
খোলাবাজার অনলাইন ডেস্ক : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদ্য বিদায় নেয়া সভাপতি মোঃ আসাদুজ্জামান আসলাম শুধু একটি নাম নয়, এটি একটি ছাত্র রাজনীতির আদর্শের প্রতীক এবং একটি ইতিহাসও বটে।
তার ভিতরে যেন জাদু আছে, আছে সুন্দর একটা মুখের হাসি। যে হাসি দিয়ে জুনিয়রদের বুকে টেনে নেওয়ার মন মানসিকতা আছে।
আমি ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরে ভাইয়ের সাথে পরিচয়। তখন স্বৈরাচার আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় কিন্তু আসাদুজ্জামান আসলামের মতো সৎ, মেধাবী ও সাহসী জিয়ার সৈনিকদের স্বৈরাচার আওয়ামিলীগ রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে পারেনি। আমার মনে আছে প্রতিদিন আসাদুজ্জামান আসলাম ভাই আমাদের মতো সাধারণ ছাত্রদের জিয়াউর রহমানের আদর্শের কথা বলতেন, আমাদেরকে বেগম জিয়ার সৎ, সাহসী ও আপসহীন রাজনীতির গল্প শোনাতেন, তারেক রহমানের নিখুঁত বুদ্ধিদীপ্ত রাজনীতির কথা বলতেন, এভাবেই আমাদের ভিতর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল -বিএনপি’র প্রতি ভালোবাসা তৈরি করেছেন যা আজও আমাদের শক্তি ও সাহস জোগায়।
৫ই আগষ্ট পরবর্তী সময়ে যখন সমগ্র দেশের ক্যাম্পাস রাজনীতির প্রতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া ছিলো ঠিক তখনই আসাদুজ্জামান আসলাম তার মেধা,আদর্শ আর বিচক্ষণতা দিয়ে জয় করেছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর মন। কারো কাছে তিনি ছাত্র রাজনীতির আদর্শের উদাহরণ, কারো কাছে সততার উৎসাহ ,আবার কারো কারো কাছে প্রতিবাদী আন্দোলন সংগ্রামের অনুপ্রেরণা।
দীর্ঘ ত্যাগ ও সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে জীবনের সবটুকু উজাড় করে নিরলসভাবে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে গেছেন তিনি। তিন বেলা খাবারের জায়গায় এক বেলা খেয়ে দিনাতিপাত করেও কখনো রাজপথ ছেড়ে যাননি এই ছাত্রনেতা।বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সাথে সাথেই প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয়টা টিউশনি করাতেন।সারা দিন রাত রাজনৈতিক প্রোগ্রাম করে টিউশনি করানো সত্যিই অনেক ধৈর্যের বিষয়। এমনকি গনিত বিভাগের ছাত্র হয়েও আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দীর্ঘ অপশাসনের বিরুদ্ধে পুরো সময়জুড়েই তার সংগ্রামের রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস। আন্দোলন করতে গিয়ে তার পায়ের লিগামেন্টে সমস্যা দেখা দেয়, যে যন্ত্রণা আজও তিনি বয়ে বেড়াচ্ছেন।
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির পার্টি অফিসের সামনে নির্মম পুলিশি হামলার পর থেকে দেশে বিরোধী দল ও তাদের ছাত্রসংগঠনের উপর যে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ, তা আজও মনে পড়লে গা শিউরে ওঠে। ঠিক তখনই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো দেশের কোথাও কোনো কর্মসূচি করতে পারছিল না। কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল আসলাম-এর বলিষ্ঠ ও সৎ সাহসী নেতৃত্বে রাজপথের প্রতিটি কর্মসূচি পালন করে দেশব্যাপী আলোচনায় আসে। তার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের কারণেই এসব কর্মসূচি সফল করতে গ্রেফতারের ভয় উপেক্ষা করে নেতাকর্মীরা রাজপথে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতো।
তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ ও তারুণ্যের অহংকার জনাব তারেক রহমানের একজন নিবেদিত প্রাণ অনুসারী। স্কুল জীবন থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদের প্রতি গভীর অনুভূতি ও আগ্রহ ছিলো তাঁর। কলেজ জীবনের শুরুতেই “শিক্ষা ঐক্য প্রগতি ” শ্লোগান নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও কলেজ শাখার সাথে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন এবং ঐ কলেজের ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন।২০০৪-২০০৫ ইং শিক্ষাবর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ছাত্রদলের সাথে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কর্তৃক সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার অপপ্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রিয় সংগঠন ছাত্রদলের সাথে দুর্বার প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১/১১ অবৈধ সরকারের সময় অন্যায়ভাবে প্রিয় অভিভাবক জনাব তারেক রহমানের গ্রেফতারের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক মিছিলে অংশগ্রহণ করেন এই ছাত্রনেতা।
