Sat. Jul 18th, 2026
মো: রুহুল আমিন হাওলাদার, খুলনা ব্যুরো প্রধান: খুলনা ও মোংলা থেকে ফাইবারের তৈরি জালিবোট সহ সব ধরনের ছোট লঞ্চ বা নৌযান ধর্মঘটে থাকায়  সুন্দরবনের করমজলসহ স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতকারী পর্যটক পুরোপুরি শুন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সুন্দরবন মুখী পর্যটক এসে  প্রয়োজনীয় নৌযান না পাওয়ায়  হতাশ হয়েছেন,  খুলনা ও মোংলার বিভিন্ন হোটেল মোটেলে উঠেছেন,  আবার কেউ কেউ পোর্ট এলাকায় কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে  সাথী -সঙ্গীদের নিয়ে ফিরে গেছেন।
 ফাইবারের তৈরি ছোট ও মাঝারি সাইজের  স্পিডবোট রি -মডেলিং করে ছাদ দিয়ে সুন্দরবনগামী পর্যটক পরিবহন উপযোগী করে তোলা হয়। এই নৌযান গুলোকেই স্থানীয়ভাবে জালি বোট বলা হয় ।
খুলনা অঞ্চলের নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কথিত বিমাতা সুলভ আচরণের প্রতিবাদে এই ধর্মঘট বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
কম ক্ষমতা সম্পন্ন ইঞ্জিন দ্বারা পরিচালিত এইসব নৌযান গুলো এতোকাল সমস্ত বিধি-বিধানের বাইরে ছিলো। হঠাৎ করে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর রেজিস্ট্রেশন সহ  প্রচলিত আইন প্রয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করায়  –  বিপাকে পরে নৌযান মালিক ও শ্রমিক – কর্মচারীবৃন্দ।  সুন্দরবন এলাকায় অতি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া পর্যটকবাহী নৌযানে বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটায় নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর নড়ে- চড়ে বসে  এবং  আইন প্রয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করে। গত ৪ জানুয়ারি নিরাপত্তার স্বার্থে  তারা  প্রায় ৩০ টি নৌযানের ছাদের বর্ধিতাংশ কেটে ফেলে এবং ছাদে রক্ষিত সোফা সেট, চেয়ার, কার্পেট জব্দ করে বলে জানা যায়। তারই প্রেক্ষিতে  ৫ তারিখ থেকে নৌযান মালিক ও শ্রমিক পক্ষ ঐক্যবদ্ধ ভাবে ধর্মঘটের ডাক দেয়।
জালিবোট মালিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ আবু হানিফ জানান, বছরে মাত্র তিন/ চার মাস জালিবোট গুলো চলাচল করে,  বহু পরিবার এই আয়ের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু এখন রেজিস্ট্রেশন করতে গেলে প্রায় ৩০ হাজার টাকার অধিক খরচ হবে যা –  মালিকপক্ষের জন্য মরার উপর খাড়ার ঘা। মোংলা বন্দর যন্ত্র চালিত মাঝি- মাল্লা সংঘের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন,  নৌপরিবহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের হয়রানির প্রতিবাদে এই ধর্মঘট।
সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ইনচার্জ  মো: আজাদ কবীর বলেন,  সোমবার সকাল থেকে পর্যটন কেন্দ্রে কোন নৌযান আসেনি এবং কোন পর্যটকও নামেননি। ফলে সুন্দরবনের সকল দর্শনীয় স্পটগুলো প্রায় পর্যটক শূন্য হয়ে গেছে।
নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো: রাশেদুল আলম বলেন, কোন হয়রানী নয়-পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং নৌযান গুলোর স্থিতিশীলতার স্বার্থে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের  নির্দেশে  উপরোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।