
অস্ত্রের গোপন চেইন: ইকবাল-নিখিল লিংক প্রশ্নের মুখে
জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত গ্রুপেকে ইকবাল হোসেন এর অস্ত্র পৌঁছানোর অভিযোগ
অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে, প্রশাসন নিরব-কার স্বার্থে?
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে যেভাবে আগ্নেয়াস্ত্র ও ককটেল ব্যবহৃত হয়েছে, তা আজও দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ভয়ংকর অধ্যায় হয়ে আছে। কিন্তু সেই অস্ত্রের উৎস, সরবরাহকারী ও নেপথ্যের মদদদাতাদের বিষয়ে দেড় বছর পার হলেও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দৃশ্যমান কোনো জবাব নেই।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইকবাল হোসেন ও যুবলীগের সভাপতি নিখিল-যাঁদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার একটি চেইন পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে ইকবাল হোসেনের নামে।
অভিযোগের মূল দাবি, আন্দোলন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী ইকবাল হোসেন অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহ ও সরবরাহের সমন্বয়ে যুক্ত ছিল। ইকবাল হোসেন অস্ত্র সরবরাহ করত যুবলীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ চ্যানেল হিসেবে নিখিলের নাম উঠে আসে।
অভিযোগ রয়েছে, নিখিলের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে অস্ত্রগুলো নির্দিষ্ট গ্রুপের কাছে পৌঁছেদিত ইকবাল হোসেন। যদিও অভিযোগ এখনো আদালত বা রাষ্ট্রীয় তদন্তে প্রমাণিত নয়, তবুও প্রশ্ন উঠছে-এত বড় অভিযোগের পরও তদন্তের অগ্রগতি কোথায়?
আন্দোলনের সময় একাধিক স্থানে ছাত্রদের ওপর গুলিবর্ষণ, ককটেল বিস্ফোরণ ও সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হামলাকারীদের হাতে ছিল এমন যা ইকবাল হোসেনে সাথে থাকা ছবির ব্যাক্তির হাতে রয়েছে। এই অস্ত্রই হঠাৎ করে যুবলীগের শীর্ষ নেতৃত্বের ও জেলা-স্থানীয় পর্যায়ে দেখা যায়!
এই বাস্তবতা থেকেই প্রশ্ন উঠছে-অস্ত্র এল কোথা থেকে? কারা সরবরাহ করল? কারা রাজনৈতিক ছাতা দিল? প্রশাসনের নীরবতা আরও সন্দেহ বাড়াচ্ছে!
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ইকবাল হোসেন এখনো প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে, আর নিখিলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য নেই। এবিষয়ে না কোনো মামলা, না কোনো জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য, না কোনো তদন্ত রিপোর্ট জনসম্মুখে।
এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা জোরালো হচ্ছে-রাজনৈতিক প্রভাবই কি আইনের পথে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে? রাজনৈতিক পরিচয় কি ঢাল হয়ে উঠেছে?
নাগরিক সমাজের প্রশ্ন-যদি সাধারণ কেউ হতো, তাহলে কি এতদিনে গ্রেপ্তার হতো না? রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেই কি অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগেও দায়মুক্তি পাওয়া যায়?
একজন ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক বলেন, “অস্ত্র যারা চালিয়েছে, তারা যেমন দায়ী-অস্ত্র যারা জুগিয়েছে, তারা তার চেয়েও বড় অপরাধী।”
আইনের শাসন বনাম বিচারহীনতা! আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিযোগ সত্য হলে এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। অভিযোগ মিথ্যা হলে দ্রুত তদন্ত করে তা পরিষ্কার করাও প্রশাসনের দায়িত্ব। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ না নেওয়াই সবচেয়ে বিপজ্জনক বার্তা দিচ্ছে।
ইকবাল হোসেন ও যুবলীগের সভাপতি নিখিলের লিংক কি তদন্ত হবে? অস্ত্র সরবরাহের চেইন কি প্রকাশ পাবে? নাকি জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের রক্ত ঝরা অধ্যায় বিচারহীনতার ফাইলে চাপা পড়বে? দেশবাসী এখন আর আশ্বাস নয়-নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকাশ্য জবাব এবং আইনের প্রয়োগ দেখতে চায়।
