষিনাঞ্চলে লবনাক্ত পতিত জমিতে বারি উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শস্যের নিবিরতা বৃদ্ধির প্রকল্প হাতে নেয়।

উপজেলার বান্দ্রা বাজার সংলগ্ন সেকান্দারখালী গ্রামে ৩০ জন কৃষক নিয়ে একটি দল গঠন করে। ওই কৃষকদের উৎসাহিত করে চাষাবাদ শুরু করে সরেজমিন বিভাগ। বারি উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রথমে গবেষনামূলক ৫০ শতক জমি নিয়ে কাজ শুরু করে। তেমন সফলতা না পেলেও হাল ছাড়েনি। পরবর্তী বছরে ২০১৫ সালে .৭ হেক্টর, ২০১৬ সালে ১ হেক্টর, ২০১৭ সালে ১.৫ হেক্টর ও এ বছর ৩ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করেছে। দিন দিন এ প্রযুক্তির প্রসারতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকরা এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সফলতা পেয়েছে। কৃষকদের বীজ,সার, আগাছা নিরানো, সেচ, কীটনাশক ও জমি চাষাবাদে সকল প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে এ প্রকল্প।

এ বছর ওই তিন হেক্টর জমিতে পিটিওএস (বীজ বপন যন্ত্র) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বারি গম-২৫, বারি মুগ -৬, বারি ফেলন -১, বারি ভূট্রা-৯, লবনাক্ত ও তাপ সহিষ্ণু আলুর জাত বারি আলু-৭২,অল্প পানি ব্যবহারের জন্য (ড্রিপ পদ্ধতিতে ) বারি টমেটো -১৪ , আমন ধানের সাথে সাথি ফসল হিসেবে বারি ফেলন-১,সম্বনিত সার ব্যবস্থাপনায় বারি সূর্য্যমূখী-২ ও বারি সরিষা-১৪ জাতের বীজ বপন করেছে। এছাড়াও জমির আদ্রতা ধরে রাখার জন্য পলিথিন মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে টমেটো চাষ ও পুকুরের মিঠা পানির সাথে লবন পানি মিশ্রন করে সূর্য্যমূখী ও ভুট্রা চাষ করেছে এ সরেজমিন গবেষনা বিভাগ। সম্প্রতি সরেজমিন গবেষনা বিভাগের এ সফলতা দেখার একটি বৈজ্ঞানিক গবেষনা টিম সেকান্দারখালী গ্রাম পরিদর্শন আসেন।

ওই পরিদর্শক টিমে ছিলেন পরিচালক ড. মোঃ আমজাদ হোসেন,প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শহিদুল ইসলাম, মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.মো. আবদুল ওহাব, উপ-পরিচালক মো. শাইনুর আজম খাঁন, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাইন উদ্দিন, উর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলিমুর রহমান, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা গাজী নাজমুল হাসান ও কৃষি অফিসার এসএম বদরুল আলম।

কৃষক নাশির উদ্দিন জানান, গত পাঁচ বছর পূর্বে এ জমিতে লবনের কারনে কোন রবি শস্য হতো না। সরেজমিন গবেষনা দলের প্রযুক্তি ও পরামর্শে গত তিন বছর ধরে জমিতে রবি শস্য বপন করছি। ভালো ফলন পাচ্ছি। এ বছর ৯০ শতক জমিতে ভুট্টা, সূর্য্যমুখী, ফেলন ও মুগডাল চাষ করেছি।

কৃষক আলাউদ্দিন জানান, এ বছর ১২ একর জমিতে বারি উদ্ভাবিত প্রযুক্তিতে রবি ফসল চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। এক সময় এ জমিতে আমনের ধান চাষ ছাড়া কিছুই হতো না। এখন এ জমিতে রবি শস্য উৎপাদন হচ্ছে।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা গাজী নাজমুল হাসান বলেন, লবনাক্ত পতিত জমিতে বারি উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকরা সফলতা পেয়েছে। আশা করি দিন দিন এ সফলতা বৃদ্ধি পাবে।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলিমুর রহমান বলেন, ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত এ জমির লবনাক্ততার মাত্রা ২-১০ ডিএস-মিটার। এ মাত্রার লবনাক্ত জমিতে রবি মৌসুমে কোন ফসল ফলানো সম্বব নয়। প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ওই লবনাক্ত পতিত জমিতে রবি শস্য উৎপাদন হচ্ছে।

গাজীপুর সেচ ও সরবরাহ বিভাগের পরিচালক ড. মো. আমজাদ হোসেন বলেন, লবনাক্ত জমিতে প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকরা আয়ের পথ বৃদ্ধি করছে। এ প্রসারতা আরো দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও বলেন, এক সময় ওই এলাকার কৃষকরা এক ফসলের উপর নির্ভর করতো। এখন রবি শস্য উৎপাদন করে কৃষকরা স্বাবলম্বী হবে।