২৫ নভেম্বর ২০০৬ইং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের অতর্কিত হামলায় গুরুতর আহত হন।পরে এর প্রতিবাদে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে।এতে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০০৮ইং, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করে তিনি।যা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।২৯ ডিসেম্বর ২০০৮ইং, আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির প্রতিবাদে জেলা প্রশাসকের কাছে বিএনপি স্মারক লিপি প্রদান করতে গেলে তাতী বাজার মোড়ে দাঙ্গা পুলিশের হামলায় মাথায় প্রচন্ড আঘাত প্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল এ চিকিৎসাধীন ছিলেন। ১৪ জুলাই ২০১১ইং,বিএনপি কর্তৃক পালিত হরতাল কর্মসূচিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের কলাভবন থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।এই মিছিলে পুলিশ এবং ছাত্রলীগের যৌথ হামলায় তাঁর একটি পা ভেঙে যায়। ১০ এপ্রিল ২০১৪,বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কনফারেন্স রুমে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সভায় ছাত্রদলের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিতে গেলে ছাত্রলীগ ভিসি ভবনের সামনে বসে হামলা চালায় এতে তিনি আহত হন। উল্লেখ্য ওইদিন ক্যাম্পাসে শেখ মুজিবকে নিয়ে তারেক রহমানের ভাসনের প্রতিবাদে ছাত্রলীগের কর্মসূচি চলছিলো।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রতিটি সফল কর্মসূচি দেখে গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ বাহিনী আসলামকে হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে। কিন্তু আসলাম জানতেন, যদি তিনি গ্রেফতার হন তবে একদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল মনোবল হারাবে, অন্যদিকে দেশের মানুষ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে একজন সম্মুখসারির নেতৃত্ব হারাবে। তাই সিনিয়র নেতাদের পরামর্শে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নিজে ও তার সহকর্মীদের রক্ষা করার পাশাপাশি তিনি দৃঢ় সংকল্প করেছিলেন—যত বাধাই আসুক না কেন, কর্মসূচি অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।সর্বশেষ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনে আসলাম-এর নেতৃত্বে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হয়। ছাত্রজনতাকে ঢালাও গ্রেফতারের প্রতিবাদে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট আসলাম-এর নেতৃত্বে ঢাকার সিএমএম আদালতে ভাঙচুর চালায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল, যা দেশব্যাপী আন্দোলনের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা এনে দেয়। কতটুকু সৎ সাহস থাকলে ঢাকার সিএমএম আদালতে কার্যক্রম চলাকালীন অবৈধ গ্রেফতারের প্রতিবাদে ভাঙচুর চালানো যায়—তা দেখিয়ে দিয়েছেন আসলাম ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।
পুরো জুলাই আন্দোলনজুড়ে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনকে সফল করেছেন তিনি।আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে রাজপথে একাধিকবার গুলিবিদ্ধ হন এই নেতা। ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের হাত থেকে দেশের মানুষ মুক্তি পাওয়ার পর নতুন চ্যালেঞ্জ আসে আসাদুজ্জামান আসলাম-এর সামনে। কারণ তিনি ছিলেন ছাত্রদলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের সভাপতি। দেশে তখন কার্যকর প্রশাসন ছিল না। সেই সময়ে ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় জনগণের নিরাপত্তার জন্য নিজের নেতাকর্মীদের নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি।আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে কেউ যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে—সেজন্য তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাতভর পাহারা দেন পূজামণ্ডপগুলোতে। তার এ কর্মকাণ্ডের কারণে পুরান ঢাকার মানুষের কাছে, বিশেষ করে সনাতনী জনগোষ্ঠীর কাছে, তিনি পরিচিত মুখ ও স্নেহের পাত্র হয়ে ওঠেন।
