Sat. Jul 18th, 2026

মো: ফয়েজ উদ্দিন, নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের জেরে দীর্ঘ দিন যাবৎ নোয়াখালী জেলা কারাগারে আটক আছেন নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার ৯ নং মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ ছোটন। ৮ নং ওয়ার্ড এর তালুয়া চাঁদপুর গ্রামের বারিরহাট বাজারে খবর নিয়ে জানা যায়, ৯ নং মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের সাবেক বিএনপি সভাপতি জনাব মোসলেহ উদ্দিন ভুঁইয়া মালন এর নেতৃত্বে বাজারে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আদর্শ ক্লাবের কমিটি গঠন করেন। যেখানে খালেদ সাইফুল্লাহ ভূঁইয়া ছোটন কে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিএনপি সভাপতি জনাব মোসলেহ উদ্দিন ভুঁইয়া মালন এর স্বীদ্ধান্তকে অস্বীকার করে বাজারে অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করে প্রতিপক্ষ। গত ১১ জুলাই ২০২৫ ইং ক্লাবের নিয়মিত কার্যক্রম চালানোর জন্য ক্লাবের সদস্যগন ক্লাবে উপস্থিত হয়। ক্লাব খোলার জেরে ৮ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীর নেতৃত্বে পাশের ওয়ার্ড ও কেন্দুরবাগ থেকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করে লোকজন জড়ো করে বাজারে ক্লাবের কার্যক্রম বন্ধের জন্য মিছিল করে। মিছিল থেকে ক্লাবের সদস্যদের আওয়ামিলীগ বলে গালি দেওয়া হয়। মিছিলটি ক্লাবের সামনে আসলে মিছিলের মধ্য থেকে কিছু যুবক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ ক্লাবের ভিতরে ঢুকে ক্লাবের সদস্যদের গালাগালি করে বের করে দেওয়ার জন্য হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়, হাতাহাতি থেকে মারামারি। কয়েক মিনিটের মধ্যে দুই গ্রুপের শতশত লোক জড়ো হয়। সংঘর্ষ ব্যপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ক্লাবের এক সদস্যের লাঠির আঘাতে মিছিলে আগতদের একজনের মাথা ফেটে রক্ত বেরিয়ে যায়। স্থানীয় দোকানদার এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের চেষ্টায় সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আসে। সংঘর্ষের পরে ক্লাবের সদস্য সচিব এবং ৮নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ ভূঁইয়া ছোটন কে ঘটনাস্থলে আসার অনুরোধ করেন অন্যান্য সদস্যগণ। ছোটন এসে পরিস্থিতি দেখে সেনাবাহিনী খবর দেয়। পরে সেনাবাহিনী বারিরহাট বাজার ও আশেপাশের এলাকা টহল দেয়।
ঘটনার ৫ দিন পরে আদর্শ ক্লাবের সদস্য সচিব ও ৮ নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী বেগমগঞ্জ থানায় একটা এজাহার লেখায়। এজাহারের খবর পেয়ে ৮ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এর নেতৃত্বে পরের দিন বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এর মাধ্যমে ছোটন ও ক্লাবের সদস্যদের আওয়ামিলীগ ট্যাগ দিয়ে আরেকটা এজাহার লেখায়। অলৌকিক ভাবে এজাহারে অস্ত্র, বিস্ফোরক সহ অনেকগুলো ধারা যুক্ত করে যুবদলের ছোটনকে হুকুমের আসামি করে এবং আসামি গ্রেফতার করার জন্য তদন্তকারী অফিসারের উপর চাপ প্রয়োগ করে। দুদিন পরে পুলিশ ছোটনকে তার নিজের ঘরে গ্রেফতার করে। ছোটনের গ্রেফতারের পরে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা খালেদ সাইফুল্লাহ ভূঁইয়া ছোটন জেলা যুবদলের সভাপতি জনাব মন্জুরুল আজিম সুমনের অনুসারী হওয়ায় তাকে রাজনীতি থেকে সরানোর হীন চক্রান্ত হতে পারে। বেগমগঞ্জ উপজেলা রাজনীতি এখন দুভাগে বিভক্ত। এক পক্ষে সাবেক বানিজ্য উপদেষ্টা ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জনাব বরকত উল্লাহ বুলু আরেক পক্ষে জেলা যুবদলের সভাপতি এবং স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় জনাব মন্জুরুল আজিম সুমন।
গত পাঁচ মাসে ছোটনের পাঁচবার জামিন চাওয়া হয়েছিলো এবংকি বাদীর জবানবন্দি তে জামিনের কোনো আপত্তি না থাকা সত্বেও কোর্ট ছোটনের জামিন দেয়নি। আইনজীবীদের ধারণা মিথ্যা মামলা হলেও মামলায় আওয়ামিলীগ ট্যাগ থাকায় জামিন দিচ্ছেন না আদালত।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের জিজ্ঞেস করলে তারা মামলার বিষয় এড়িয়ে যায়। এদিকে ছোটনের বাড়িতে খবর নিয়ে দেখা যায় তার বাড়িতে বৃদ্ধ বিধবা মা, তার স্ত্রী, ৫ ও ৩ বছরের দুটি বাচ্চা। বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত ভাতায় তাদের সংসার চলছে।
এলাকাবাসী বলছেন মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা করে শেখ হাসিনা ১৫ বছর সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলো। বিএনপি গত এক বছরে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী আমল ছাড়িয়ে গেছে। দেশে কি কখনোই সুস্থ স্বাভাবিক রাজনীতি চর্চা হবেনা? থানায় খবর নিয়ে জানা যায় পাঁচ মাস যাবৎ এখনো কোনো চার্জশীট জমা দেননি তদন্তকারী কর্মকর্তা। চার্জশীট দিবে কিভাবে মামলার নথিভুক্ত এজাহারইতো মিথ্যা। জেল হাজতে থাকা খালেদ সাইফুল্লাহ ভূঁইয়া ছোটন কে আসামি করায় ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম নোয়াখালী জেলা থেকে একটি প্রত্যয়ন পত্র দেয়ার পাশাপাশি ভুয়া ও বিভ্রান্তমুলক মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।