এছাড়াও তিনি অসংখ্যবার আহত হন,গ্রেফতার হন।যেমন ২৫ জুলাই ২০১৩ইং, জনাব তারেক রহমানকে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।ঐ কর্মসূচীতেও পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার স্বীকার হন তিনি এবং তার সহযোদ্ধা বন্ধু নির্মমভাবে গুলিবিদ্ধ হন।ওই গুলিবিদ্ধের ঘটনায় আইনের অপব্যবহার করে প্রশাসনের দেউলিয়াত্বের প্রমান স্বরূপ উল্টো পুলিশ বাদী হয়ে আসাদুজ্জামান আসলাম সহ ১২ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়, যা ছিলো প্রশাসনের সবচেয়ে নিন্দনীয়,ন্যায়হীন নীতি বর্জিত ঘটনা।৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫ইং,সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী উত্তাল অবরোধ আন্দোলনে কর্মসূচী সফল করতে গিয়ে পুলিশ কর্তৃক আহত হন এবং তার সাথে থাকা সহযোদ্ধা ছোটোভাই,(২০১১-১২) ইং শিক্ষাবর্ষের মেধাবী ছাত্রনেতা নয়ন বাছার পুলিশের গুলিতে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ইং,দেশনেত্রী “বেগম খালেদা জিয়া” বকশিবাজার অস্থায়ী আদালতে হাজিরার সময় পুলিশের হামলায় আহত হন এবং ইটের আঘাতে তার একটি কানের পর্দা ফেটে যায়। তাছাড়া বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান করতে গিয়ে পুরনো পল্টনে প্রচণ্ড শীতের মধ্যে পুলিশের বেদম প্রহারে আহত হন তিনি।
এতোবার আহত হয়েও তিনি থেমে থাকেনি। আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে থেকেছেন সবসময়। ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী মিরপুরে বিএনপির একটা মিছিলে পুলিশের হামলায় আবারও আহত হন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় লেখক মুস্তাকের মৃত্যু এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিল সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২০২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী ঢাকা প্রেসক্লাবের সামনে কর্মসূচি দেন। ওই কর্মসূচিতেও পুলিশ হামলা চালায়। এই হামলার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে ছাত্রদল প্রথম বারের মতো পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ায় এবং বড় সহিংসতায় জড়িয়ে পরে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার এক সময় পুলিশ পিছু হাটতে বাধ্য হয়। ওই ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার একদম সম্মুখ সারিতেই দেখা যায় আসাদুজ্জামান আসলামকে। পুলিশের ওই হামলায় টিয়ারগ্যাস এবং লাঠিচার্জে প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে ঢাকা মেডিকেল এ চিকিৎসাধীন ছিলেন। ২০২৩ সালের ২৯ জুলাই শনিবার বিএনপির ডাকা অবস্থান কর্মসূচিতে অবৈধ পেটোয়া বাহিনী ও সন্ত্রাসী কর্মীবাহিনীর হামলায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। এছাড়াও ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশে পুলিশি নৃশংসতায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। এই রকম অসংখ্যবার তিনি হামলা মামলার স্বীকার হয়েও রাজপথে থেকে তিনি প্রমান করেছেন যে,তিনি রাজনীতির মাঠে কতোটা সক্রিয় ছিলেন।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তার ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডের জন্য খুব অল্প সময়েই তিনি সকল শিক্ষার্থীর হৃদয়ে জায়গা করে নেন। শিক্ষার্থীদের আস্থা ও ভরসার প্রতীকে পরিণত হন তিনি। ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সভাপতি পরিচয়ের চেয়ে তিনি হয়ে ওঠেন সবার বড় ভাই। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে যে রাজনীতি দেখতে চেয়েছিল, ঠিক সেই রাজনীতিই তিনি উপহার দিতে থাকেন।দিনভর নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে সন্ধ্যায় টিউশনিতে চলে যেতেন তিনি। এত বড় একটি ইউনিটের সভাপতি হয়েও টিউশনি করে চলার বিষয়টি অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সভাপতির পদ ছাড়ার পরও এখনো তিনি টিউশনি করে চলছেন।
যাই হোক, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ক্যাম্পাসের নেতাকর্মীদের মাঝে মতপার্থক্য দেখা দিলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট ছিল ব্যতিক্রম। তাদের একটি মাত্র লক্ষ্য ছিল—ছাত্রদলকে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করতে হবে। সিনিয়র নেতাদের মাঝে কিছুটা মতপার্থক্য থাকলেও তা কখনো প্রকাশ পায়নি। ফলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট দেশের অন্যতম শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে জায়গা করে নেয়। এর পুরো কৃতিত্ব দিতে হয় শাখা সভাপতি আসাদুজ্জামান আসলামকে। তার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব ও সকলকে ধারণ করার মানসিকতার কারণেই তা সম্ভব হয়েছিল।
আসাদুজ্জামান আসলাম, বরগুনা জেলার বেতাগী থানার বিবিচিনি গ্রামের একটি মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের একজন একনিষ্ঠ অনুসারী, তারা চার ভাই দুই বোন,তাদের সবার মধ্যেই জাতীয়তাবাদের প্রতি গভীর টান বিদ্যমান। তাঁর শিক্ষা জীবনটাও দুর্দান্ত। তিনি বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সুনামের সাথে এস.এস.সি এবং এইচ.এস.সি পাশ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গনিত বিভাগে ভর্তি হন।এখান থেকে বি.এস.সি(সম্মান) এবং এম.এস.সি( মাস্টার্স) শেষ করেন।পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ইএমবিএ ভর্তি হন।এই প্রোগ্রাম শেষে আবারও তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এলসিএস( LCS: Literature and Cultural Studies) -এ ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গনিত বিভাগের প্রোফেশনাল মাস্টার্সে অধ্যয়নরত আছেন।
ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিলকে ঘিরে সৃষ্ট সংকটে দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য পার্টি অফিসে দিনরাত নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে সুদৃঢ় অবস্থানে ছিলেন।এই সময় পার্টি অফিসকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের সঙ্কায় পার্টি অফিসের নিরাপত্তার জন্য সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে অনেক রাত নিদ্রাহীনও ছিলেন তিনি।দলীয় সকল কর্মসূচি এবং গনতান্ত্রিক যে কোন আন্দোলন সংগ্রামে তিনি ছিলেন আপোষহীন। তিনি সকল আন্দোলনে সেটা ক্যাম্পাস হোক আর বাহিরের রাজপথে হোক সকল ক্ষেত্রে আমাদের সাহস এবং উৎসাহ দিয়ে উজ্জীবিত করে রাখতেন।
তবে যে বিষয়টি আশ্চর্য হওয়ার মতো সেটি হলো আসাদুজ্জামান আসলাম শুধু রাজনৈতিক নেতাই নন,তিনি একজন কবি ও সাহিত্যিকও।উনি সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার জন্য দুর্দান্ত লিখেন।ইতিমধ্যেই ওনার”নয়নতারা-প্রেক্ষাপট-কল্পিত নয়-সংমিশ্রণ”শিরোনামে চারটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে,যা সত্যিই সর্বস্তরে প্রশংসনীয়। কাব্যগ্রন্থগুলোতে দেখেছি ওনি শিশুদের জন্য শিক্ষা মূলক অনেক ছড়া,শিক্ষা মূলক কবিতা,বিদ্রোহী কবিতা,ভালোবাসার কবিতা এবং সমাজের দীর্ঘদিনের যে অনিয়ম,অন্যায়,দুর্নীতি বিরাজ করছে সেগুলোকে প্রতিবাদী কবিতার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।
এর মধ্যে ইউনিট কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব দেওয়ার দাবি জানায় তারা, যা সাধারণত অন্য কোনো কমিটিতে দেখা যায় না। তাদের দাবির প্রেক্ষিতেই শাখা ছাত্রদলে আসে নতুন নেতৃত্ব। কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো—নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়ার পরও শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে আসাদুজ্জামান আসলাম যেভাবে জায়গা করে নিয়েছেন, তা হয়তো যুগের পর যুগ ধরে থাকবে।কমিটি থেকে বিদায় নেয়ার সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণমাধ্যমের নেতা-কর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী,কর্মকর্তা কর্মচারী সবাই এমন বিচক্ষণ নেতৃত্বের প্রতি সম্মান জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এমন সৎ এবং আদর্শের নেতৃত্বে খুশি হয়ে লিখেছিলেন—”প্রিয় আসাদুজ্জামান আসলাম আপনার মতো কর্মী ছাত্রদলের জন্য আশীর্বাদ। জীবনে অনেক ভালো কিছু করবেন আশা করছি এবং দোয়া করি। আপনার সততা, পরিচ্ছন্নতা, পরিশ্রম ও ধৈর্য আপনাকে অনেক দূর নিয়ে যাবে। জনগণের কথা হৃদয়ে বেঁধে নিবেন। জনতার নেতা হবেন ইনশাআল্লাহ। স্বল্প সময়ে অত্যন্ত বিচক্ষণ ও উত্তম ছাত্র নেতৃত্ব হিসেবে পেয়েছি। শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইলো আপনার জন্য”।
ইমরান মোল্লা
যুগ্ম আহ্বায়ক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।
